ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বিশ্বাকাপ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের খরচ কত হবে?

আপডেট : 2019-03-21 18:14:58
বিশ্বাকাপ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের খরচ কত হবে?

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ এলেই কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে। প্রথম প্রশ্ন, ‘কারা খেলবেন বিশ্বকাপে?’ দ্বিতীয় প্রশ্ন, ‘কত দূর যাবে টাইগাররা, কোথায় গিয়ে থামবে বিশ্বকাপ মিশন?’ পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন জাগে কারো কারো মনে, ‘আচ্ছা, বিশ্বকাপে কত টাকা খরচ হবে বাংলাদেশের? বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিসিবির বাজেট কত?’

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সবার আগে জানতে হবে যে দেশে বিশ্বকাপ হবে, সেই ইংল্যান্ডে কতদিন আগে পা রাখবে টাইগাররা এবং প্রস্তুতির জন্য নিজ উদ্যোগে আদৌ কোনো ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলবে কি-না, তার ওপর। কারণ নিয়ম হচ্ছে নিজ উদ্যোগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেললে তার সব খরচ বহন করতে হয় সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডকে।

ইতিহাস বলছে, পরিবেশ-পারিপারর্শ্বিকতার সাথে ধাতস্থ হতে ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে প্রায় ২০ দিন আগে ইংল্যান্ডে পা রেখেছিল টিম বাংলাদেশ। ইংলিশ কন্ডিশনে অনুশীলনের পাশাপাশি কাউন্টি ক্লাবগুলোর সাথে বেশকিছু ম্যাচও খেলেছিলেন টাইগাররা।

ক্রিকেটারদের স্বার্থে নিজেদের অর্থায়নে একটি টিম বাস ভাড়া করেও রাখা হয়েছিল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পর্যন্ত ওই বাসেই টিম হোটেল থেকে মাঠে আর এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াত করেছেন ক্রিকেটাররা।

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও গা-গরমের ম্যাচ আয়োজনে যুক্তরাজ্যে কত অর্থ খরচ হয়েছিল বিসিবির? খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাই তো? তাহলে শুনুন, যার কাছে ছিলো সমুদয় খরচের হিসেব, সেই তখনকার বিসিবির ডাকসাইটে কর্মকর্তা ও ‘৯৯র বিশ্বকাপ মিশনে টিম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর হয়ে যাওয়া দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল দিয়েছেন সে সমুদয় খরচের পরিমাণ।

দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল জানান, ‘সেবার আমরা ইংল্যান্ডে গিয়ে একজন ফাস্ট বোলিং কোচ, আরেকজন স্পিন বোলিংয়ের খণ্ডকালীন কোচ নিয়োগ দিয়েছিলাম। পেস বোলিং কোচ ছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা এক সাবেক পেসার (যার নাম এ মুহূর্তে মনে আসছে না) আর স্পিন কোচ হিসেবে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোশতাক মোহাম্মদ। এর বাইরে আমরা নিজ উদ্যোগ ও খরচে ৩টি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিলাম। সেগুলোর সব খরচ আমাদেরকে বহন করতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোদ্দা কথা, আবাসন তথা হোটেল ভাড়া, সার্বক্ষণিক টিম বাস ভাড়া, খাওয়া, দুজন স্পেশালিস্ট কোচের পারিশ্রমিক এবং তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচের আনুষঙ্গিক সব খরচসহ বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজ উদ্যোগে ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে ক্রিকেটারদের ধাতস্থ করতে আমাদের খরচ হয়েছিলো বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা।’

২০ বছর পর সেই একই দেশে আবার বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা। এবার কতদিন আগে ইংল্যান্ডে পা রাখবেন তারা? প্রস্তুতি খাতে তাদের জন্য বিসিবির খরচ হবে কত?

এ প্রশ্নেরর উত্তর যারা খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তাদের জন্য তথ্য হলো- আগের বারের মত এবারও বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় ৪ সপ্তাহ আগে দেশ ছাড়বে টাইগাররা। তবে এবারের প্রথম গন্তব্য লন্ডন, বার্মিংহাম, কার্ডিফ কিংবা ম্যানচেস্টার নয়- আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন।

ইংল্যান্ডের প্রতিবেশী আয়ারল্যান্ডে আগামী ৫ মে থেকে তিন জাতি ক্রিকেটে অংশ নেবে টাইগাররা। আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনাল ১৭ মে। এক অর্থে ঐ তিন জাতি টুর্নামেন্ট দিয়েই শুরু হবে দেশের বাইরে টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি।

অনেকেরই কৌতূহলি প্রশ্ন, এবার দেশের বাইরে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে কত খরচ হবে বিসিবির? এ প্রশ্নের জবাব যার সবার চেয়ে ভাল জানা- সেই বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে আলাপে টাকার অংক না বললেও একটা প্রচ্ছন্ন ধারণা দিয়েছেন।

বিসিবি সিইও জানান, ‘বিশ্বকাপ যেহেতু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির ইভেন্ট। তাই একটা নির্দিষ্ট সময়ের সব খরচ আইসিসিই বহন করে। তবে সেটারও একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। তার আগে নয়।’

বিসিবি সিইও আরো বলেন, ‘সাধারণত আইসিসি একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরুর ৫-৭ দিন আগে প্রতিযোগী দলগুলোর থাকা-খাওয়া, অনুশীলন করা এবং যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ আইসিসিই বহন করে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিটি দল বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে দু’টি করে অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। তার আয়োজক ও ব্যবস্থাপনায় থাকে আইসিসি।

এবার বাংলাদেশের প্রথম গা গরমের ম্যাচ ২৬ মে কার্ডিফে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অর্থাৎ ঐ ম্যাচের সর্বোচ্চ সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ আইসিসির আতিথ্য পাবে। বিসিবি সিইও জানিয়েছেন, ‘ঐ সময়টাকে বলা হয় ‘সাপোর্টিং পিরিয়ড’ অর্থাৎ ঐ সময়টা থেকেই আইসিসি দলগুলোকে সব রকম লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে। থাকা-খাওয়া, টিম বাসে যাতায়াত ও অনুশীলনসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সব। ‘সাপোর্টিং পিরিয়ডের’ আগে নিজ খরচেই থাকতে হয়। হবেও অন্য সব খরচও নিজেদের।’

তবে বিসিবি সিইও’র সাথে কথা বলে মনে হলো টিম বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড থেকে এবার যখন ইংল্যান্ডে পৌছাবে, তখন ‘সাপোর্টিং পিরিয়ড’ শুরু হয়ে যাবে বা যেতে পারে। তার মানে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপের আগে টিম বাংলাদেশের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে কোন অর্থ খরচ নাও করতে হতে পারে।

সেটা কিভাবে? স্বাগতিক আইরিশ আর ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ঐ তিন জাতি আসরে সাধারণ হিসেবে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলাই স্বাভাবিক। ধরে নেয়া যায় মাশরাফির দল ফাইনাল খেলবে। যদি খেলে তাহলে নিয়ম-রীতি অনুযায়ী টিম বাংলাদেশ ১৭ মে পর্যন্ত আইরিশদের আতিথ্যেই থাকবে। মানে টাইগারদের আবাসন, অনুশীলন ও খাওয়া-দাওয়া- সব আইরিশ ক্রিকেট বোর্ডের।

ক্রিকেট অপারেশনস কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড যাবে ২২ মে। আর বাংলাদেশের প্রথম অফিসিয়াল গা গরমের ম্যাচ ২৬ মে।

বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন তো জানিয়েই দিয়েছেন, প্রথম গা গরমের ম্যাচের অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন আগেই ‘সাপোর্টিং পিরিয়ড’ শুরু হয়ে যাবে। বাংলাদেশ যদি ২২ মে কার্ডিফে পা রাখে, তখন থেকে প্রথম গা গরমের ম্যাচের বাকি থাকবে মাত্র তিনদিন। তার মানে ততদিনে আইসিসির সাপোর্টিং পিরিয়ড শুরু হয়ে যাবে।

তাহলে কি বাংলাদেশের প্রস্তুতি খাতে কোনই খরচ হবে না? হবে। সেটা হয়ত আয়ারল্যান্ডের মাটিতে। কারণ বাংলাদেশ ফাইনাল খেললেও আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি ক্রিকেট আসর শেষ হয়ে যাবে ১৭ মে। আর আয়ারল্যান্ড থেকে জাতীয় দলের বহর ২৬ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার লক্ষ্যে কার্ডিফ যাবে ২২ মে। ১৮ থেকে ২২ মে’র মাঝের এই চার পাঁচদিনের খরচটা একান্তই বিসিবিকে বহন করতে হবে।

কাজেই এবার আর ১৯৯৯ সালের মত প্রস্তুতি খাতে অত বিপুল অংকের অর্থ খরচ হবে না। সর্বোচ্চ হয়তো ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বিসিবির পকেট থেকে।

বিজনেস আওয়ার/২১ মার্চ, ২০১৯/আরএইচ

পাঠকের মতামত: