ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

শান্তির নিদর্শন হিসেবে পাকিস্তানকে কফিনবন্দি মরদেহ পাঠাল ভারত

আপডেট : 2019-03-03 17:20:27
শান্তির নিদর্শন হিসেবে পাকিস্তানকে কফিনবন্দি মরদেহ পাঠাল ভারত

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : বিমান ভূপাতিত করার পর প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘোষণা অনুযায়ী ‘শান্তির নিদর্শন’ হিসেবে আটক ভারতীয় পাইলট আভিনন্দনকে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান। শুক্রবার অভিনন্দন দেশে ফেরার একদিনের মাথায় কারাগারে নিহত এক পাকিস্তানির কফিনবন্দি মরদেহ পাঠিয়েছে ভারত।

পুলওয়ামা হামলার পর ভারতে পাকিস্তান বিরোধী যে ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তাতে ভারতের রাজস্থান প্রদেশের জয়পুরের একটি কারাগারে এক পাকিস্তানি বন্দি মারা যান। মূলত অন্য ভারতীয় বন্দিদের পাথরের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সেই নিহত পাক বন্দির কফিন পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত।

রাজস্থানের জয়পুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শাকির উল্লাহ নামে পাকিস্তানি ওই বন্দিকে পিটিয়ে হত্যা করে অন্য বন্দিরা। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জেরে ভারত জুড়ে পাকিস্তান বিরোধী ক্ষোভের ফল এই হত্যাকাণ্ড বলে সে সময় জানায় রাজস্থান পুলিশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের পতাকা সংবলিত একটি কফিন ফেরত পাঠায়। সেই কফিনে ছিল রাজস্থানে ভারতীয় বন্দিদের হাতে নিহত শাকির উল্লাহর মরদেহ। পাঞ্জাবের ওয়াগাহ সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তার কফিনটি পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করে।

পাক-ভারত হামলা ও পাল্টা বিমান হামলার মুখে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আটক হন পাইলট অভিনন্দন। তাকে ফেরত দেয়ায় ভারতের নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন অনেকটা অবাক হয়। দুই দেশের সীমানা নির্ধারণকারী নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) অতিক্রম করলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত হয় ভারতের মিগ-২১ যুদ্ধবিমান।

পাকিস্তানি বন্দি নিহত হওয়ার পর রাজস্থান পুলিশের কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি-কারা) রুপিন্দর সিং কারাগারের অভ্যন্তরে শাকির উল্লাহর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। ২০১৭ সাল থেকে জয়পুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। ভারতে অনুপ্রবেশ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায় ঘটনার দিন সকালে পাকিস্তানি ওই বন্দির ওপর চড়াও হন অন্য বন্দিরা। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি তাকে মারধর শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অন্য বন্দিরাও। বাঁশ আর লাঠি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি পাকিস্তানি ওই বন্দিকে লক্ষ্য করে পাথর আর ইট-পাটকেল ছোড়েন অন্য বন্দিরা। ঘটনাস্থলেই এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা উদ্ধত বন্দিদের হাত থেকে শাকির উল্লাহকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলার শিকার ওই বন্দিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরাও জানান, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শাকির উল্লাহর।

বিজনেস আওয়ার/০৩ মার্চ, ২০১৯/আরএইচ

পাঠকের মতামত: