ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

৬৫ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : 2019-04-03 12:10:48
৬৫ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : দেশের বিভিন্ন এলাকার ৬৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৩ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবনে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরসহ ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন ও ১৩টির অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ১৬ টি বাণিজ্যিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০টি শিল্প কারখানার ভিত্তিস্থাপন করেন তিনি।এছাড়া আরও ৫ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. ফখরুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানায়, বেজা’র ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে শিল্পের চাকা ঘুরছে ছয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে। কারখানা স্থাপনের জন্য পুরোপুরি তৈরি আরো ৫টি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট ৬৫টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বেজা।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পেয়েছে। যেগুলোর ছয়টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে; কারখানার স্থাপনের জন্য প্রস্তুত আরো ৫টি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমার খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ কখনো উন্নয়ন হয় না।

আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কিন্তু সেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে কৃষি আমাদের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমাদের শিল্পায়নও প্রয়োজন। সে কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা সারা বাংলাদেশে ১০০টা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলব। যেখানে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগ হবে।

তিনি বলেন, শিল্পায়ন কোথায় হবে, কীভাবে হবে সেই জায়গা আমরা ঠিক করে দেব। যত্রতত্র আমার কৃষিজমি নষ্ট হবে না। তিন ফসলের জমি সেগুলো নষ্ট হবে না। আমরা গবেষণা করে করে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো শুরু করেছি।

বাংলাদেশকে আমাদের ক্ষুধামুক্ত করতে হবে, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন আমাদের বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দেশটা যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সময় আমাদের ফসল নষ্ট হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দুর্যোগকালে আমাদের খাদ্য মজুদ করতে হবে। আবার যেন কারো কাছে হাত পাততে না হয়, আমরা যেন নিজেরা মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারি সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এ পরিকল্পনা ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেয়া।

সেখানে আমাদের দেশি, বিদেশি, আমাদের প্রবাসী যারাই আসবে তারা যেন বিনিয়োগ করতে পারে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করে দেয়া। একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি আমরা এগুতে থাকি, তাহলে যেকোনো একটা দেশকে উন্নত করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, আমাদের বেসরকারি খাত এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তরুণ সমাজ তারা যে, বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে, আমি এ জন্য প্রশংসা করি। অনেক তরুণ মুখ আমরা আজকে দেখি যারা কাজ করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মাত্র একটা এয়ারপোর্ট ছিল আন্তর্জাতিক। প্রথমবার ক্ষমতায় এসে আরও দুটো আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট করে দেই। আমরা আরেকটা এয়ারপোর্ট ভালো করে দিচ্ছি কক্সবাজারে।

ঢাকারটায় আমরা থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সৈয়দপুর এয়ারপোর্টকে আমরা উন্নত করে দিচ্ছি। রাজশাহী এয়ারপোর্ট আমরা চালু করেছি। বরিশাল চালু করেছি, এগুলো এক সময় বন্ধ ছিল। বিমানের যে বিধ্বস্ত অবস্থা ছিল এখন অন্তত আমরা ড্রিম লাইনার নিয়ে এসেছি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উত্তীর্ণ হবে এ অর্থবছরে। আমাদের মাথাপিছু আয়ও আমরা ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করছি। আমাদের অর্থনীতিটাকে সব সময় গতিশীল, কিন্তু এটা যেন স্থিতিশীল থাকে সে ব্যবস্থাটা আমরা রাখতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের উন্নয়নটা হচ্ছে একেবারে তৃণমূল মানুষের কাছে। মানুষের যেন ক্রয় ক্ষমতাটা বাড়ে এবং দেশে যেন আমার বাজার সৃষ্টি হয় সেই চেষ্টা ও সেই পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থাটা এমন চমৎকার একটা জায়গায় এখন থেকে বিশ্বের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গায় যাওয়া যাবে। প্রতিটি জায়গায় একটা ভালো মার্কেট পাওয়া যাবে। সেই সুযোগটা আমাদের রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেয়া। আমাদের সব কাজের মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে কর্মসংস্থান। আমার দেশের কোনো তরুণ বেকার থাকবে না। তারা ট্রেনিং পাবে, পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বহুমুখী শিক্ষা, আমাদের প্রয়োজনীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমরা বিষয়ভিত্তিক করে দিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বেজা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ইকোনমিক জোনের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে বলেন, ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৯টি কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে। নতুন ৫টিসহ মোট ১১টিতে স্থাপন করা হচ্ছে আরো ২১টি কারখানা। এতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

আর কর্মসংস্থান হয়েছে ৩০ হাজার মানুষের। সংস্থার হিসাবে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার। যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি অঞ্চলের সঙ্গে সরকারি অঞ্চল বাস্তবায়নও এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে।

এরইমধ্যে মিরসরাইসহ দুই অঞ্চলে কারখানা স্থাপন শুরু হয়েছে। কারখানা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত আরো দু’টি অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হোন্ডা, টিআইসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করছে।

বিজনেস আওয়ার/০৩ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: