ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যান বসছে কাল

আপডেট : 2019-02-19 12:36:18
পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যান বসছে কাল

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : কেটে গেছে নকশা জটিলতা, শুকনো মৌসুম বলে প্রমত্তা পদ্মায় নেই তীব্র স্রোতের দাপট। সময়টা অনুকূলে, আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে নদী জুড়ে এখন চলছে কাজ। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাজিরা প্রান্তে বসছে পদ্মা সেতুর সপ্তম স্প্যান।

এ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান হবে।। ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের মধ্যে বসবে এ স্প্যান। আজ মঙ্গলবার সকালে নদীর মাওয়া প্রান্ত থেকে এ দুটি পিলারের দিকে রওয়ানা হয়েছে স্প্যানবাহী ক্রেনটি।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতু দৃশ্যমান করার কাজ শুরু হয়। গত বছরের জুনে ৫ম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৬ পিলারের একটি মডিউলের কাজ। তার পাশেই নতুন মডিউলের প্রথম আর জাজিরা প্রান্তে ৬ষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয় গত মাসের ২৩ তারিখ।

মঙ্গলবার সকাল ৭টায় শুরু হয় মাওয়া ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নির্ধারিত ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজ। প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের এ পিলারের কাছে নিয়ে যেতে পুরো একদিন সময় লাগে।

তবে এবার স্প্যানবাহী ৩৬শ' মেট্রিক টন ওজন বহনে সক্ষম ক্রেনটি মাওয়া থেকে শুরুতে সর্বোচ্চ গতিবেগে নিয়ে যাওয়া হবে চাঁদপুরে দিকে ভাটিতে। এখন নদীতে স্রোত কম থাকায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোতের বিপরীতে ক্রেনটি কতটা কাজ করতে সক্ষম হবে, সেটি পরীক্ষা করতেই এটিকে ভাটির দিকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে নির্ধারিত পিলারের কাছে নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মাওয়া থেকে স্প্যানটি ৩ হাজার ৬০০ ট‌ন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেনে তুলে জাজিরা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামীকাল (বুধবার) সকালে পিলারের ওপর এটি তোলা হবে।

নদীর জাজিরা প্রান্তে আগের ৩৬ নম্বর পিলার থেকে এগিয়ে মাওয়া প্রান্তের দিকে ৩৫ নম্বর পিলারের মধ্যে যোগ হবে নতুন স্প্যানটি। এছাড়া ৩৪ নম্বর পিলারও শতভাগ প্রস্তুত করে তোলায় কিছুদিনের মধ্যে আরও একটি স্প্যান বসানো সম্ভব হবে।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিজনেস আওয়ার/১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: