ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

স্বাস্থের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা

আপডেট : 2019-04-04 22:12:03
স্বাস্থের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : গোল গোল খাঁজকাটা পাতা, আকারে একটি পয়সার থেকে কিছুটা বড়। তেতো স্বাদের এই পাতাটি আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। অনেকে এর উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না বলে ফেলে রাখেন অবহেলায়। বলছি থানকুনি পাতার কথা। অনেকে হয়তো জানেন এটি খেলে পেটের অসুখ সারে- ব্যস এটুকুই! কিন্তু থানকুনি আমাদের শরীরের বেশিরভাগ সমস্যারই সমাধানে কাজে লাগে। ভেষজগুণে সমৃদ্ধ থানকুনির রসে রয়েছে শরীরের জন্য প্রচুর উপকারী খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় পদার্থ।

কোথায় পাওয়া যায়

উপকারী এই ভেষজ উদ্ভিদটি সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশেই বেশি জন্মে। তাই পুকুরপাড় বা জলাশয়ের পাশে থানকুনির দেখা মেলে বেশি। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে কিংবা ক্ষেতের আইলে ছোট ছোট তারার মতো খাঁজকাটা এই পাতাগুলো দেখতে পাওয়া যায়। এখন শহরের বাজারগুলোতেও পাওয়া যায় থানকুনি পাতা।

আরও যে নামে ডাকা হয়
অঞ্চলভেদে এই পাতাটিকে টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে ডাকা হয়। থানকুনি পাতা শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়, বিশেষ করে ভর্তা বা কাঁচা পাতা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। জেনে নিন থানকুনি পাতার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-

শরীর সুস্থ রাখতে
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষ যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে তা পরবর্তীতে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায়
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান পেতে খেতে পারেন থানকুনি পাতা। সেজন্য আধা লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিছরি এবং অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। তারপর সেই মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

হজম ক্ষমতা বাড়াতে
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি করে। কারণ থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে সঠিকভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

আমাশয় দূর করতে
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এভাবে টানা ৭ দিন খেলেই মিলবে সমাধান! এধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রণটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

জ্বর কমাতে
জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

ক্ষতের চিকিৎসায়
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

পেটের অসুখ কমাতে
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভালো করে মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। এই মিশ্রণটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যেকোনো ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে কৃমির প্রকোপও কমে।

কাশি কমাতে
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশি একেবারেই নির্মূল হয়ে যাবে।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

চুল পড়া কমায়
সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। সেক্ষেত্রে পরিমাণমতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে । সপ্তাহে ২ বার এভাবে চুলের পরিচর্যা করলে চুল আরও সুন্দর হবে।

বিজনেস আওয়ার/০৪ এপ্রিল, ২০১৯/আরএইচ

পাঠকের মতামত: