ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

'ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি ২ পক্ষেরই অংশীদারিত্ব জরুরী'

আপডেট : 2019-02-20 17:22:21
'ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি ২ পক্ষেরই অংশীদারিত্ব জরুরী'

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝতে এবং এর সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রাইভেট সেক্টর এবং স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর। এছড়া বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে
অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়সমূহ নির্ণয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষের অংশীদারিত্ব জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ডিসিসিআই'র নিজস্ব ভবনে সংগঠনটির বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ, অবোকাঠামোগত উন্নয়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, কর ও ভ্যাটের কাঠামোগত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্ততি ও গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

ওসামা তাসীর বলেন, বর্তমানে পৃথিবীরশিল্পোন্নয়নে দেশসমূহ বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি আদর্শ স্থান হিসাবে বিবেচনা করছে। বিশেষত চীন, কোরিয়া ও জাপান তাদের খড়ি ঊহফ শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরের জন্য আগ্রহী। এ লক্ষে ডিসিসিআই নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন এবং বিদেশী চেম্বারসমূহের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখছে।

প্রগ্রেসিভ হারে কর্পোরেট কর হার সকল স্তর থেকে আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫%, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭% ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০% হারে হ্রাস করা উচিত বলে জানিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট করহার সবচেয়ে বেশি। এটি কমাতে হবে। এই হ্রাসকৃত অর্থ দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংকিং খাতে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এই খেলাপি ঋণের কারণে ঋণগ্রহীতাদের এক শতাংশ বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। তাই সুদহার কমাতে হলে নন পারফরমিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য ৬টি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার নামিয়ে আনা, বাণিজ্য খাতে ঋণ সমন্বয় করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বাড়াতে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা, স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন, বড় ঋণ পর্যবেক্ষণ করা, খেলাপি ঋণ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শিল্পখাতের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন বা সংস্কারকাজ সমন্বয় সেলের (আরসিসি) গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি আরসিসি একটি শিল্প সুরক্ষা ইউনিট হিসেবে গার্মেন্টস শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রেখে রপ্তানী বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আমরা সরকারের কাছে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত ব্যয় ও পণ্যের 'ভ্যালু এডিশন' বা মূল্য সংযোজন কে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করার প্রস্তাব করছি। এ ধরনের প্রণোদনা মালিকদের কারখানার কর্মপরিবেশউন্নয়নে ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরনে উৎসাহিত করবে।

অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট চালু করা দরকার জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে বন্ড মার্কেটের সম্ভাবনা বিষয়ে আমরা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় আগামী এপ্রিল ২০১৯ এ দিনব্যাপী একটি সম্মেলনের আয়োজন করবো। এর মধ্য দিয়ে বন্ড মার্কেটউন্নয়নে সুপারিশ ও সহায়ক নীতিমালা প্রস্তাব করা হবে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি ওসামা তাসীর ছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ ও পর্ষদের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস আওয়ার/২০ ফেব্রুয়ারি,২০১৯/ আরআই

পাঠকের মতামত: