ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

পোশাক কারখানায় অসন্তোষ ঠেকাতে সরকার প্রস্তুত

আপডেট : 2019-05-16 10:33:37
পোশাক কারখানায় অসন্তোষ ঠেকাতে সরকার প্রস্তুত


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঈদ এলেই বেতন বোনাসের দাবিতে প্রতিবছরই তৈরি পোশাক কারখানায় অসন্তোষ দেখা দেয়। যা দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাপশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ বছর আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।

ইতোমধ্যেই তৈরি পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত ঢাকার আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের মনিটরিং। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও শিল্প পুলিশও।

ঈদের আগে শ্রমিকরা যেন সুষ্ঠুভাবে বেতন-বোনাস পান, সেজন্য সরকার ও বিজিএমইএ একসঙ্গে অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর আওতায় ঢাকাকে ১৫টি জোনে ভাগ করে জোনভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম কাজ করছে।

এর বাইরে সরকার গঠিত আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ঢাকার আশুলিয়া ও টঙ্গীতে এ ধরনের কয়েকটি কারখানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বেতন বোনাসের দাবিতে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া, সাভার ও টঙ্গী এলাকার কিছু গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের ঈদেও রাজধানীর আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কিছু তৈরি পোশাক কারখানা মালিক তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন।

এর ফলে শ্রমিকরা ঈদের আগেই বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম নামতে পারেন। ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের অন্য একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদন পাওয়ার আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশসহ কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। শ্রমিকরা যেন কোনও ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিকদেরও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানা মালিকদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নির্ধারতি সময়ে ঠিকমতো পরিশোধ করতে বলেছে বিজিএমইএ।

এ বছর মে মাসের বেতনের সঙ্গে দিতে হবে ঈদের বোনাস। ফলে মালিকদের ওপর এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এই সময়ে সব কারখানায় কাজ কম থাকবে। তারপরও যেকোনও ধরনের অসন্তোষ ঠেকাতে মালিকদের এই চাপ সামলাতে হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছি। কারখানা মালিকদের নির্দেশনাও দিচ্ছি। কোনও ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা নেই। তারপরও আমাদের তৎপরতা রয়েছে।

মালিকদের বলেছি, আগে থেকেই যেকোনও ধরনের সংকট নিরসন করতে। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে যে দেশের সব গার্মেন্টস কারখানা বিজিএমইএর সদস্য নয়। তাই সব কারখানার দায়িত্ব বিজিএমইএ নিতেও পারবে না।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, এলাকায় কোনও ধরনের শ্রমিক আন্দোলন নেই। গার্মেন্টস কারখানাগুলো তাদের শ্রমিকদের পাওনা কী মিটিয়েছে, কী মেটায়নি, তা পুলিশের জানার কথা নয়। আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি পুলিশের নজরে আছে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে পুলিশ।

এ বিষয় বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দর্জির দোকানকেও এখন গার্মেন্টস বলে পরিচয় দেওয়া হয়। এমন অনেক কারখানা আছে, যেগুলো বিজিএমইএ-এর সদস্য নয়।

সারাদেশের এসব কারখানা বা দর্জির দোকানের মালিকরা তাদের শ্রমিকদের কীভাবে ম্যানেজ করে বা চালায়, সে সবের দায়িত্ব তো আর বিজিএমইএ নেবে না। নিতে পারবেও না।

এ ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষই এ সব পোশাক কারখানা কীভাবে চলে বা আমরা কীভাবে কারখানা চালাই, তা জানেন না। জানতেও চান না। তারা না জেনেই এ শিল্প সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তারাই এ শিল্প সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

বিজনেস আওয়ার/১৬ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: