ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে বৌদ্ধ শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ

আপডেট : 2019-02-07 10:54:14
বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে বৌদ্ধ শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের ৪০ বৌদ্ধ শরণার্থী অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গে‌ছে। বুধবার বিকা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে।

এর আগে ১৬৩টি প‌রিবার বাংলা‌দেশ সীমা‌ন্তের চাইক্ষাং পাড়ায় অবস্থান নেয়। বুধবার হেলিকপ্টারে করে এসব সদস্য‌দের রুমার রেমাক্রী প্রাংসা ইউ‌নিয়‌নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নতুন ক‌রে এ ৪০ জনের প্র‌বে‌শের পর শরণার্থীর সংখ্যা দাড়ালো ২০৩ জনে। বর্তমা‌নে এসব শরণার্থীরা চাইক্ষ্যং পাড়ার কা‌ছে সীমান্ত এলাকায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টেনে তাঁবুর মতো করে বসবাস করছে।

রেমাক্রী প্রাংসা ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম এ তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ বলেন, আশপাশের পাড়াগুলো থেকে খাবার দিয়ে এলাকাবাসী সহায়তা করলেও তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে‌ছে।

এদিকে সীমান্তে শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্য‌বেক্ষণ কর‌তে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি পর্যক্ষেণ টিম পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। শরণার্থীদের মনোভাব জানার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গে‌ছে, গত শনিবার মিয়ানমারের চীন রাজ্য থেকে ১৬৩ জন বৌদ্ধ শরণার্থী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান নেয়। এরপর তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বুধবার আরও ৪০ জন সেখানে জড়ো হয়।

ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এর পর থেকে আতঙ্কে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইনসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সীমান্ত পথে বান্দরবান দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

এরমধ্যেই মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এজন্য সীমান্তে বাড়তি সর্তকতা নিয়েছে বিজিবি।

বিজনেস আওয়ার/০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: