ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

উচ্চ ঝুকিঁতে প্রগ্রেসিভ লাইফের ব্যবসা

আপডেট : 2019-09-02 13:50:02
উচ্চ ঝুকিঁতে প্রগ্রেসিভ লাইফের ব্যবসা

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ও কমপ্লায়েন্স পরিপালন সন্তোষজনক থেকে অনেক দূরে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা নিস্ক্রিয় রয়েছে। এমতাবস্থায় কোম্পানিটি ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ঝুকিঁতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানির ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, প্রগ্রেসিভ লাইফের আর্থিক হিসাবে চিটাগাংয়ে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট দেখানো হয়েছে। যার মালিকানা নিয়ে বিতর্ক ও আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া কোম্পানি ওই ফ্ল্যাট দখলেও নিতে পারেনি। তারপরেও আর্থিক হিসাবে সম্পদ হিসাবে দেখিয়েছে। এতে বিএএস-১ এর ৬ ধারার মূলধন নীতিমালার বিচ্যুতি হয়েছে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ৫১ শতাংশ মালিকানা ধারন করছে গ্যালাক্সি লিমিটেডের। এই ৫১ শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। তবে এই বিনিয়োগের জন্য ইন্স্যুরেন্স আইন অনুযায়ি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হলেও, সেই অনুমোদনের কোন প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। আর গ্যালাক্সি ক্যাপিটাল সাবসিডিয়ারি কোম্পানি সত্ত্বেও প্রগ্রেসিভ লাইফ কর্তৃপক্ষ সমন্বিত আর্থিক হিসাব তৈরী করেনি। এর ফলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড ১০ লঙ্ঘন হয়েছে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ থেকে গ্যালাক্সি ক্যাপিটালের অপারেশনাল কাজ করার জন্য বিভিন্ন সময় ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ঋণ প্রদানের জন্য নিরীক্ষককে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন দেখাতে পারেনি। এতে ইন্স্যুরেন্স আইন ২০১০ এর ধারা ৪৪ (৩) লঙ্ঘন হয়েছে। এছাড়া প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অর্জিত সুদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আর ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ের অর্জিত সুদ এখনো আদায় করা সম্ভব হয়নি।

আর্থিক হিসাবের নোট ৯.০১ অনুযায়ি, প্রগ্রেসিভ লাইফ ট্যাক্সের জন্য সঠিক সঞ্চিতি গঠন করে না। তারা লাম-সাম ভিত্তিতে ট্যাক্স সঞ্চিতি গঠন করে। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখানো হয়।

কোম্পানির রিপোর্টস অ্যাকাউন্টস ও ডকুমেন্টস রক্ষণাবেক্ষনের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ২০১২ সালের নিরীক্ষত আর্থিক হিসাব অনুযায়ি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টস ছিল ১১০৬টি। কিন্তু ডকুমেন্টস রক্ষণাবেক্ষনের জন্য নথিভুক্ত ব্যাংক হিসাব নাম্বার ছিল ১০২৩টি। ২০১২ সালের আর্থিক বিবরনীতে ১১০৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টস দেখানো হলেও তার তালিকা নিরীক্ষককে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিরীক্ষককে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে ওই অতিরিক্ত ৮৩ ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের সত্যতা যাছাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিরীক্ষককেশাখা অফিসের নগদ অর্থের কোন সনদ দেয়নি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ফলে নিরীক্ষক শাখা অফিসগুলোর নগদ অর্থের সত্যতা যাছাই করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, রবিবার (০১ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর দাড়িঁয়েছে ৮৮.৪০ টাকা।

বিজনেস আওয়ার/০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/আরএ

পাঠকের মতামত: