ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

কঠোর অবস্থানে বিএনপি, সিদ্ধান্তহীন নির্বাচিতরা

আপডেট : 2019-04-28 08:10:36
কঠোর অবস্থানে বিএনপি, সিদ্ধান্তহীন নির্বাচিতরা

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ঠেকাতে দলটির হাইকমান্ড কঠোর হলেও এখনও সিদ্ধান্তহীন বিজয়ী চার প্রার্থী। তারা নিশ্চিত হতে পারেননি, কী করবেন। একজন প্রার্থীর দাবি, একটি পক্ষের চাপ থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেননা তিনি।

জানা গেছে, ২৫ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ করেই সংসদে গিয়ে হাজির হন জাহিদুর রহমান। এরপর বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি শপথ নেন। জাহিদুর রহমান চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন একবার। এরপরই বিপাকে পড়ে বিএনপি।

দিনভর বাসায় অবস্থান করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত দুইদিনে দলে আলোচনা ছিল- নেতৃত্বের প্রভাব বিএনপিতে কমতে শুরু করেছে। না হলে চেইন অব কমান্ড না মেনে দলের সংকটকালে শপথ কেন নেবেন জাহিদুর রহমান। বিষয়টিতে বড় ধাক্কা খায় বিএনপি।

এমনকি দলটির রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদও বলেন, এটা নিয়ে কী বলবো, বুঝতে পারছি না। দেখি দল কি সিদ্ধান্ত নেয়?

এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ঢাকার গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য।

এদের মধ্যে ছিলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবু্র রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ ঠেকাতে ডাকা আইনজীবীদের। জানতে চাওয়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মোতাবেক কী করণীয়।

আলোচনা হয়, স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীদের শপথ বাতিল করতে চিঠি দেওয়ার। পুরো বিষয়গুলোর আইনি দিকগুলো খুঁজে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইনজীবীদের।

এদিকে জাহিদ শপথ নেওয়ার পর বিএনপির নেতারা সন্দেহ করছেন- হয়তো রবিবার বা সোমবার শপথ নিতে আরও দুইজন নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে হাজির হতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা শপথ নেবে তাদেরকে তো বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে ওই এমপির পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিএনপির দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

বিএনপি নেতারা আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন-সংবিধান ৭০ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া জাহিদুর রহমানের সদস্য পথ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা। এর জবাবে আইনজীবী বলছেন, বিএনপির যেহেতু সংসদে নেই, ফলে এই ধারা অনুযায়ী কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব না।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাহিদুর রহমানসহ আরও কেউ শপথ নিলে তাদের সদস্য পদ বাতিল করতে সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবে বিএনপি। এরপর প্রয়োজন হলে কোর্টেও যেতে পারে বিএনপি। এই চিঠি তৈরির জন্য দলের সিনিয়র আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকি নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য যেন শপথ না নেয় তা তাদেরকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে।

আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ। এর মধ্যে স্পিকার বরাবর সময় বাড়ানোর কোনও আবেদন না করা হলে নির্বাচিতদের আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে। বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে দু’জনের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হারুন উর রশীদ বলেন, ত্রিশ তারিখ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বলেন, দলের সিদ্ধান্তেই আছি এখনও। কোনও কিছুই চূড়ান্ত নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত উকিল আবদুস সাত্তার কোনও মন্তব্যেই নারাজ। তার ভাষ্য, কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।

বিএনপির প্রার্থীদের শপথগ্রহণের আগ্রহের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে। বিএনপির সঙ্গে একই কথা আছে। এ কারণে নতুন করে কিছু বলার নেই।

বিজনেস আওয়ার/২৮ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: