ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

গরমের রোজায় সুস্থ থাকুন...

আপডেট : 2019-05-11 15:44:32
গরমের রোজায় সুস্থ থাকুন...

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। একমাসের এই সিয়াম সাধনা মুলত সংযমের শিক্ষা গ্রহণ। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই সংযম শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

রোজা মানেই হচ্ছে সুর্যোদয় থেকে সুর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত পানাহার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ । আবার সুর্যাস্তের পর থেকে সুর্যোদয় পর্যন্ত খাবার এবং পানীয় গ্রহণ করা যাবে । এর মানে হলো এগার মাস আমাদের শরীর যে নিয়মে ভিটামিন, মিনারেল,ক্যালরি,ফ্যাট গ্রহন করতো এই একমাস তা ভিন্ন সময়ে বর্তাবে।

এই সময়ের ভিন্নতায় খাদ্য গ্রহন এবং গ্রহন না করাতে আমাদের শরীর কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্ত যদি আপনি খাদ্য তালিকা সঠিক ভাবে মেনে চলেন তবে তা আত্মসংযমের পাশাপাশি আপনার শরীর ডিটক্সিকেশন থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত সহায়তা করবে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা রাখার ফলে ব্লাড কোলস্টরোল এবং ট্রায়গ্লিসেরিডস (রক্তের ফ্যাট) কিছু ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছে। যদিও আরো কিছু গবেষণায় রোজার ইফেক্টের জন্য তা হয়েছে অস্বীকার করা হয়েছে ।

আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রোজা রাখার ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বেশ শক্তিশালী হয়েছে, স্বল্পকালীন সময়ের জন্য । এই ব্যাপারে এখনো রিসার্চ চলছে এবং এখনই স্বিদ্ধান্তমুলক কিছু বলা যাচ্ছে না।

তার পরেও রমজানের কারণে অনেকেই নিয়মতান্ত্রিক খাবার পানীয় গ্রহণ করেন এবং তা মানব শরীরের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। সেই ইতিবাচক ফলাফল পেতে হলে রোজাদারকেও তার খাদ্য তালিকা নিয়ে কিছু ইতিবাচক মনোভাব দেখানো দরকার হবে ।

শুধু মাত্র রসনা আর জিভের আরাধনা যদি হয় রোজার মাসের নিয়মিত চর্চা, তবে রোজা আত্মসংযম না হয়ে আত্মঘাতী রুপে দেখা দেবে । কেমন হওয়া উচিৎ রোজাদারের সেহেরী এবং ইফতার ? চলুন সেই নিয়ে কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করি।

সেহেরী:
প্রচুর পরিমাণ তরল (ফ্লুইড), তরল সমৃদ্ধ খাবার রাখুন সেহেরীতে । মনে রাখবেন রোজার মধ্যে আপনার শরীর পানি শুন্য হবার সবচেয়ে বেশি সম্ভবনা । বিশেষ করে এবারের রোজা যেহেতু গরমে তাই আপনাকে প্রথমেই শরীরের হাইড্রেশন নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

হাই ফাইবার হোল গ্রেইন জাতিয় খাবার রাখুন সেহেরীতে। এতে করে দীর্ঘ সময় আপনার শরীর কার্বোহাইড্রেটের যোগান পাবে কারণ এই ধরনের খাবার হজম হয় খুব ধীর গতিতে। উদাহরণ হিসেবে বলি ওটসের পরিজ। এই হোল গ্রেইন খাবারে প্রচুর ফ্লুইড থাকে যা বাড়তি পাওনা।

হাই ফাইবার ব্রেকফাস্ট সেরেয়াল দুধ দিয়ে সঙ্গে শুকনো ফল মিশিয়ে খেতে পারেন । এতে হাই ফাইবারের পাশাপাশি থাকে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেলস, প্রচুর সিলেক্টেড পুষ্টি। যেহেতু সেরেয়াল দুধ দিয়ে খাওয়া হয় তাই ফ্লুইডের কাজ করে, ক্যালসিয়াম থাকে প্রচুর, আর থাকে আয়োডিন এবং বি ভিটামিন।

সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন যাদের ডিমের অরুচি নেই বা ডাক্তারের বাড়ন নেই। সেহেরীতে ভাতের পাশাপাশি কুসকুস ট্রাই করতে পারেন, এতে শরীরের সহ্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে নিশ্চিত । দুধ বা দুধজাত খাবার অবশ্যই রাখবেন সেহেরীতে।

যদি ভাত খেতে অনাগ্রহ জাগে তবে আটা বা ময়দার রুটি, চাপতি খেতে পারেন। লবন বা লবানাক্ত খাবার এভোয়েড করবেন। লবন তৃষ্ণা জাগায় । চিজ, পনির, প্রিজার্ভ মাংস সেহেরিতে উত্তম । ডাল দিয়ে নানা ভাবে স্যুপ করে খেতে পারেন, এতে কার্ব এর সঙ্গে সঙ্গে এক্সট্রা ফ্লুইড পাবে শরীর।

ইফতার:
ইফতারে যে বিষয়টা সবচেয়ে জরুরী তা হচ্ছে পানীয় এবং সুগার। প্রচুর খাবার এবং পানীয় পান করলেও মনে রাখতে হবে যে সেই সব খাবার বা পানীয়তে যেন ন্যাচারাল সুগারের আধিক্য থাকে নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

সারাদিন শরীরের কোনো সুগার এবং ক্যালরি না যাওয়াতে হঠাৎ আর্টিফিসিয়াল সুগারের আধিক্যে শরিরে সুগার ইম্ব্যালান্স তৈরি করতে পারে । এর ফলে মাথা ধরা, আলসেমি বা ঘুমঘুম ভাব হতে পারে । খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা খুবই উত্তম । নবী করীম (সা.) তাই করতেন ।

সুন্নততো অবশ্যই এছাড়াও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু খুবই বৈজ্ঞনিক, কারণ খেজুরে আছে প্রচুর ন্যাচারাল সুগার আর ক্যালোরি, যা সারাদিনের উপবাসে শরিরের জন্য খুবই দরকারি । খেজুরে আরো আছে নানা খনিজ উপাদান যেমন, কপার,পটাসিয়াম, ম্যাংগানিজ ।

এর বাইরে ফ্রুট জ্যুস, দুধ, স্মুথি, শরবত এবং প্রচুর পানি খাবেন ইফতারে। প্রচুর ফল খেতে পারেন। ফলে প্রচুর ভিটামিন এবং খাদ্যগুণ থাকে, আর থাকে প্রচুর ফ্লুইড। দেশি বাংগি, তরমুজ রোজাদারের জন্য খুবই উপকারী।

ইফতারে একটু স্যুপ রাখতে পারেন । আরবের রুক্ষ আবহাওয়ায় যেখানে দ্রুত শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায় সেখানে মাংসের কিমা, নানা রকম শষ্যদানা, ডাল, সিমের বিচি এমনকি পাস্তা মিশিয়ে স্যুপ বানিয়ে ইফতারে সার্ভ করে। এটা খুবই উপকারী।

সারাদিনের সংযমের পর স্বাভাবিক আপনার নিজের কাছেই সব কিছু খুবই সুস্বাদু লাগবে এবং খেতে চাইবেন, তবে যদি নিজের শরিরের সুস্থতা চান, দয়া করে তৈলাক্ত এবং অতিরিক্ত অপ্রাকৃতিক সুগারের খাবার থেকে দূরে থাকুন।

যেহেতু রমজানের সময় আপনার খাবার সময় এবং পরিমাণ আপনি অন্য সময়ের চাইতে ভিন্নভাবে মেন্টেইন করবেন, তাই কোন খাবারটা আপনাকে স্যুট করবে তা আপনাকেই ভালোভাবে ভেবে বের করতে হবে।

এর বাইরে কেউ যদি কোনো ধরনের অসুস্থতায় ভুগেন এবং রোজা রাখেন, তার ক্ষেত্রে ডাক্তার বা নিউট্রিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। আর একটা উপদেশ, যদি আপনি আপনার অসময়ের খাবারের দরুন হজমের অসুবিধায় পরেন, তবে হালকা ব্যায়াম করে দেখতে পারেন।

নামাজ এই ক্ষেত্রে খুবই ভালো ব্যায়াম, তাই মহান আল্লাহর আদেশের জন্য যেমন তেমন সুস্থ থাকতেও নামাজ আদায় করুন। সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা।

বিজনেস আওয়ার/১১ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: