ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ছাত্রলীগকে খুঁজে খুঁজে পেটাল ছাত্রলীগ

আপডেট : 2019-04-11 12:18:35
ছাত্রলীগকে খুঁজে খুঁজে পেটাল ছাত্রলীগ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ৭০ জনের অধিক আহত হয়েছে। আহতরা সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতেই স্থানান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তা চায়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে শেকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের রুমে রুমে গিয়ে উত্তরাঞ্চল ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালায়।

জানা গেছে, পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় শেকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রলীগের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয়।

এর জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় আবারো হাতাহাতি হলে সাধারণ সম্পাদক মিজানের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী সৈকত, সাক্ষর, রিওনের নেতৃত্বে কর্মীরা জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সেকেন্দার আলী, প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসাইন, ছাত্র পরামর্শক ড. মিজানুর রহমান ও সহকারী প্রক্টর মো. দুলাল সরকারসহ উভয় গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরপর প্রশাসন ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সাথে সাথেই আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়িতে উভয় গ্রুপের ৩০ জনের অধিক আহত হয়।

পরে পুলিশ মোতায়েন করলে উত্তরাঞ্চল ছাত্রলীগ টিএসসি সংলগ্ন চাতালে অবস্থান করে শেকৃবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিকে মেয়াদোত্তীর্ণ আখ্যা দিয়ে 'বয়কট' করে স্লোগান দিতে থাকলে ক্যাম্পাসে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সভাপতি এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু দক্ষিণাঞ্চলের অনুসারীদের নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মিজানের অনুসারীদের সাথে মিলিত হয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তরাঞ্চল গ্রুপের ওপর আক্রমণ চালায়।

পরে উত্তরাঞ্চলের অনুসারীরা কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে আশ্রয় নেয়। এরপর মিঠু ও মিজানের নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চল ও ময়মনসিং অঞ্চলের অনুসারীরা ওই হলের রুমে রুমে গিয়ে খুঁজে খুঁজে উত্তরাঞ্চল ছাত্রলীগের অনুসারীদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আক্রমণ চালায়।

এ সময় উত্তরাঞ্চলের লাবিব, পার্থ, তুষার, তানভীর, নিলয়, তাপস, সিয়াম, সাজেদুলসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। দক্ষিণ ও ময়মনসিং অঞ্চলের পরশ, আরিফ, শওকত, সাকিবসহ ২০ জনের অধিক আহত হয়। উত্তরাঞ্চলের লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

রোগীর নিকটাত্মীয় শাহীন বলেন, লাবিবের মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবজারভেশনে আছে। আগামীকাল চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা জানাবেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরিফ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে নিউরোসায়েন্স হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

উত্তরাঞ্চলের নেতা শেকৃবির পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. শাকিল আকতার সৈকত বলেন, শেকৃবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি সবক্ষেত্রেই অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ ৫ মাস আগেই শেষ হয়েছে। তারা এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি।

আংশিক কমিটির ১৪ জনের মধ্যে এখন আটজনই চাকরিজীবী। তা ছাড়াও যেকোনো ঘটনায় তারা তাদের নিজস্ব অঞ্চলকে সুবিধা দিতে পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেয়। যার ফলে পদপ্রত্যাশী কর্মীরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ। এ কারণেই মূলত মাঝে মধ্যেই বর্তমান কমিটির নেতাদের সাথে কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবারের ঘটনা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চক্রান্তের একটা অংশ। তারা হলের গেটে পুলিশ ঠেকিয়ে ভেতরে রুমে রুমে গিয়ে খুঁজে খুঁজে আমাদের কর্মীদেও ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে অর্ধশত কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে মারামারি ঠেকাতে গেলে একদল শিক্ষার্থী আমাদেরকে হলে প্রবেশে বাধা দেয়। তা ছাড়াও উপাচার্যের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা হলে প্রবেশ করতে পারিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বলেন, গতকাল প্রক্টোরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করেছেন। কিছু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাত্মক সহায়তা করার চেষ্টা করবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে শেকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু বলেন, তুচ্ছ ঘটনাটিকে এত বড় করা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য বাইরে থেকে কেউ ইন্ধন দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি।

সাধারণ সম্পাদক মিজান বলেন, ঘটনাটি ছিল উত্তরবঙ্গের পূর্বপরিকল্পিত। ক্যাম্পাসকে বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমার কর্মীদের ৩ ঘণ্টা আটকে রেখেছিলাম।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকে। কিন্তু এত নৃশংস হওয়া কাম্য নয়। শুনেছি কয়েকজন কর্মী মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত। আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। শেকৃবি ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১১ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: