ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

নুসরাত হত্যা

কেরোসিন ঢালে জাবেদ, ধরে রাখে মনি

আপডেট : 2019-04-21 10:18:19
কেরোসিন ঢালে জাবেদ, ধরে রাখে মনি

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (ফেনী) : ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহার রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয় জাবেদ। আর এ সময় নুসরাত যাতে নড়াচড়া করতে না পারে সেজন্য তাঁকে ছাদে ফেলে তাঁর বুক চেপে ধরে রাখে অপর আসামি কামরুন নাহার মনি।

শনিবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে দুই আসামি দীর্ঘসময় নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর এই দাবি করেছে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসরাত রাফির হত্যাকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী জাবেদ এবং কামরুন নাহার মনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা তাদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জাবেদ, নুসরাত রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলেছে এবং এই পরিকল্পনায় তার অংশগ্রহণ ছিল। এবং কামরুন নাহার মনি শোয়া অবস্থায় বুক চেপে ধরে রেখেছে যাতে করে সে নড়াচড়া না করতে পারে।

পিবিআই আরো জানায়, এ মামলায় এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাঙ্গামাটি থেকে ইফতেখার মাহমুদ রানা ও কুমিল্লা থেকে মো. মামুন নামের সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করে পিবিআই। আজ রোববার এই দুজনকে আদালতে হাজির করা হবে।

শনিবার একই আদালতে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করে পিবিআই। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরফ উদ্দিন পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বোরকা সোনাগাজী পৌর শহরের সরকারি কলেজ সংলগ্ন ডাঙ্গি খাল থেকে জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায় বোরকা পরে পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতের সহপাঠী উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা তাঁর বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে এমন সংবাদ দিলে- ওই ভবনের ছাদে যান নুসরাত।

সেখানে বোরকা ও নেকাব পরা চার-পাঁচজন তাঁকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

বিজনেস আওয়ার/২১ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: