ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

'কষ্টের আমদানিতে' বিলাসী সম্রাট

আপডেট : 2019-10-07 11:16:15
'কষ্টের আমদানিতে' বিলাসী সম্রাট

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ক্যাসিনো কাণ্ডে সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতারের পর রাখা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের 'কষ্টের আমদানি' ওয়ার্ডে।

গতকাল রোববার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নেয়া হয়। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে রাখা হয়েছে সাধারণ বন্দি হিসেবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে সাধারণ বন্দী হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে আটক করে র‍্যাব। পরে সম্রাটকে ঢাকায় এনে তার কাকরাইল কার্যলয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব।

সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান জব্দ করা হয় মাদক, অস্ত্র ও ক্যাঙ্গারুর চামড়া। ক্যাঙারুর দুটি চামড়া পাওয়ার ঘটনায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী আইনে সম্রাটকে ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিলেন সম্রাট। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি।

রাজধানীর ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে বেশ পরিচিত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে এতদিন পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া র‌্যাবের অভিযানে আটক হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম।

এ দু’জনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।

কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন দৃশ্যমান ছিলেন তিনি। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন সম্রাট।

ভূঁইয়া ম্যানশনের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যান সম্রাট। এরপর তার অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

বিজনেস আওয়ার/০৭ অক্টোবর, ২০১৯/এ

পাঠকের মতামত: