ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ছাত্রদের হাত পা মুখ বেঁধে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগ

আপডেট : 2019-03-18 21:03:50
ছাত্রদের হাত পা মুখ বেঁধে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল পৌরএলাকার বিশ্বাস বেতকায় সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ১১ জন ছাত্রকে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেধে মেঝেতে ফেলে স্ট্যাম্প দিয়ে বেড়ক পিটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে মাঝরাত থেকে সকাল পর্যন্ত আবাসিক ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে আগামী বুধবার অভিভাবকদের সঙ্গে এক বৈঠক হবে বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

ছাত্র ও অভিভাবকরা জানান, গত শুক্রবার রাতে সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্র ধুমপান করাকে কেন্দ্র করে আবাসিক শিক্ষকরা ১১ জন ছাত্রকে ডেকে শাসিয়ে দেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানান। এ নিয়ে ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে ভবনের ভেতরে একটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ভবনে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে কার্বনডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয়। এতে আবাসিক শিক্ষকের কক্ষে ধোয়া প্রবেশ করলে তিনি ভয় পেয়ে অন্য শিক্ষকদের ডাকেন। পরে তারা ১১ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে তাদের হাত, পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেধে মেঝেতে ফেলে স্ট্যাম্প দিয়ে বেড়ক পেটায়।

পরের দিন শনিবার সকালে অভিভাবকদের খবর দিলে তারা ছাত্রদের নিয়ে যান। শনিবার রাতেই আবাসিকের ছাত্ররা আবার ক্ষিপ্ত হয়ে ভবনের নিচতলা থেকে শুরু করে চারতলা পর্যন্ত ব্যাপক ভাংচুর চালায়। অফিস কক্ষ, লিফট, চেয়ার, টেবিল, খাট, ফ্যান, কম্পিউটার, গ্লাসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। এসময় ওই ভবনের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেরে রাতেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নবম শ্রেণীর ছাত্র আল আমিনের মা জলি আক্তার জানান, ‘শনিবার সকালে এক শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি আবাসিকে আসেন। কিন্তু তাকে তার ছেলের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। তাকে অফিস রুমে বসিয়ে রাখা হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ছেলেকে তার কাছে আনা হয়। তখন ছেলের পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।

সেখানে ছেলে জানায়, শিক্ষকরা ওর দুই পা থেকে শুরু করে কোমড় পর্যন্ত পিটিয়েছে এবং সারা রাত মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

আবাসিক ভবনের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল জোয়াহের পিতা মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর ছাত্ররা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ভাংচুর চালায়। কেন ছাত্রদের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হলো? এর বিচার চাই।

আবাসিক স্কুলের অফিস এক্সজিকিউটিভ ইসমাইল হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র পারভেজ, মাজেদুর, সাগর ও রাফিসহ আরো কয়েকজন ভবনে ধুমপান করে আবাসিক শিক্ষক মিজানের কাছে ধরা পড়ে। এদেরকে অফিস রুমে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। এতে ঐ ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক মিজানের উপর হামলা করে। পরবর্তীতে শনিবার সকাল থেকেই দশম শ্রেণীর ছাত্র আতিকুর, সিয়াম, সাগর ও শাওনের নেতৃত্বে আবাসিক ভবনে থাকা সাড়ে তিনশত ছাত্র ভাংচুরে অংশ নেয়।

এ ব্যাপারে সৃষ্টি রেসিডেনসিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী লিটন বলেন, আবাসিকের কয়েকজন ছাত্র সিগারেট খাওয়ায় শিক্ষকরা তাদের একটু শাস্তি দিয়েছিলেন। এই ক্ষোভে তারা ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, স্কুলের ছাত্ররা ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালালে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর অভিভাবকদের অভিযোগ ঠিক না।

বিজনেস আওয়ার/১৮ মার্চ, ২০১৯/আরএইচ

পাঠকের মতামত: