ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের যা করণীয়

আপডেট : 2019-05-25 14:26:50
রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের যা করণীয়

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : রোজা এলেই লাখ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মনে অসংখ্য প্রশ্ন উঁকি দেয়। অনেকে ভাবেন ডায়বেটিস রোগীদের রোজা রাখা উচিত নয়, আবার অনেকে রোজা রাখার পক্ষে।

আর ডায়বেটিস রোগীদের মনে উঁকি দেয়া প্রশ্নের মধ্যে থাকে, তারা কখন রোজা রাখতে পারবে না, রোজার কারণে কোনও ক্ষতি হবে কি না, ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট, কিডনি বা অন্য কোনও রোগ থাকলে রোজা রাখা যাবে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে ডায়াবেটিসের গবেষণায় অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগীদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।

অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ:

# রক্তে সুগারের মাত্রা যদি চারের নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এটা হলে বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, হাত-পা কাঁপা, মাথা ব্যথা, চোখে ঘোলা দেখাসহ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এমন যদি হয় যে মাঝেমধ্যেই কারো হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাহলে তার রোজা রাখা উচিত হবে না।

# এ ছাড়া টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিক রোগী, গর্ভবতী, ডায়ালিসিস গ্রহণকারী বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অসুস্থ ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখা যাবে না।

# বিগত তিন মাসে কিটোএসিডোসিসসহ ডায়াবেটিসের তাৎক্ষণিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে রোজা রাখা যাবে না।

উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ:

# অ্যাডভান্সড কিডনি রোগী, অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তি, বাসায় একা থাকে এবং ইনসুলিন নিতে হয় এমন ব্যক্তি, আগে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং এখনো জটিলতা বিদ্যমান এমন কেউ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি—এই গ্রুপভুক্ত ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রাখলে ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন। তাই তাঁদের রোজা না রাখাই ভালো।

ওপরের দুই গ্রুপের বাইরে সচরাচর ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখতে তেমন বাধা নেই। তবে কিছু বিষয়ে তাদের ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত। যেমন—

ব্লাড গ্লুকোজ দেখুন :
ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে, সাহরির ২ ঘণ্টা পরে এবং শরীর খারাপ লাগলে দিনের অন্যান্য সময় ব্লাড গ্লুকোজ মাপুন। প্রতিদিন না মাপলেও রোজার মধ্যে সপ্তাহে দু-এক দিন মাপা উচিত। গ্লুকোমিটারে স্ট্রিপ টেস্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিস মাপলে ধর্মীয়ভাবে রোজার কোনও ক্ষতি হয় না।

ইফতারে সহজ পাচ্য খাবার খান :
ইফতারে সহজ পাচ্য শর্করাজাতীয় খাবার খান, যেটা খুব সহজে হজম হয় এবং খাদ্যগুণ যেন অতিদ্রুত রক্তে মিশতে পারে। যেমন—পরিমাণ মতো মৌসুমি ফল, শরবত, ছোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন।

সাহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট :
সাহরিতে খান কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট—অর্থাৎ যে খাবারগুলো ধীরে ধীরে হজম হয় এবং খাবার ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। যেমন—ভাত বা রুটি। এসবের সঙ্গে রাখুন প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি।

ওষুধের ডোজ সমন্বয় করুন :
রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের সকালের ওষুধ (ইনসুলিন বা ট্যাবলেট) ইফতারের সময়, দুপুরের ওষুধ রাতে, আর রাতের ওষুধ সাহরিতে—এভাবে সমন্বয় করতে হয়। ওষুধের ডোজের পরিমাণ এবং ওষুধ নেওয়ার সময় পরিবর্তন বা সমন্বয়ের কাজটি নিজে নিজে না করে রোজার শুরুতেই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যায়াম নয় :
ডায়াবেটিক রোগীদের সকাল-বিকাল হাঁটাচলার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোজার সময় তারাবির নামাজই শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। তবে ইচ্ছা হলে ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

সতর্ক থাকুন:
চোখে ঘোলা দেখা, অতিরিক্ত ঘাম দেওয়া, হাত-পা কাঁপা, গলা শুকিয়ে আসা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথা ব্যথা বা ভারসাম্যহীন অনুভব করলে রক্তে সুগারের পরিমাণ চেক করুন। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৩.৯ মিলিমলের নিচে বা ১৬.৭ মিলিমলের ওপরে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলুন।

বিজনেস আওয়ার/২৫ মে, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: