ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

দুর্বৃত্তদের কবলে এসডিএস খামার

‘‘মসজিদ আছে কিন্তু নামাজ পড়ার কেউ নেই!’’

আপডেট : 2019-05-08 17:45:28
‘‘মসজিদ আছে কিন্তু নামাজ পড়ার কেউ নেই!’’

বিজনেস আওয়ার (টাঙ্গাইল প্রতিনিধি) : “মসজিদ আছে কিন্তু নামাজ পড়ার জন্য কোন মুসুল্লি নেই। মুয়াজ্জিন নেই, তাই আযানও হয় না। বয়ানের সুমধুর সুর ধ্বনিত হয়না মসজিদ প্রাঙ্গণে। কারণ; নেই কোন ঈমাম।” ভগ্নদশা হয়ে হাজারো মুসুল্লির কলরবকে বুকে ধারণ করে বিরাণ ভূমিতে আজও স্বগর্বে দাড়িয়ে আছে ভগ্ন প্রায় মসজিদটি। মসজিদের ভেতরে চলে জুয়া আর মাদকসেবীদের জমজমাট আড্ডা। স্থানটি দেখভাল করার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকলেও জায়গাটি পরিদর্শন করা ছাড়া আর কিছুইকরার থাকে না তার।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী, কাতুলী ও দাইন্যা ইউনিয়নের সংযোগস্থল চর ফতেপুর গ্রামে অবস্থিত ‘এসডিএস বাংলাদেশ’ এনজিও সংস্থার নিজস্ব প্রকল্পের মসজিদ এটি। সম্প্রতি ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে তিনশ একর জায়গার প্রায় পুরোটাই বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

এই জায়গার বিভিন্ন অংশ থেকে দুর্বৃত্তরা ট্রাক ভরে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। যে সকল স্থাপনা ছিল তার কিছুই নেই। ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ভাই মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এসডিএস প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমার ভাই ২০০২ সাল থেকে একটানা আট বছর জেল হাজতে ছিলেন। এরপর ছাড়া পেলেও তাকে আবার এই খামারের সাবেক ম্যানেজার মজিবর রহমান ও তার সঙ্গী হীরা এবং ফরহাদসহ কতিপয় দুস্কৃতকারী কৌশলে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ২০১৭ সাল থেকে আজ অব্দি সিরাজীকে জেলে আটকে রেখেছে। তারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। এখানকার মাটি বিক্রির টাকা বন্টন হচ্ছে
বিভিন্ন দপ্তরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এই খামারে ছিলো উন্নত জাতের শতাধিক বিদেশী গাভি। মৎস প্রজননের জন্য তৈরি করা হয় হ্যাচারী, ছিলো দৃষ্টি নন্দন বিনোদন পার্ক। অসংখ্য ফুল ও ফলজ গাছের সমাহার। বর্তমানে ওই স্থানের চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, অবশিষ্ট হিসেবে রয়েছে কিছু কাঁঠাল ও নারিকেল গাছ আর ভঙ্গুর প্রায় মসজিদটি।

অনেকগুলো পুকুর থাকলেও তা মাছ চাষের উপযোগী নেই। পুরো জায়গাটি এখন স্থানীয় লোকদের গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানটির প্রায় মাঝ বরাবর টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদের পাশের ওযুর জন্য তৈরি করা বিশেষ ব্যবস্থাগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। চারপাশে কেবল জঙলি গাছ আর ঘাস। অথচ এই জায়গাতেই একসময় শতশত কর্মজীবি লোকের কর্মমুখর পরিবেশ ছিল।

প্রায় এক ঘন্টা অবস্থানকালে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের ৫/৬ জন লোক মসজিদের কাছে আড্ডায় মত্ত। স্থানীয়রা জানালেন, তারা জুয়ারী ও মাদকসেবী। সেখানে গরু চড়াচ্ছিলেন চর ফতেপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খামার আলারা চলে যাবার পর এই স্থানে যা কিছু ছিল তার সবই চুরি হয়ে গেছে। এখন এই জায়গাতে গরু, ছাগল চড়ানো হয়। ঝড় বৃষ্টিতে গরু ছাগলের আশ্রয়স্থল হয় মসজিদটি। অন্যান্য জিনিসের সাথে মসজিদটির কিছু অংশও চুরি হয়ে যায়। পরে আবার তা সংস্কার করা হয়। এখন নেশাখোঁর আর জুয়াড়ীদের নিরাপদ স্থান এটি।

আলেম ব্যক্তিরা বলেন, একবার মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলে তা কোনভাবেই ধ্বংস বা ভেঙে ফেলা যাবে না। মসজিদটিকে স্থানান্তরিত করা হলেও জায়গাটি সংরক্ষণ করতে হবে।

মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে উপস্থিত হয় ওই জায়গাটির তত্ত্বাবধায়ক মো. আজাহার আলী। তিনি জানান, এই জায়গার মালিক আমার চাচা ইসমাইল হোসেন সিরাজি। নানা উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়ে তিনি এখানে একটি প্রকল্প শুরু করেছিলেন। ২০০২ সালে একটি মহলের রোষানলে পড়ে সবকিছুই উলট-পালট হয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা সবকিছুর সাথে সাথে এই মসজিদের টিনের বেড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে যায়। পরে আবার তা মেরামত করা হয়। বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা পুণরুদ্ধারসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে খুব শীঘ্রই এখানে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

হয়তো একসময় আবারও শত শত মুসুল্লির আল্লাহ আকবর ধ্বনিতে মুখরিত হবে মসজিদটি। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে পুরো এলাকা। এই খামারের কর্ণধার এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন বলে জানালেন তিনি।

বিজনেস আওয়ার/৮মে ২০১৯/ আরআই

পাঠকের মতামত: