ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

জোট ভাঙনের মুখেও নিশ্চুপ বিএনপি

আপডেট : 2019-05-09 11:44:08
জোট ভাঙনের মুখেও নিশ্চুপ বিএনপি

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন পরও সংসদে যোগ দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ জোটের শরিকরা। উভয় জোটেরই নেতাদের অভিযোগ, শপথ নেওয়ার প্রশ্নে বিএনপি তাদের কারোর সঙ্গেই আলোচনা করেনি।

এ অবস্থায় গত সোমবার (৬ মে) ২০ দলীয় জোট ছাড়েন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। বৃহস্পতিবার (৯ মে) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে পারেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

এছাড়া ২০ দলীয় জোটের একাধিক নামসর্বস্ব দলের নেতারাও জোট ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ‘সরকার বিরোধী জোট’ ভাঙনের মুখে পড়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতেও নিশ্চুপ বিএনপি। শরিকদের ধরে রাখার কোনও চেষ্টাও নেই তাদের।

সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচনের পর বিএনপি দলীয়ভাবেই নানামুখী সংকট মোকাবিলা করছে। নির্বাচিত ছয় এমপির মধ্যে জাহিদুর রহমান জাহিদ দলের নির্দেশনা না মেনেই শপথ গ্রহণ করার পর মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকি চারজন এমপি শপথ নিতে অনড় অবস্থান গ্রহণ করায় হাইকমান্ড শপথ গ্রহণের অনুমতি দেয়।

এরপরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। শপথগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে বিএনপিকে, তা শরিকদের অজানা থাকার কথা নয়।

বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে নানা ধরনের সংকটের মধ্যে আছে, এ বিষয়টিও শরিকরা জানেন। সেদিক থেকে বিএনপি কোনও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। এ কারণে ফ্রন্ট বা জোটের যেকোনও শরিক বিএনপিকে ছেড়ে যেতে চাইলে বাধা দেওয়ার কোনও চেষ্টা করা হবে না।

গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ শরিক হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। আজ (৯ মে) বৃহস্পতিবার তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
এদিনই ফ্রন্ট ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন তিনি।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, কাদের সিদ্দিকীর ফ্রন্ট ছেড়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মির্জা ফখরুল ও কাদের সিদ্দিকীসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে কিছু করণীয় নেই বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, রাজনৈতিকভাবে পুরো বিরোধী শিবিরে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা থেকে বের হতে আরও সময় লাগবে। এই মুহূর্তে যেসব দল বা ব্যক্তি জোট বা ফ্রন্ট ছেড়ে যাচ্ছে, তাদের ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেবে না বিএনপি।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, যেকোনও বিষয়েই কিছু বলতে হলে আগে দলের পলিসি ঠিক করতে হয়। আমরা বসবো। এরপর বলা যাবে ঠিক কী করবো। আর চলে যায়, তারা যাওয়ার। এখানে পরিস্থিতি কী, তা সবাইকে বুঝতে হবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, আগামী শনিবার (১১ মে) স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করতে পারেন। ওই বৈঠকে বিষয়গুলো উঠবে। এরপর বলা যাবে দলের দৃষ্টিভঙ্গি কী।

বিএনপির একাধিক সূত্র মনে করে, জামায়াতকে নিজ উদ্যোগে চলে যাওয়ার পথ তৈরি করতেই জোটকে আলোচনায় রাখা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিকল্প চিন্তা শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

জোটের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের নেতা, ঐক্যফ্রন্ট ও বাইরের আরও একাধিক দলের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফরম করার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে।

জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে ২০ দলের গুরুত্ব কমতে থাকে। এরও কারণ আছে। ২০ দলে এমন কিছু দল আছে যা নামমাত্র। বিএনপি এটাকে সংখ্যাতাত্ত্বিক জোট রেখেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক একটি দলের সভাপতি বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে তিনি বলেন, দল হিসেবে তাদের রাজনীতি করতে হলে আগে রাজনৈতিক পলিসি ঠিক করতে হবে।

পরিস্থিতি আমাদের সামনেই ঘটছে। কিন্তু নিজেদের আগে পরিস্কার হয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসা উচিত বৈঠকে। এতে করে দৃশ্যমান যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা দূর হতে সাহায্য করবে।

বিজনেস আওয়ার/০৮ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: