ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

শ্রীলঙ্কায় হামলা, আটক ২৪

আপডেট : 2019-04-22 11:08:47
শ্রীলঙ্কায় হামলা, আটক ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৪ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। ঘটনায় এখনো কেউ দায় স্বীকার না করলেও এর জন্য ধর্মীয় চরমপন্থিদের দায়ী করেছে দেশটির সরকার।

রোববার (২১ এপ্রিল) সকালে ও বিকেলে দফায় দফায় এ বোমা হামলার পর সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতের খোঁজে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি রয়েছে নৈশকালীন জরুরি অবস্থা।

লঙ্কান পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রুয়ান গুনেসেকার বলেন, ২০৭ টি মরদেহ পোস্টমর্টেমের কাজ শুরু হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো দ্বীপে জরুরি অবস্থা অব্যাহত আছে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, সতর্ক করার পরও কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। সর্বপ্রথম সন্ত্রাসমুক্ত শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করবো আমরা। কোনোভাবেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ্য করা হবে।

সন্ত্রাস নির্মূলে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই। বর্বর এ হামলায় যারা স্বজন হারিয়েছেন, আমিও তাদের মতো সমব্যথিত।

হামলার জন্য ধর্মীয় চরমপন্থিদের দায়ী করেছেন লঙ্কান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রোববারের হামলার অধিকাংশই আত্মঘাতী বলে'ও জানান তিনি। গৃহযুদ্ধ অবসানের ১০ বছর পর এ ধরনের হামলায় আবারও শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সংবাদমাধ্যম বলেছে, সন্দেহভাজন এই ২৪ জনকে রোববারের ঘটনায় যোগসাজশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অবশ্য এই ২৪ জন কোনো সংগঠনের কি-না, তাও নিশ্চিত করে বলা হচ্ছে না।

কেউ এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ১০ দিন আগে সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত নামে একটি কট্টরপন্থি সংগঠন গির্জাগুলোতে আক্রমণ চালাতে পারে।

শ্রীলঙ্কায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালাতো তামিল গেরিলারা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘তামিল ইলাম’ নামে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৮৩ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসা এই গেরিলাদের প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে ২০০৯ সালে হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের দমন করা হয়।

রোববারের এই হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫০ জন। নিখোঁজও রয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপন করা হচ্ছিলো গির্জাগুলোতে। এর মধ্যেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গির্জায় বোমা হামলা হয়। আধঘণ্টার মধ্যেই হামলা হয় কলম্বোর ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিন গির্জা ও ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাট্টিকালোয়ার জিওন গির্জায়।

প্রার্থনালয়গুলো যখন কাঁপছিল, সমানে হামলা হতে থাকে কলম্বোর অভিজাত কিংসবারি, সাংগ্রিলা এবং সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে। এই হোটেলগুলোতে তখন বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক ছিলেন।

গোটা কলম্বোবাসী ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে না উঠতেই দেহিওয়ালা জেলার আরেকটি হোটেলে এবং দেমাতাগোদা জেলার একটি স্থাপনায় ফের হামলা হয়।

সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, বোমা বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে একাধিক গির্জা ও হোটেলের ভেতরের জায়গা। মেঝেতে পড়েছিল রকাক্ত মরদেহ।

বিজনেস আওয়ার/২২ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: