ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

স্বর্ণ-আসবাবপত্র-মোটরগাড়ি বন্ধক রেখেও ঋণ নেয়া যাবে

আপডেট : 2019-04-28 11:30:22
স্বর্ণ-আসবাবপত্র-মোটরগাড়ি বন্ধক রেখেও ঋণ নেয়া যাবে


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : এখন থেকে স্বর্ণ, আসবাবপত্র, মোটরগাড়ি, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর বন্ধক রেখেও ঋণ নেওয়া যাবে। অর্থের প্রাপ্যতা সহজ ও প্রসারিত করতে নতুন জামানত গ্রহণের বিধান চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

ইতোমধ্যে ‘সিকিউরিটি লেনদেন অ্যাক্ট’ নামে আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিগগির আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আগামী বছরে প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হতে পারে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, আসবাবপত্র, স্বর্ণ, মোটরগাড়ি, কম্পিউটার, পেটেন্ট, স্বেচ্ছাসেবক, কপিরাইট এবং অন্যান্য অনেক বাস্তব এবং অদৃশ্য সম্পদ সমান্তরাল বলে বিবেচিত হবে। এতে মানুষের অর্থের প্রাপ্যতা আরও সহজ ও প্রসারিত করবে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহীতাদের জমি, বাড়ি এবং অবকাঠামোর মতো অপরিবর্তনীয় সম্পদ জামানত রাখার বিধান রয়েছে।

সরকার প্রস্তাবিত আইনের অধীনে একটি নিরাপদ লেনদেন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ গঠন করবে, যাতে ঋণ গ্রহীতার জমি, ঘরবাড়ি, অবকাঠামোর পাশাপাশি চলমান সম্পদ নিবন্ধন কর‍ার মাধ্যমে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাহক তার চলমান সম্পদ সিকিউরড ট্রানজেকশন রেজিস্ট্রেশন অথরিটিতে তালিকাভুক্ত করার পর নিবন্ধিত ব্যাংক সেখান থেকে জামানত নিয়ে ঋণ দেবে।

এটি বাস্তবায়ন হলে একজন গ্রাহক একই সম্পদ জামানত দিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব ব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচক তালিকায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আসবে।

আইনটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের আগস্টে সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে আর্ন্তজতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, আইনটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থের ৬৫ শতাংশ দিচ্ছে আইএফসি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আইএফসি ইতোমধ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, আইন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অংশীজনদের মতামত নিয়েছে।

এখন খসড়া আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেশি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন প্রয়োগ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়নের পরে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের যোগ‍ান সুযোগ সহজ হয়ে যাবে।

প্রস্তাবিত নিরাপদ লেনদেন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত তথ্য ভাণ্ডারটির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে নিরাপদে ঋণ বিতরণে সহায়তা করবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো জামানত নিয়ে ঋণ বিতরণ করলেও নতুন আইন ব্যাংকগুলোর ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

এপ্রসঙ্গেবাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, একই জামানত বন্ধক রেখে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের প্রচলনটি বন্ধ করতে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা মনে করি।

এছাড়াও অনেকের কোনো জমিজমা বা বাড়িঘর নেই, কিন্তু নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত অনেক সম্পদ আছে। তারা চাইলে সেই সম্পদ বন্ধক দিয়েও ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে মানুষের অর্থের প্রাপ্যতা অনেকটা সহজ হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৮ এপ্রিল, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: