ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

যে কারণে চাকরি হারিয়েছেন রোডস!

আপডেট : 2019-07-25 10:26:49
যে কারণে চাকরি হারিয়েছেন রোডস!

স্পোর্টস ডেস্ক : বিসিবির সাথে স্টিভ রোডসের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু ততদিন অপেক্ষা করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ হতেই বিদায় করে দিয়েছে ইংলিশ এই কোচকে। এতদিন পর বুধবার জানা গেল, ঠিক কী কারণে স্টিভ রোডসের চুক্তি বহাল রাখেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

অবশেষে রোডসকে বিদায় করে দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ছুটির বিষয়টি।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ৮ দিনের বিরতি ছিল। সেই বিরতিতে দলকে ৫ দিনের ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি পেয়ে ক্রিকেটারারা নিজেদের মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কোচের এই ছুটির সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি পাপনের।

বোর্ড প্রধানের বক্তব্য, ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ৫ দিন ছুটি দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এখানেই মনোসংযোগ তো ব্রেক হয়। এই জিনিসগুলো ইংলিশদের কালচারে হয়তো ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের কালচারে ঠিক নেই।

এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মিউচুয়াল ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা তাকে বাদ দেইনি। দুই পক্ষ মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কোচের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তে বোর্ড প্রধান কতটা ক্ষুব্ধ, সেটা তার এই কথাতেই স্পষ্ট, একটি দল বিশ্বকাপে খেলতে গেছে। দুটি খেলা বাকি, শক্ত প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে।

তখন আপনি যদি শোনেন আপনার খেলোয়াড়রা ইউরোপে বেড়াতে যাচ্ছে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? এটা হতে পারে না। আমি মনে করি এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

আপনি যদি বিশ্রাম দিতে চান, দুই-তিন দিন বিশ্রাম দেন, এটা ঠিক আছে। চোখেমুখে ওদের শুধু খেলাটাই থাকা উচিত ছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার, অথচ এর কিছুই আমি জানি না।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে লন্ডনে চার দিনের অনুশীলন ক্যাম্পের আয়োজন করেছিল বিসিবি। তবে অনুশীলন ঐচ্ছিক হওয়ার সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অনেকেই যাননি।

এর দায় বাংলাদেশের সাবেক কোচ রোডসের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি। বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করার জন্য আমরা এত আয়োজন করলাম। সেখানে আমাদের অনুশীলন হলো না।

ও (রোডস) মনে করেছে প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজ ইচ্ছাতেই অনুশীলন করবে। অপশনাল তাই কেউ (খেলোয়াড়রা) আসেনি। তাহলে তো লাভ হলো না। অথচ আমরা এত টাকা খরচ করে আয়োজনটা করেছিলাম।

শুধু এই দুটো কারণ নয়, আরও কিছু ব্যাপারে স্টিভ রোডসের ওপর ‘বিরক্তি’ আছে নাজমুলের। মিটিং ছাড়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব একটা নাকি আলাপ করতেন না রোডস।

খেলোয়াড়রাই সেই সব কথা বোর্ড প্রধানকে জানিয়েছেন। এমনকি টিম মিটিংয়েও সিদ্ধান্ত হুট করেই পরিবর্তন করে ফেলতেন এই কোচ। বিসিবি সভাপতির কথায়, বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়রা আমার কাছে এসে বলেছে, এই কোচের সঙ্গে তাদেরও কোনও কথা হয়নি।

শুধু টিম মিটিংয়ে খেলার আগের দিন সে (কোচ) এসে উপস্থিত হয়। কোনও স্ট্র্যাটেজি নিয়েও আলাপ হয় না। আমি তাকে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করছি, আমাদের সঙ্গে কোনও ভাবেই মেলে না।

উদাহরণ হিসেবে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে আনলেন নাজমুল। ম্যাচের আগের রাতে যে একাদশ গড়া হয়েছিল, সেটা মাঠে দেখতে না পাওয়ার হতাশা উগরে দিলেন তিনি।

পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টিমের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছিলাম আমি। ওখানে একটা প্ল্যান হয়েছিল। মুশফিকের হাতে স্লিং লাগানো, তাই সে একাদশে ছিল না।

মাশরাফি আগের দিন থেকেই নেই। অনুশীলনও করেনি, পরিকল্পনায় না থাকা মাশরাফিও ছিল না ওই ম্যাচের একাদশে। সেই অনুযায়ী স্কোয়াড ঠিক করে আমরা বের হই।

অথচ খেলার দিন দেখি মাঠে অন্য একাদশ! এগুলো তো এর আগে কখনও হয়নি। তাই এখানে অবশ্যই সমস্যা আছে। আমরা মনে করেছি তাকে দিয়ে হবে না।

বিজনেস আওয়ার/২৫ জুলাই, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: