ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘রেড’ জোনে শেয়ারবাজারের ৯ লিজিং কোম্পানি

আপডেট : 2019-02-14 11:36:39
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘রেড’ জোনে শেয়ারবাজারের ৯ লিজিং কোম্পানি

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৯ লিজিং কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘রেড’ জোন অর্থাৎ নাজুক পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। চাপ সহনশীল (স্ট্রেস টেস্টিং) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জোনে ফেলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘রেড’ জোনে থাকা তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলো হচ্ছে- পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল এবং বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

‘রেড’ জোনে ফেলার আগে লিজিং কোম্পানিগুলোর অবস্থা জানার জন্য কয়েকটি সূচকের ওপর বিশেষ পদ্ধতিতে নিরীক্ষা চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি, ঋণঝুঁকি, সম্পত্তির (ইকুইটি) মূল্যজনিত ঝুঁকি ও তারল্য অভিঘাত- এ চার ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া হয়। নিরীক্ষার ভিত্তিতে লিজিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। ভালোগুলোকে ‘গ্রিন’ জোন, ভালোর চেয়ে একটু খারাপ অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ইয়েলো’ জোন এবং চরম খারাপ অবস্থায় থাকাগুলোকে ‘রেড’ জোনে ভাগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশে বর্তমানে, দেশে ৩৪টি লিজিং কোম্পানি রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানির সংখ্যা ২৩টি। আর এই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯টি রয়েছে উচ্চ ঝুকিতে বা ‘রেড’ জোনে।

জানা গেছে, ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে দুরাবস্থায় রয়েছে ‘রেড’ জোনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। ঋণ বিতরণে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না এসব প্রতিষ্ঠান। অনেকে আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ করেছে বেশি। ক্যাশ ফ্লো বা পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। ফলে আমানতের টাকা সময়মতো গ্রাহককে ফেরতও দিতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

‘রেড’ জোনে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবিড়ভাবে তদারকি করেছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত খেলাপি ঋণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে লিজিং কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। তিন মাসে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বেড়ে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ হয় ৫ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। যা ৩০ জুনে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকায়, ৩০ সেপ্টেম্বর ওঠে ৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকায়। যা এ খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। তিন মাস আগে জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিজনেস আওয়ার/১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/আরএ

পাঠকের মতামত: