ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

রাজনৈতিক চাপ নেই, স্বস্তিতে আ. লীগ

আপডেট : 2019-05-13 12:45:28
রাজনৈতিক চাপ নেই, স্বস্তিতে আ. লীগ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং জোটের কোনো ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। তাই অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির ও দলটির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি এবং আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

যদিও পরবর্তিতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচি লক্ষ্য যায়নি। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলেও এ জোট থেকে বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত ৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া সবাই শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অভ্যন্তরণী সংকটও তৈরি হয়েছে। ২০দল থেকে শরিকদলগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ভাঙনের মুখে।

এদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জোটের এ সংকট সরকার ও আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক। জোটের শরিক দলগুলো আদর্শ ও নীতিহীন রাজনীতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন।

নীতি আদর্শহীন রাজনীতির কারণে বিরোধী জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো আন্দোলনের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার ও আওয়ামী লীগ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জোট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সঠিক পথে চলছে না বলে ওই দলটির অভিযোগ।

কাদের সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলন করে এ আল্টিমেটাম দেন। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে চিঠি দিয়ে এ আল্টিমেটামের বিষয়ে জানানো হয়েছে। এ জাতীয় ঐক্যফন্টের প্রধান শরিক দল হচ্ছে বিএনপি।

সম্প্রতি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে আন্দালিভ রহমান পার্থর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি। বিএনপি এবং ঐক্যফন্টের সঙ্গে মত বিরোধের কারণে বিজেপি গত ৬ মে ২০দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

গত নির্বাচনের আগে ২০দল থেকে বেরিয়ে যায় বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়েও বিএনপির মধ্যে মতোবিরোধ রয়েছে। আবার ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামের মধ্যেও নেতাদের মতবিরোধী চলছে।

গণফোরাম আবারও ভাঙতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উভয় জোটেই অভ্যন্তরীণ সংকট তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের পর সরকারি বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলতে শোনা গেলেও বর্তমানে জোট ও দলগুলো অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে।

এদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোট নামে সরকার বিরোধী অপর জোট গত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। এ জোটের পক্ষ থেকেও নতুন নির্বাচনসহ বেশকিছু দাবি জানানো হয়। তবে চলমান ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকলেও এ জোটও সরকারের বিরোধী কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আদর্শহীন কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট বেশি দিন টিকে থাকার কথা না। বিএনপি একটি আদর্শহীন দল, বিএনপি যে জোটে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, সেটিও আদর্শহীন জোট।

এ জোট ভাঙবে, জোট থেকে দলগুলো বেরিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলোর মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করছে। বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি। তাকে দিয়ে বিএনপি বা জোট পরিচালিত হবে এটাই তো একটা হাস্যকর ব্যাপার।

যাদের মধ্যে ন্যূনতম বিবেক, রাজনৈতিক চেতনা রয়েছে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি বহুবার আন্দোলনের কথা বলেছে, হুমকি দিয়েছে। এটা নিয়ে এখন আর আমাদের মাথা ব্যাথা নেই।

বিজনেস আওয়ার/১৩ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: