ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

মহেশখালীতে পৌঁছেছে সামিটের এলএনজি জাহাজ

আপডেট : 2019-04-21 15:37:54
মহেশখালীতে পৌঁছেছে সামিটের এলএনজি জাহাজ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : মহেশখালীর উপকূলে এসে পৌঁছেছে দেশের দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। শনিবার সামিট গ্রুপের তরফ থেকে তাদের মালিকানাধীন টার্মিনালটি দেশের উপকূলে আসার এই খবর জানানো হয়।

জানা গেছে চলতি মাসের শেষের দিকে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। অন্যদিকে, বাকি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। টার্মিনালটি প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে সামিট জানায়, শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এলএনজিসহ সামিট গ্রুপের জাহাজটি কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি উপকূল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় আছে।

১৫ বছরের জন্য এক্সিলারেটের কাছ থেকে এই ভেসেলটি ব্যবহারের জন্য চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এই ভেসেলে কাতার থেকে আনা এলএনজি পরিবহন করা হচ্ছে। জাহাজটি ছাড়াও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরকরণ ইউনিটটি এরইমধ্যে সাগরের নিচের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, সামিট টেকসই উন্নয়নে প্রতিশ্রুতবদ্ধ। এতদিন আমরা বিদ্যুৎখাতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি জ্বালানি সরবরাহে আমাদের সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সামিটের জনসংযোগ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, টার্মিনালটিতে প্রথম ধাপে এক লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস আনা হয়েছে।এর আগে গত ৬ এপ্রিল জাহাজটি কাতারের রাসগ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে এলএনজি নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং পেট্রোবাংলার সহযোগিতা পাওয়া গেলে আগাম সাতদিনের মধ্যে এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার আশা করছেন তারা।

সামিট এলএনজি টার্মিনাল আনলেও বাংলাদেশ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি জিটিসিএল কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে ইন্টারকানেশনটি শেষ হবে। এই সংযোগ হলে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনা সম্ভব।

অন্যদিকে সমান্তরাল দুটি নির্মাণাধীন পাইপ লাইন শেষ করতে আগামী মাসেও জিটিসিএলকে কাজ করতে হবে জানিয়ে বলেন, আশা করছি মে মাসের শেষ নাগাদ পাইপ লাইনের কাজ শেষ হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল এই টার্মিনাল নির্মাণ এবং এর ব্যবহারে সামিট গ্রুপের সঙ্গে দুটি চুক্তি সই করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা । চুক্তি অনুযায়ী সামিট দেশের দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে।

১৫ বছর ধরে পরিচালনার পর পেট্রোবাংলার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে সামিট। প্রকল্পে আমদানি করা এলএনজি ভাসমান সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ ও আবার গ্যাসে রূপান্তর করে তা পেট্রোবাংলার কাছে সরবরাহ করবে সামিট। আর ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে জিটিসিএল।

২০১৭ সালের শেষদিকে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।এর আগে টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য মেরিন ঠিকাদারি কনসর্টিয়াম প্রতিষ্ঠান জিওসান এসএএস এবং ম্যাকগ্রেগরের সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের টার্নকি চুক্তি সই করে সামিট।

ওই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের ভাসমান এলএনজি স্টোরেজ এবং আবার গ্যাসে রূপান্তরকরণ টার্মিনালের ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট, ফেব্রিকেশন, ইনস্টলেশন এবং স্থায়ী অবকাঠামোর টেস্টিং এর কাজ করেছে।

বিজনেস আওয়ার/২১ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: