ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ধ্বংশের মুখে গণিতশাস্ত্রবিদ কেপি বসুর বাড়ি

আপডেট : 2019-05-13 13:02:55
ধ্বংশের মুখে গণিতশাস্ত্রবিদ কেপি বসুর বাড়ি

রাজিব হাসান, ঝিনাইদহ : বাংলার বিখ্যাত গণিতবিদ কালীপদ বসু (কেপি বসু) স্বৃতি বিজাড়িত জন্মভুমি ঝিনাইদহের হরিশংকরপুরের প্রাসাদোতম বাড়িটি আজ অযন্তে অবহেলায় ধংসের মুখে। দিনে দিনে তার এক মাত্র স্মৃতি চিহ্নটি দখল হতে চলেছে।

বহমান নবগংগার স্থলে কেপি বসুর কৈশর ও যৌবন ভেসে গেছে । শুধু নদী তীরের বয়সী বট ও কালের স্বাক্ষী কাঠ বাদামের গাছ কেপি বসুর স্মৃতি চিন্থকে বক্ষে ধারণ করে আজও ঠাই দাড়িয়ে আছে । তবুও দর্শনীয় ঐতিহাসিক এই ব্যাক্তিটির স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারী -বেসরকারী কোন উদ্দোগ নেই।

তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলার এই বিখ্যাত গণিতবিদ কালীপদ বসু (কেপি বসু) ১৮৬৫ সালে ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মহিমাচরন বসু হলিশংকরপুর রেজিষ্ট্রি অফিসের একজন ভেন্ডার ছিল। তার পুর্ব পুরুষেরা বরিশাল থেকে হরিশংকরপুরে বসতি স্থাপন করেন।

কেপি বসুর শিক্ষা জীবনের সুচনা হয় নিজ গ্রামের পাঠশালায়। গ্রামের পাঠশালায় মেধাবি শিক্ষক নছীম মন্ডলের কাছে কে পি বসুর বাল্য শিক্ষা শুরু হয়। পরে সে কলকতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখা পড়া শেষ করে তিনি ১৮৯২ সালের দিকে ঢাকা কলেজে গনিত শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন।

অমৃত্যু ঐ কলেজের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। অল্প দিনেই তিনি শিক্ষক হিসাবে সুনাম অর্জন করেন। শিক্ষাকতা জীবনে তিনি পাঠ দানের মধ্যেই নিজের কর্মকান্ডকে সিমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি “আধুনিক এ্যালজাবরা ” বইটির অধ্যায়ন ও অনুশিলনের পথকে সুগম ,প্রাঞ্জল ও সহজ করে তোলেন।

এছাড়া তিনি অসংখ্য নতুন অংক উদ্ভাবন করে এ শাস্ত্রের কলেবর বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ সাধন করেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনার পাশা-পাশি কলকতায় কেপি বসু পাবলিশিং কোম্পানি প্রতিষ্টা করেন যা ৪২,বিধান স্বরনি কলকতায় বিদ্যমান রয়েছে।

উপযুক্ত বয়সে কেপি বসু স্বগ্রামের অনিন্দ্য সুন্দুরী ধুমধামের মধ্যে দিয়ে শেথমালা ঘোষকে বিবাহ করেন। ব্যাক্তিজীবনে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে মেধা অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বলে তিনি প্রতিষ্ঠিা অর্জন ও প্রভুত অর্থের মালিক হয়েছিলেন।

আর তিনি সেই অর্থেই ১৯০৭ সালে তিনি নিজ গ্রাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের নবগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে নয়নাভিরাম এক প্রাসাদোতম ভবন নির্মান করেন। যেটি দেখার জন্য আজও প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী সেখানে ভিড় করে।

কিন্তু সেই ভবনটি আজ রক্ষনা- বেক্ষনের অবাবে জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। একটি মহল সেটি কৌশলে দখল করা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু 'এ্যলজবরা মেডইজি', 'মডার্ণ জিওমেট্রি', 'এন্টারমিডিয়েট সলিড জিওমেট্রি' প্রণেতা এই ঐতিহাসিক ব্যাক্তিটির এক মাত্র স্মৃতিটি রক্ষায় কারো কোন নজর নেই।

অধ্যাপনার সাথে সাথে তিনি এ্যালজাবরা ও জ্যামিতি শাস্ত্রের গবেষনা চালিয়ে যান। তার ঐকান্তিক সাধনায় 'এ্যলজবরা মেডইজি', 'মডার্ণ জিওমেট্রি', 'এন্টারমিডিয়েট সলিড জিওমেট্রি' প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণিত হয়।

১৯১৪ সালে পার্র্নিসাস ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃতদেহ ঝিনাইদহ এসে পৌছালে ঝিনাইদহের সকল অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যায়।

তার মৃত্যু সংবাদে শোকাভুত হাজার হাজার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঝিনাইদহ নবগঙ্গা নদীর তীরে উপস্থিত হয়। পরে মৃতদেহটি চুয়াডাঙ্গার হয়ে কলকতা নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে নিমতলার শ্নশানে শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়।

তার নাম রক্ষায় শুধু ঝিনাইদহ শহরে তাঁর নামে একটি ব্যাস্ত সড়কের নাম করন করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছে, তার স্মৃতি রক্ষার্থে এই বাড়িটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।

হরিশংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জ্মান ফরিদ জানান, গণিত শাস্ত্রবিদের বাড়িটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি থাকার সময়ে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম যে সংস্কার করলে তার ইতিহাস ধরে রাখা সম্ভব।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম হোসেন জানান, আমি পরিষদে বসার পরে তার শেষ সম্বলটুকু রক্ষার জন্য যেটা করণীয় সেটা করার জন্য আমি জনগণ নিয়ে উদ্যেগ নিব।

তবে এলাকাবাসীর আরও দাবি করেন যে, কেপি বসুর স্বৃতি রক্ষার্থে তার একমাত্র স্মৃতি হরিশংকরপুরের বাড়িটি সরকারীভাবে সংস্কার করে সেটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিনিত করা হোক।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার জানান, কেপি বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে তার বাড়িটি সংস্কার করে একটি দর্শনিয় স্থানে পরিনিত করার পরিকল্পনা তাদের আছে। কিন্তু অর্থ বরাদ্ধের অপ্রল্যুতার কারনে সেটি সম্ভব হয়ে উঠছে না ।

বিজনেস আওয়ার/১৩ মে, ২০১৯/আরএ/এ

পাঠকের মতামত: