ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

পদ্মাসেতুর ১৮০০ মিটার দৃশ্যমান

আপডেট : 2019-05-06 15:15:04
পদ্মাসেতুর ১৮০০ মিটার দৃশ্যমান

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : মাঝপদ্মায় সেতুর ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর অস্থায়ী দ্বাদশ স্প্যান ‘৫-এফ’ বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো সেতুর ১৮০০ মিটার। বর্তমানে ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর অস্থায়ীভাবে স্প্যানটি বসানো হলেও স্থায়ীভাবে এই স্প্যানটি ২৪ ও ২৫ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হবে।

আর ২৯টি স্প্যান বসলেই ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পারি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। একাদশ স্প্যান বসানোর ১৩ দিনের মাথায় বসলো এই স্প্যানটি।

সোমবার (৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সেতুর ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর সফলভাবে অস্থায়ী স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে ১৮০০ মিটার।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ‘৫-এফ’ স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে আসে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন।

আবহাওয়া আর ভাসমান ক্রেনটির অ্যাংকরিংসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে স্প্যানটি বসানো হয় পিলারের ওপর। দুই পিলারের মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে এনে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়।

এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় থাকায় এবং যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে হওয়ায় প্রকৌশলীরা আজই স্প্যান বসাতে সক্ষম হন।

খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষাঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ।

পদ্মাসেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় ‘৫-এফ’ স্প্যানটি বসানো হয়। দ্বাদশ স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ১৮০০ মিটার।

মোট ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৬২টি পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩২টি পাইল ড্রাইভ এর কাজ চলমান আছে। ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৫টি পিলারের। বাকি ১৭টি পিলারের কাজও চলমান আছে।

জানা যায়, শরীয়তপুরের জাজিরায় এখন দশটি পিলারে (৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২) ৯টি স্প্যান। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে (১৩, ১৪ ও ৪, ৫) চারটি পিলারে একটি স্থায়ী স্প্যান ও একটি অস্থায়ী স্প্যান বসানো হয়েছে।

আর আজ মাঝপদ্মায় (মাওয়া ও জাজিরা) বসানো হলো আরো একটি অস্থায়ী স্প্যান। শুক্রবার (৩ মে) স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ফণির কারণে তা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

জাজিরা প্রান্তে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। এর প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। দেড় মাস পর ১১ মার্চ এ প্রান্তে ধূসর রংঙের তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। দুই মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান।

এক মাস ১৬ দিনের মাথায় পঞ্চম স্প্যানটি বসে ২৯ জুন। তারপর ছয় মাস ২৫ দিনের মাথায় ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি বসে ষষ্ঠ স্প্যানটি। এর ২৮ দিনের মাথায় ২০ ফেব্রুয়ারি বসে সপ্তম স্প্যানটি। এর একমাস পরে ২২ মার্চ বসে অষ্টম স্প্যানটি।

নবম স্প্যান বসানোর ১৯ দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বসে দশম স্প্যানটি। এর ১৩ দিনের মাথায় ২৩ এপ্রিল বসে একাদশ স্প্যান। আর মাওয়া প্রান্তে একটিমাত্র অস্থায়ীভাবে স্প্যান বসানো হয় ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর।

পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)।

বিজনেস আওয়ার/০৬ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: