ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিয়ে

এসএসএফকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : 2019-06-15 16:38:18
এসএসএফকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অপরাধগুলো প্রতিহত করতে নতুন প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সুসজ্জিত করা হবে। প্রতিদিন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন সম্পর্কে অবশ্যই আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। রিবর্তনশীল অপরাধ সম্পর্কে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে এবং এসব মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এসএসএফ অফিসার্স মেসে বাহিনীটির ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি মানুষের জীবনধারার উন্নতি করছে এবং দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করছে। অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের সঙ্গে নানা ধরনের ঝুঁকির আবির্ভাব ঘটছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধরনও ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে।

এসএসএফ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবসময় এসব (নতুন অপরাধ) মোকাবিলা করার জন্য দক্ষতা থাকতে হবে। আমাদের আপ টু ডেট (নিজেদের মেধা ও প্রশিক্ষণকে হালনাগাদ) থাকতে হবে।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছি সেদিন থেকেই যে, আমি আমার মৃত্যুকে হাতে নিয়েই ফিরে এসেছি।

বলতে গেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই এসেছি। যে কোনো মুহূর্তে হয়তো আমাকে হত্যা করা হতে পারে, মারা যেতে পারি, সেটা জেনেই কিন্তু আমি এসেছি।কেন এসেছি, তার কারণ হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যে স্বপ্নটা জাতির পিতা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে।

যে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি সুখী-সমৃদ্ধশালী করবেন। তাদের জীবন উন্নত করবেন। দুঃখ দারিদ্র্যের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেবেন। সেই চিন্তাটাই তিনি করেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা কর্তব্য হিসেবে আমি নিয়েছি।


উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সময়টুকু আমি পাবো দেশের জন্য কাজ করবো। এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয়ও করি না।

দেশি ও আন্তজার্তিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা আমাদের সমর্থন দেয়নি, তাদের নানা রকম চক্রান্ত থাকবে।

কিন্তু সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য সব সময় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতেও হবে। সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

এসএসএফের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, নানা ধরনের প্রতিকূল অবস্থা বারবার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্ত চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এইটুকু বলবো, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের এসএসএফ সব সময় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এসএসএফের আনুগত্য ও উচ্চমানের পেশাদারিত্ব- এটা আমাকে গর্বিত করেছে। দক্ষ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সব সময় সমুন্নত রেখেছে।

উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি যেমন আমাদের উন্নয়নের যাত্রাকে আরও সুন্দর ও দ্রুত করে, একইভাবে যারা অপরাধী তাদেরও সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে।

প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন সেদিক থেকেও আমাদের সব সময় যুগোপযোগী থাকতে হবে। প্রযুক্তিকে যেন আমরা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। আর মন্দ কাজে যারা ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারি।

তিনি বলেন, এসএসএফ এর মতো একটা প্রতিষ্ঠান, তাদেরকে সব সময় আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সেইসঙ্গে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো সরঞ্জামাদিও দরকার।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যত রকমের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বা রাজনৈতিক সহিংসতা আসুক না কেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিটি সংস্থা, দেশের জনগণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগুলো মোকাবেলা করেছে বলেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রাখতে পেরেছি।

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে, যদি সততার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা যায় তবে একটা দেশকে উন্নত করা যায়। আর সেটা আমরা এক দশকে প্রমাণ করেছি।

তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন অনেকে বিশ্বাস করতে চায়নি যে বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে বা পারবে। আজকে কিন্তু আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরে গেছি।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা না হলে কিন্তু দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং এসএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি পেইন্টিং ও ছবির বই তুলে দেন এসএসএফ মহাপরিচালক। পরে এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, অন্য সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও এসএসএফ সদস্যরা।

বিজনেস আওয়ার/১৫ জুন, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: