ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » বিনোদন » বিস্তারিত


eid-ul-fitor-businesshour24

ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ঢাকাই ছবিতে নায়িকার কৃত্রিম সংকট

আপডেট : 2019-03-14 14:21:24
ঢাকাই ছবিতে নায়িকার কৃত্রিম সংকট

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি বহুল প্রচলিত শব্দ 'শিল্পী সংকট'। এ সংকটের মধ্যে নায়িকার বিষয়টি আরও বেশি ভয়াবহ। কারণ নায়কদের মধ্যে শাকিব খান ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরলেও নায়িকাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ওপর ভরসা করে পথ চলতে পারেন নির্মাতারা?

সত্যিই কী কেউ নেই? নাকি নির্মাতারা তাদের মেধার দৈন্যতার বিষয়টি ঢাকতেই নায়িকাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন? বাস্তবতা হচ্ছে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এ মুহূর্তে নায়িকারূপী বহু অযাচিত মেয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ নায়িকাও রয়েছেন।

যারা একসময় পর্দা কাঁপিয়েছেন। এখনও তারা ফুরিয়ে যাননি। শুধু সময় উপযোগী করে তাদের উপস্থাপন করাটা জরুরি। সেজন্য দরকার মেধাবী নির্মাতা ও শিল্পবান্ধব প্রযোজক। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কাউকে কোণঠাসা করে রাখার মধ্যেও কোনো কৃতিত্ব নেই।

বিশ্ব সিনেমা যেখানে এক পায়ে এক্কা দোক্কা খেলছে, সেখানে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি দু'পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দৃশ্যটি একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের। গত পাঁচ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে পতনের ধ্বনি ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে।

হিংসা, বিদ্বেষ, নিষিদ্ধকরণ, অন্ধকার রাজনীতি- সবকিছুই কেউ না কেউ প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু বিষয় আবার দলবদ্ধভাবে করছেন। বলা হয়েছিল সবকিছুই সিনেমার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু ফলাফল, শূন্য।

সাময়িক বিজয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা লোকগুলো পথ শেষে দেখল, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কৃষ্ণ গহ্বর। সামনে এগিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথই খোলা রাখেননি তারা। এরপর দল ছেড়ে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছেন।

অথচ গত দু'বছরে আন্দোলন, সংগ্রাম, নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ খেলার পেছনে যারা দায়ী তারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন কিংবা ছবি নির্মাণ বাড়ানোর জন্য একটি উদ্যোগও গ্রহণ করতে পারেননি। বরং অন্যদের কাজ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে দলগতভাবে ছিলেন তৎপর।

ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হলেও দলের কেউ কেউ দিন শেষে বুঝতে পেরেছেন, তিনি আসলে ‘ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো’। সমস্যা কিন্তু রয়েই গেছে। শুধু তাই নয়, সেটা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বছর শেষে ছবি নির্মাণের হার কমেছে।

গেল আড়াই মাসে সফলতার তালিকায় যুক্ত হতে পারেনি কোনো ছবি। কিন্তু কেন? প্রশ্ন থেকেই যায়। উত্তর সবার জানা। অথচ, সেই উত্তরের পাশ দিয়েও কেউ হাঁটবে না। কারণ তাদের মেধার ঘাটতি প্রচুর।

এ মেধার ঘাটতিটা আমরা নায়িকা সংকট দিয়েই পরিপূর্ণ উদাহরণ দিতে পারি। যেমন, নায়কদের ক্ষেত্রে একমাত্র শাকিব খান ছাড়া আর কারও ছবি চলে না বলে একটি কথা এ মুহূর্তে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত আছে।

কথাটি খানিক সত্যিও বটে। তবে এ কথার দ্বিমত করা যায় অন্যভাবে। শাকিব খানের সব ছবিও এক রকম ব্যবসা করে না। কোনোটা বেশি, কোনোটা কম। ভালো মানের নির্মিত ছবিগুলো ভালো ব্যবসা করে।

এ ক্ষেত্রে কলকাতার নির্মাতাদের তৈরি ছবিগুলোই ‘ভালো মান’ শব্দটি দখল করে আছে। বাকি থাকে দেশি নির্মাতা। এই দেশি নির্মাতাদের নিয়েই যত ভাবনা ও মানের প্রশ্ন।

নায়ক হিসেবে অন্যদের ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন না বলেই শাকিব খানের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিকে। নিজেদের মেধার ঘাটতিটা তারা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে চলার পথ পরিষ্কার রাখতে চাইছেন।

কিন্তু নায়িকা? নায়ক হিসেবে শাকিব খানের মতো তো ইন্ডাস্ট্রি টেনে নেয়ার মতো কোনো নায়িকার নাম কিন্তু আলাদাভাবে উচ্চারণ হয় না। তাহলে নায়িকা সংকট কেন বলা হয়? কিংবা অমুক নায়িকার ছবি চলে না, অমুক নায়িকার বয়স বেশি- এসব অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা হয়?

আসলে নির্মাতারা তাদের মেধার দৈন্যতার অনেকাংশ শিল্পীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চান। এটা ঠিক যে, সব নায়িকার অভিনয় দক্ষতা এক নয়, কিংবা সবার ওপর সমানভাবে ভরসাও করা যায় না। কিন্তু দক্ষ এবং পরীক্ষিত নায়িকার সংখ্যাও কিন্তু ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কম নয়।

তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না বলেই নায়িকা সংকটের দোহাই দিয়ে অযোগ্য, অদক্ষ ও অপেশাদার কিছু চালচুলোহীন মেয়েকে নায়িকারূপে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন ইন্ডাস্ট্রির কতিপয় নির্মাতা।

যারা নায়িকা তকমা গায়ে জড়িয়েই নেমে পড়ছেন শরীর বাণিজ্যে! এর জন্য কিছু প্রযোজকরূপী আলু-পটোল ব্যবসায়ীও দায়ী। তাদের প্রমোদকন্যাদের শয্যাসঙ্গী বানানোর প্রথম শর্তই থাকে নায়িকা বানাতে হবে।

এসব মেয়েদের নায়িকা বানাতে গিয়ে কলুষিত করা হচ্ছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে। আর এর জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী কতিপয় নির্মাতা। যারা সিনেমাকে শিল্প নয়, সিনেমার আঁতুড়ঘর এফডিসিকে ‘ফুর্তির আঁতুড়ঘর’ হিসেবে ব্যবহার করতেই ব্যস্ত।

নায়িকা সংকট বিষয়টি কাল্পনিক। এ মুহূর্তে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন অনেক দক্ষ নায়িকা। যাদের অনেকেই এক সময় সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। তাদের নামের দর্শক ছুটে আসতেন সিনেমাহলে।

এদের মধ্যে অনেকেই এখনও কাজ করার সক্ষমতা রাখেন। নিজেদের প্রস্তুতও রেখেছেন। প্রয়োজন শুধু তাদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করা। সেজন্য দরকার মেধাবী নির্মাতা, যারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটতে পারবেন।

পুরনোদের ছবি দর্শক দেখে না, এসব বলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইলে হবে না। নির্মাতাদের নিজেদেরও আধুনিক করে তুলতে হবে। তাহলে শুধু ইন্ডাস্ট্রিই নয়, নিজেরাও খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবেন।

শুধু নায়িকাই নয়, ঢাকাই সিনেমায় শিল্পী সংকট পুরো বিষয়টিই বাহাস। শিল্পী নয়, সংকট মেধার, মানসিকতার, সহিষ্ণুতার। যতদিন এসব কিছুর উন্নয়ন না হবে, ততদিন এ সংকটের আবর্তেই ঘুরপাক খাবে ঢাকাই ফিল্ম।

নায়িকা সংকট বলতে আমি মনে করি, ব্যবসা সফল ছবি উপহার দেয়ার মতো নায়িকার অভাব রয়েছে। তবে এর জন্য নির্মাতাদের দায়ও রয়েছে। অর্থ লগ্নিকারীর অভাবও রয়েছে এ ক্ষেত্রে। নায়িকা হবে সে, যার অভিনয়ের মাধ্যমে গোটা চলচ্চিত্রের উপকার হবে।

এ ব্যাপারে চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, চিত্রনায়িকা নায়িকা সংকট এটা আমি বিশ্বাস করি না। যারা এ কথা বলেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, নায়িকা সংকট বলতে তারা কী বোঝাতে চান? দুই দশকেরও বেশি সময় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। আমি মনে করি নায়িকা সংকট নয় বরং দক্ষ পরিচালকের সংকট রয়েছে।

চিত্রনায়িকা পপি বলেন, ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়িকা সংকট রয়েছে। তবে বিষয়টি একটু বুঝতে হবে কোন অর্থে নায়িকা সংকট। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন থিমের ছবিতে চরিত্রানুযায়ী অভিনয় করা নায়িকার সংকট রয়েছে। নতুন, পুরনো সবাইকে বয়স, মেধা এবং দক্ষতা হিসেবে করে কাজে লাগাতে হবে।

চিত্রনায়িকা পুর্নিমা বলেন, নায়িকা সংকট এ কথা যারা বলেন তারা কেন বা কোন অর্থে বলেন আমার জানা নেই। ঢাকাই ছবির নায়িকারাই পাশের দেশের বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করছেন। এরা যদি বাদ হয়ে যেত তাহলে আমাদের চেয়েও উন্নত ভিন্ন দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারত না। বিষয়টি আমাদের বুঝতে হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৪ মার্চ, ২০১৯/এমএএস

পাঠকের মতামত: