ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

মেসির জোড়া গোলে সেমিফাইনালে বার্সা

আপডেট : 2019-04-17 11:28:22
মেসির জোড়া গোলে সেমিফাইনালে বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক: টানা ম্যাচে লিওনেল মেসি ঝলক দেখিয়েই চলেছেন। খুদে জাদুকরের নৈপুণ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠলো বার্সেলোনা।

শেষ আটের প্রথম লেগে গেল বুধবার (১৭ এপ্রিল) ম্যানইউর দূর্গ থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল বার্সা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরতি পর্বে মঙ্গলবার রাতে নিজেদের ডেরায় খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা।

এবার প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলেন কাতালানরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ চারের টিকেট পেয়েছেন তারা। তবে আজকের মেসিকে একটু এগিয়ে রাখতেই হবে। বারবার পেছন থেকে তেড়েফুঁড়ে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য। এভাবেই করেছেন দুই গোল।

বার্সেলোনা বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাসিং সৌন্দর্যময় ফুটবল বনাম কিছুটা শারীরিক শক্তি নির্ভর ডাইরেক্ট ফুটবল। বল ধরলেই দু’-তিনজন মিলে ঘিরে ধরে ছন্দ নষ্ট করে দেওয়া। সঙ্গে কড়া ট্যাকল সামলানোর ঝুঁকি তো আছেই। প্রথম পর্বের ম্যাচে মেসির রক্তাক্তের দৃশ্যটা তো এখনো তাজা। কিন্তু মেসিকে আটকানোর জন্য ম্যান টু ম্যান টাইট মার্কিং বা জোনাল মার্কিং কোনোটাই যথেষ্ট নয়। আর যদি মেসি থাকেন তছনছে মুডে, তাহলে তো কথায় নেই।

কিন্তু মেসি টপ গিয়ারে ওঠার আগে কিক অফ বাঁশির শুরুর ১০ মিনিট কেমন ছিল, ভাবেন তো! প্রথম মিনিটেই মার্কোস র‍্যাশফোর্ড চলে গিয়েছিলেন গোলের কাছাকাছি। ইংলিশ স্ট্রাইকারের শট ক্রসবার চুমু খেয়ে বাইরে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন স্কট ম্যাক টমিনেও। কিছু না হলেও শুরুতেই বার্সা রক্ষণভাগে ঝাঁকুনি তো। শুরুর দশ মিনিট অল রেডদের চাপে পিষ্টই থাকল জেরার্ড পিকের নেতৃত্বের রক্ষণভাগ।

বার্সার রক্ষণভাগের নিজেদের বক্সের মধ্যেও পাস খেলার খ্যাতি আছে। কিন্তু আজ র্যাশফোর্ডদের প্রেসিংয়ে বল বিপদমুক্ত করতে পারলেই যেন বাঁচেন পিকেরা। তবে ব্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে কর্তৃত্ব চলে আসে মেসির দলের কাছে। পরিষ্কার করে বললে মেসির পায়ে।

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে মাস্তানি দেখিয়েছেন মেসি। তবে তাঁর দুইটি গোলেই আছে প্রতিপক্ষের অবদান। বিশেষ করে দ্বিতীয় গোলটি ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডি গেয়ার উপহার! ১৬ মিনিটে তাঁর প্রথম গোলটা ট্রেডমার্ক। প্রতিপক্ষ লেফটব্যাক অ্যাশলে ইয়াং সময়মতো বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেছন থেকে তেড়েফুঁড়ে দখল নিলেন।

বল নিয়ে শুরু করলেন ট্রেডমার্ক দৌড়। বাম প্রান্ত থেকে একে একে তিন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে পেনাল্টি আর্কের ওপর থেকে বাম পায়ে দূরের পোস্টে প্লেসিং,১-০। ২০১৩ সালের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির প্রথম গোল।

২০ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় গোলটা অনেকটা উপহারের মতো। প্রথম ভুলটা করেছিলেন ফ্রেড, দ্বিতীয় ভুলটা গোলরক্ষক ডি গেয়া। স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডি গেয়ার ভুলটাই বড়। কিন্তু ফ্রেড নিজেদের ডিফেন্ডিং জোনে ক্রুইফ টার্ন করে যেই স্পর্ধা দেখিয়েছেন, তা ইয়োহান ক্রুইফ নিজেই ন্যু ক্যাম্পে দেখাতেন কিনা, সন্দেহ আছে। যেখানে কিনা প্রতিপক্ষ দলে আছেন মেসির মতো একজন।

প্রতিপক্ষের ভুল থাকলেও মেসির বল কেড়ে নেওয়ার দৃশ্যটা নিশ্চিত চোখ এড়ানোর নয়। বলটা কেড়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে ডান পায়ের নিরীহ শট ডি গেয়ার হাত ফসকে জালে। ম্যাচের জন্য বরাদ্দ তিন পয়েন্ট কার্যত তখনই কাতালান অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে।

ব্রাজিলিয়ান আর্জেন্টাইন রসায়নে আসা এই জয়ে গেরো কাটল বার্সেলোনার। আগের তিনবার এই কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গিয়েছিল তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ। এবার অন্তত ফাইনালের আগের দরজায় পা রাখল মেসিরা।

বিজনেস আওয়ার/১৭এপ্রিল, ২০১৯/এস

পাঠকের মতামত: