ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

৪ এমপির শপথ, নতুন সংকটে বিএনপি

আপডেট : 2019-05-05 09:09:35
৪ এমপির শপথ, নতুন সংকটে বিএনপি

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : চার এমপির শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন সংকটে পড়েছে বিএনপি। ওই চারজনের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দলটির মধ্যে এ নিয়ে অস্থিরতা চলছে। স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও মন থেকে তা গ্রহণ করেননি।

অন্যদিকে তারেক রহমান তথা দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও মহাসচিব কেন শপথ নেননি, ভেতরে ভেতরে কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, দলীয় সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই দলের মহাসচিবের সংসদে যোগদান করা উচিত ছিল।

এ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা করতে আগ্রহী কয়েকজন সিনিয়র নেতা। দলের মধ্যে এর বিপরীত আলোচনাও রয়েছে। এই নেতারা মনে করেন, চারজন শপথ নেওয়ায় এবং ফখরুল না নেওয়ায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপির লাভ হয়েছে।

কারণ ওই চারজনকে বাধা দিলেও শপথ আটকে রাখা যেত না। ফলে তাঁরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে সংসদে গেলে বিএনপির ‘চেইন অব কমান্ড’ প্রশ্নের মুখে পড়ত। আর ফখরুল শপথ না নেওয়ায় দলের তৃণমূলের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত করা গেছে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে গতকাল শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেও শেষে তা বাতিল করা হয়। স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক বাতিল নিয়ে গতকাল দিনভর গুঞ্জন ছিল, স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য ‘অনীহা’ দেখানোয় বৈঠক বাতিল করা হয়।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বৈঠক ডেকেও তা বাতিল করা হয়েছে। কী জন্য তা জানি না। বৈঠক থাকলে আমি যেতাম। অবশ্য স্থায়ী কমিটিতে থাকা না থাকা এখন সমান কথা।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে বৈঠক ডেকে দুই ঘণ্টা পর বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু কেন, তা আমি জানি না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বৈঠক ডেকেও তা বাতিল করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান তাঁর নির্বাচনী এলাকা নরসিংদী থেকে কালের কণ্ঠকে জানান, বৈঠকের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কারো আলোচনা হননি।

মির্জা আব্বাস বলেন, শনিবার এমনিতেই আমাদের বৈঠক হয়। তবে গতকাল কেউ নক করেনি। বৈঠক বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মহাসচিবের সংসদে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে এরই মধ্যে আমি আলাপ করেছি।

গত রবিবারের বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদে যোগ না দেওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। একমাত্র সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়া উপস্থিত সব সদস্য একমত হয়ে বলেন, নির্বাচন নিয়ে দলের যে অবস্থান এবং গত তিন মাসে শপথের বিরুদ্ধে যে অবস্থান তাতে সংসদে যোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কোনো কোনো নেতা এ-ও বলেন, সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এ অবস্থায় স্কাইপ আলোচনায় তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব ক্ষমতা অর্পণ করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা।

বৈঠকে একমাত্র নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও অনেক সময় দলের প্রয়োজনে নিতে হয়, আপনারা ভেবে দেখেন।

বৈঠকের পরের দিন ২৯ এপ্রিল সোমবার স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যের সঙ্গে আলাপ না করেই তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তে চার এমপির সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো নেতাই গ্রহণ করেননি। এ ঘটনায় তাঁরা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বলেন, পরবর্তী বৈঠক হলে সংসদে যোগ দেওয়া এবং মহাসচিবের যোগ না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁরা জানতে চাইবেন।

এ প্রসঙ্গে অন্য দুজন নেতা বলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না। মির্জা ফখরুল বিএনপির ভেতরে-বাইরে সমান জনপ্রিয় নেতা। এ অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএনপির ক্ষতি হবে। দলের ভেতরে এমন পরিস্থিতির কারণেই গতকালের বৈঠক স্থগিত করা হয়।

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শনিবার আমাদের কোনো বৈঠক নেই।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে আমি দলের জন্য সময় দেওয়ার কথা চিন্তা করে শপথ নিইনি। আমি বিএনপির মহাসচিব এবং ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র, এটিও চিন্তা করেছি। সব শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। সব দিক বিশ্লেষণ করেই আমি শপথ নিইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচিত এমপিরা সংসদের ভেতরে কাজ করবেন। আর আমিসহ দলের সিনিয়র নেতারা সংসদের বাইরে কাজ করব। এটাই তাঁদের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বলে দাবি করেন তিনি।

তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তে গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে বিএনপির চার এমপি শপথ নেন। বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

বিজনেস আওয়ার/০৫ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: