ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৮ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কিম জং উন

আপডেট : 2019-03-11 10:32:48
ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কিম জং উন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ায় সাধারণ নির্বাচনে শতভাগ ভোট পেয়ে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন। এবারের এই নির্বাচন কিম জং উনের শাসনমলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে সব আসনেই প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ছিল একজন। বিগত নির্বাচনগুলোতেও প্রতি আসনে ১ জনই প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

বিবিসি'র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটির সংসদ 'সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি'র (এসপিএ) এই নির্বাচনে প্রার্থী মোট ৭০০ জন হলেও প্রতিটি আসনেই প্রার্থী মাত্র ১জন। কোনও আসনেই বিকল্প কোন প্রার্থী নেই। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার ভোটারদের কোন সিল কিংবা ব্যালট পেপার পূরণ করা লাগেনা। ভোটের দিন ভোটারদের শুধু প্রতিটি আসনের জন্য নির্ধারিত প্রার্থীর নাম লেখা ব্যালট পেপার ব্যালট বাক্সে ফেলে দিয়ে হয়।

দেশটির নির্বাচনে ভোটারদের ব্যালট পূরণ করতে হয় সবার সামনে। আড়ালে গিয়ে ভোট দেওয়া এবং নির্ধারিত প্রার্থীদের নাম কেটে দেওয়ার বিধান থাকলেও কোন ভোটার এই পদ্ধতি অবলম্বন করলেও তার উপর শুরু হয় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দাবাহিনীর নজরদারি। উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে যেসব ভোটার এই নিয়মের ব্যতিক্রম করেছেন তাদেরকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল দেশটির সরকার।

ভোট দেওয়াই শেষ নয়। ভোটকেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসতে হয় ভোটারদের, যাতে প্রকাশ পায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় থাকা উত্তর কোরিয়ার ‘জ্ঞানী নেতৃত্বকে’ ভোট দিতে পেরে আনন্দ অনুভূত হচ্ছে! এনকে নিউজ নামের উত্তর কোরিয়ার ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটের সঙ্গে জড়িত মিনইয়ং লি। এই উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, ‘দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে ভোটের দিনটিকে খুবই উৎসবমুখর একটি দিন হিসেবে প্রচার করা হয়। সামনে আনা হয় ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের খুশি প্রকাশ করার তথ্য।’

পাঁচ বছর পর পর উত্তর কোরিয়ার এসপিএ নির্বাচনে ৭০০ জন প্রার্থী ‘জনগণের ভালোবাসায়’ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রতিবারই দেশটির নির্বাচনে বর্তমান শাসক পরিবার শতভাগ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে থাকে। যে সংসদ নিয়ে এই ভোটের আয়োজন, তাকে বিবিসি ‘রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়েছে। কার্যত এর কোনও ক্ষমতাই নেই। আইন যা করার দলের ইচ্ছেনুযায়ীই তা তৈরি হয়। পরে সংসদে পাস করানোর আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। টেরটিটস্কি মন্তব্য করেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলে থাকে, উত্তর কোরিয়া সংসদের ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু তা সত্য নয়। আসলে সংসদ পুরোপুরি ক্ষমতাশূন্য।’

বিজনেস আওয়ার/১১ মার্চ, ২০১৯/এমএএস

পাঠকের মতামত: