ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

জামিন নয় খালেদার প্যারোল বিবেচনা করবে সরকার

আপডেট : 2019-05-08 13:19:30
জামিন নয় খালেদার প্যারোল বিবেচনা করবে সরকার

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া না–পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। কোন প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্তি পেতে পারেন, তা নিয়েও আসছে নানা মত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন।

তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, জামিনে মুক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসার মতো কোনো ধরনের সমঝোতা বিএনপি চেয়ারপার্সন বা দলের নেতাদের সঙ্গে সরকারের হয়নি। তবে খালেদা জিয়া কোনো কারণ দেখিয়ে প্যারোলে মুক্তি চাইলে সরকার বিবেচনা করে দেখবে।

আওয়ামী লীগের দুজন নেতা ও দলটির সমর্থক একজন আইনজীবী বলেছেন, দুটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনের কারাদণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের কোনো হাত নেই। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হওয়া এ দুটি মামলা আওয়ামী লীগের আমলে পরিচালিত হয়েছে।

মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। রাষ্ট্র ও দুদক শুরু থেকেই এই সাজার পর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করছে। আদালত কখনো জামিন দিচ্ছেন। আবার অন্য মামলায় জামিন না হওয়ায় খালেদা জিয়া কারারুদ্ধই থেকেছেন।

সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ ও সরকার এটাই বলে আসছে। এখন হঠাৎ করে জামিন বিষয়ে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা যাবে যে খালেদা জিয়াকে এত দিন জামিন না দেওয়াটা সরকারের কারণেই হয়েছে।

ধীরে মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মাবে যে বিএনপির চেয়ারপারসনের জেল হওয়াটাও সরকারের ইচ্ছায় হয়েছে। এটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে। এই মুহূর্তে সরকার বা দল এমন কোনো চাপে পড়েনি যে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে ছাড় দেবে।

সরকার জামিনের ব্যাপারে বিরোধিতা করেই যাবে। এখন আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটা অন্য ব্যাপার। বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কোনো চিন্তা এখনই সরকারের মধ্যে নেই। তবে প্যারোলের ব্যাপারে সরকার কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

ওই দুই নেতা বলেন, প্যারোলের ব্যাপারে সরকারের অনমনীয় অবস্থান এবং জামিনের ব্যাপারে সরকারের ‘কিছু সীমাবদ্ধতার’ বিষয়টি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মৌখিকভাবে জানানোও হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া একজন রাজনৈতিক নেতা। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির প্রধান। তিনি দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এটা ঠিক। কিন্তু তাঁর মুক্তির ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও জরুরি।

বিএনপি এখন পর্যন্ত সরকারের ওপর এমন কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি যে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পর্দার আড়ালে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওই নেতার মতে, মুক্তি চাইলে বিএনপিকে বা খালেদা জিয়াকে নমনীয় সিদ্ধান্তই নিতে হবে।

অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁরা চান খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পান, অন্য কোনোভাবে নয়। যে মামলায় যেভাবে তাঁকে বন্দী করে রাখা হয়েছে, সেটা অন্যায়।

জামিন পাওয়াটা তাঁর অধিকার। তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর সঙ্গে দলের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে বিএনপির নেতাদের দুই দফা বৈঠকে জামিন ও প্যারোলের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে জামিনের বিষয়টিকে আদালতের ব্যাপার আর প্যারোলে মুক্তি চাইলে আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে থাকা বিএনপির এক নেতা বলেন, আমরা বলতে চেয়েছি, সরকারের বিরোধিতার কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। সরকার যেন জামিনের বিরোধিতা না করে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কখনোই কোনো সাড়া পাইনি।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে তাঁর সঙ্গে দুবার দেখা করেছেন। সেই আশ্বাস তাঁদের দেওয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা জানেন, জামিন হওয়া না–হওয়া আদালতের বিষয়। আর প্যারোলের ব্যাপারে তো বলছি, আবেদন পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন বা তাঁর পরিবারের কেউ তো আবেদন করেননি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, সরকারের খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে দেবে না। নিত্যনতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক রাখবে। বিএনপির এই নেতা খালেদার প্যারোলে মুক্তির কথা বলে বিএনপিতে সমালোচনার মুখে পড়েন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের কারাগারে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় হয় তাঁর।

পরে হাইকোর্টের রায়ে এই মামলায় সাজার মেয়াদ বেড়ে ১০ বছর হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও তাঁর ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি দাবিতে তাঁর দল তখন থেকেই আন্দোলন করে আসছে।

নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেও এই দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকারকে চাপে ফেলতে পারেনি তারা।

বিজনেস আওয়ার/০৮ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: