ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

পেঁয়াজের বাজার চড়া, কমেছে ডিমের দাম

আপডেট : 2019-04-26 11:51:15
পেঁয়াজের বাজার চড়া, কমেছে ডিমের দাম

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : পবিএ রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। বাজারভেদে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকার মতো। সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।

বাজারে লক্ষ্য করলে দেখা যায় রমজানে শুধু কমেছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকা। এ নিয়ে টানা দুই সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে কমেছে প্রায় ২০ টাকা।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা ও খিলগাঁও অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এ হিসাবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ২০ টাকা।

এদিকে মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭ থেকে ৮ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১০ টাকা। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম পিসে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

ডিমের দামের বিষয়ে হাজীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী সাবু মিয়া বলেন, আর কিছুদিন পরেই রোজা শুরু হবে। রোজা শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করেছে। এ কারণেই ডিমের দাম কিছুটা কমে গেছে। এমন গরম অব্যাহত থাকলে রোজার মধ্যে ডিমের দাম আরও কমে যেতে পারে।

এ ব্যবসায়ী বলেন, রোজা ও গরমের মধ্যে ডিমের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। প্রতিবছরই রোজার মধ্যে ডিমের দাম কমে যায়। এবার রোজা শুরু হওয়ার আগেই ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। গরম পড়ার কারণেই হয়তো ডিমের দাম কমছে। কারণ, অনেকেই গরমের মধ্যে ডিম খান না।

কারওয়ান বাজারে গিয়ে যে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ভালোমানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছেন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম পাল্লায় বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে রামপুরা ও খিলগাঁও অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮ থেকে ৩০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে অনেক বাজারে কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল।

কাঁচা পেঁপের মতো দাম বেড়েছে শসা ও বেগুনের। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকার মতো বেড়ে শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আর গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছুটা দাম কমেছে পাকা টমেটোর। বাজারভেদে পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে কোনো বাজারে পাকা টমেটোর কেজি ৪০ টাকার নিচে বিক্রি হয়নি।

এদিকে দাম অপরিবর্তিত থাকা সবজির মধ্যে পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, সজনে ডাটা ৬০ থেকে ৮০, বরবটি ৬০ থেকে ৭০, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০, করলা ৬০ থেকে ৭০, শিম ৪০ থেকে ৬০, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০, গাজর ৩০ থেকে ৪০, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বয়লার মুরগির কেজি আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায়, লাল লেয়ার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা, পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি।

মুরগির মতো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বাজারভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের দামও। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, পাঙাশ ১৫০ থেকে ১৮০, রুই ২৮০ থেকে ৬০০, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

বিজনেস আওয়ার/২৬ এপ্রিল, ২০১৯/আরএইচ

পাঠকের মতামত: