ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

সব বাড়তির মধ্যে কমেছে পেঁয়াজের দাম

আপডেট : 2019-05-15 11:38:30
সব বাড়তির মধ্যে কমেছে পেঁয়াজের দাম

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : রমজান শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় কমেছে অতি প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। কেজি প্রতি ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। যা রমজানের শুরু থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডাল, ছোলা, কাঁচামরিচ, চিনি, মাছ ও মাংস। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের দাম। তবে দীর্ঘদিন পর বাজারে পেঁয়াজ ও সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

বাজারভেদে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সোমবারও ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর আমদানিকৃত প্রতিকেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ টাকায়। যা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ২৮ টাকায়।

তবে বেড়েছে রসুনের দাম। গত সপ্তাহে রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা আগের দামে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর বাজারে সবজির দাম কমেছে। এখন বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। যা সোমবারও ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসেবে একদিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে।

দাম কমা সবজির মধ্যে মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা। সোমবার ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধুন্দুল আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পেঁপে ৫০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, লেবু হালি মানভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে সজনে ডাটা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাল শাক, পালং শাক ১০ থেকে ২০ টাকা, পুঁই শাক ও ডাটা শাক ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী বলেন, আজ থেকে মোকামে পেঁয়াজের দাম কমেছে। তাই আমরাও ৫ টাকা কমে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। একইসঙ্গে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে সবধরনের সবজির দাম। তবে কিছুদিনের মধ্যে সবজির বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নতুন সবজি এলে এমনিতেই দাম কমে যাবে।

এক মাংস ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহে আমরা গরুর মাংস ৫৫০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। এখন সরকার ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে আমাদের লাভ কম হয়। এজন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ দামে বিক্রি করলেও বিকেলে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করি।

আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্য। বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাউর চাল ৯০ থেকে ৯৫, খোলা ময়দা ২৮ টাকা, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

টানা দুই সপ্তাহ দাম কমার পর ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়। মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়।

ডিমের পাশাপাশি অপরিবতির্ত রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। রুই, কাতলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০, আইড় ৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০, বেলে মাছ প্রকারভেদে ৭০০ টাকা, বাইন মাছ ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ টাকা।

পুঁটি ২৫০ টাকা, পোয়া ৬০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৬০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি।

এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক মাস ধরেই মাছের দাম চড়া। এবার মাছের দাম সহসা কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। কারণ এবার বৃষ্টি খুব একটা হয়নি। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। আর এ মৌসুমে সবসময়ই মাছের দাম চড়া থাকে।

বিজনেস আওয়ার/১৫ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: