ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » বিনোদন » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম স্মরণে ‘মহাজনের নাও’

আপডেট : 2019-09-12 11:00:14
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম স্মরণে ‘মহাজনের নাও’

বিনোদন প্রতিবেদকঃ আজ ১২ সেপ্টেম্বর, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের এই দিনে ভাটির পুরুষ খ্যাত কিংবদন্তি, বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিম পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দিনটি স্মরণে বিশেষ আয়োজন করেছে সুবচন নাট্য সংসদ। মঞ্চায়ন করা হবে ‘মহাজনের নাও’।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ মঞ্চে এটি হবে। এবার তাদের ১২৫তম প্রদর্শনী হবে বলে জানিয়েছে নাট্য সংগঠনটি। শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদ রচিত আলোচিত এ নাট্যাখ্যানটি নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

সুবচনের দলপ্রধান আহমেদ গিয়াস জানান, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন, সংগীত ও দর্শন এ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। গান আর কথামালার সমাহারে এরই মধ্যে আলোচিত নাটকটির ১২৪টি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে। যার অনেকগুলো হয়েছে দেশের বাইরে।

তিনি আরও জানান, এবারের প্রদর্শনী শেষে শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন এবং এই নাটকটি নিয়ে থাকছে আলোচনা পর্ব।

নাটকটিতে অভিনয় করছেন- আহমেদ গিয়াস, আসাদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম বাবুল, আনসার আলী, সোনিয়া হাসান সুবর্ণা, ইমরান হোসেন, ইমতিয়াজ, সোহেল, রাসেল, তানভীর প্রমুখ।

এদিকে জানা গেছে, শাহ আবদুল করিমের বাসস্থানেও স্মরণ করা হবে এই কিংবদন্তিকে। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের বরাম হাওরের তীরবর্তী উজানধল গ্রামের মাঠে বাউল ও তার শিষ্যরা জমায়েত হবেন।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’, ‘তুমি মানুষ আমিও মানুষ’, ‘প্রাণে সহে না দুঃখ বলব কারে’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, ‘ওরে ভব সাগরের নাইয়া’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুযারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী, যাকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন। ১৯৫৭ সাল থেকে শাহ আবদুল করিম পাশের উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে উঠা শাহ আব্দুল করিমের গান শুরুতেই ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। আর্থিক অসচ্ছলাতার কারণে কৃষিকাজে বাধ্য হলেও কোনো কিছুই তাকে গান রচনা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। গানের মধ্যে প্রাণের সন্ধান পাওয়া শাহ্ আবদুল করিম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকসহ (২০০১) পেয়েছেন কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক (২০০০), রাগীব-রাবেযা সাহিত্য পুরস্কার (২০০০), লেবাক অ্যাওয়ার্ড, (২০০৩), মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (২০০৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০০৫), বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা (২০০৬), খান বাহাদুর এহিয়া পদক (২০০৮), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা (২০০৮), হাতিল অ্যাওয়াডর্স (২০০৯), এনসিসি ব্যাংক এনএ সম্মাননা ইত্যাদি।

তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আফতাব সঙ্গীত, গণ সঙ্গীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে, শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র উল্লেখযোগ্য।

বিজনেস আওয়ার/১২ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ আরআই

পাঠকের মতামত: