ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজের, দাম বেড়েছে সবজি ও মুরগির

আপডেট : 2019-09-20 12:30:37
ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজের, দাম বেড়েছে সবজি ও মুরগির

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলার সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। এছাড়া হঠাৎ করে বেড়েছে বয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। এদিকে সরকার পেঁয়াজের দাম কমার আশ্বাস দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। ২৪ ঘণ্টার বদলে তিনদিন পার হলেও কোনো বাজারেই পেঁয়াজের দাম কমেনি।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। যে পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে কারওয়ান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা। আর আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী জসিম বলেন, সহসা পেঁয়াজের দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে না। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের এ দাম থাকবে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের তৎপরতার কারণে পেঁয়াজের দাম না কমলেও নতুন করে বাড়েনি। সরকার তৎপর না হলে দেখতেন এতো দিনে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেত।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, টমেটো, করলা, গাজর, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। ছোট আকারের লাউ আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা পিস।

পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। করলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, চিচিংগা, ঝিঙা, ধুনদল ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছুটা কমেছে কাঁকরোলের দাম। বাজার ভেদে কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা কেজি।

তবে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। পেঁপে আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি। আর মিষ্টি কুমড়ার ফালি পাওয়া যাচ্ছে ১৫-২০ টাকার মধ্যে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী কালাম বলেন, বাজারে আস্তে আস্তে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। টানা বৃষ্টি অথবা বন্যা না হলে শিগগির সবজির দাম কমবে।

এদিকে বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। আর লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

এদিকে কিছুদিন ডিমের দাম কিছুটা কম থাকলেও আবারও বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আর প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

শেওড়াপাড়া বাজারে আশা ক্রেতা এনজিও কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারে শাকসবজির দাম এমনিতেই চড়া, আজ আবার এসে দেখি বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। আর পেঁয়াজ কেনা তো দায় হয়ে গেছে। বর্তমান বাজারে আমাদের মত মধ্যবিত্তদের চলা আসলেই খুব কঠিন।

বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ বেশি হলেও বড় সাইজের ইলিশের দাম হাজার টাকার নিচে নামছে না। বড় সাইজের ইলিশ কিনতে গেলেই গুনতে হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। আর একটু ছোট সাইজের গুলো বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর কেজিতে তিনটে হয় সেই ইলিশ গুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। তবে কম নেই অন্যান্য মাছেও। বাজারে রুই, মৃগেল, কাতল ও সিলভার কার্প মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। আর কই, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

বিজনেস আওয়ার/২০ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ আরআই

পাঠকের মতামত: