রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে আসছে তালিকাভুক্ত ২৪ ব্যাংকের ২২০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫টি বোনাস শেয়ার। যেগুলোর বর্তমান বাজার দর রয়েছে ৬ হাজার ২৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ব্যাংকগুলোর পরিচালকেরা বিনিয়োগকারী তথা পুরো শেয়ারবাজারের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই বিশাল আকারের বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। কিন্তু শেয়ারবাজারে বর্তমানে এই বিশাল চাপ নেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই।

২০১৮ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে ১৬টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আর ৮টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের ব্যবসায় ২৪টি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার শেয়ারবাজারে ঢুকতে যাচ্ছে।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ২২০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫টি বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যা ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারন সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে প্রদান করা হবে। এতে ব্যাংকগুলোর ২ হাজার ২০৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়বে। যে শেয়ারগুলোর বর্তমান বাজার দর রয়েছে ৬ হাজার ২৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, পরিচালকদের বোনাস শেয়ার নিয়ে খামখেয়ালিমূলক সিদ্ধান্তের কারনেই বাজার বর্তমান অবস্থায় নেমে এসেছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে চাইলেই বোনাস শেয়ার দেওয়া সম্ভব হবে না।

নিম্নে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত বোনাস শেয়ারের তথ্য তুলে ধরা হল-

ব্যাংকের নাম

২০১৮ সালের বোনাস

বোনাস শেয়ারের পরিমাণ

বোনাস শেয়ারের বাজার দর (৫ মে)

ডাচ-বাংলা ব্যাংক

১৫০% বোনাস

৩০০০০০০০০টি

২২৮৯ কোটি

ব্র্যাক ব্যাংক

১৫% বোনাস

১৬০৮৭৫০৪৩টি

১০১৬.৭৩ কোটি

ইষ্টার্ন ব্যাংক

১০% বোনাস

৭৩৭৯৯৯৫৯টি

৩০২.৫৮ কোটি

ন্যাশনাল ব্যাংক

১০% বোনাস

২৬৫৪৯০৭৯১টি

২৩৬.২৯ কোটি

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

১১% বোনাস

৬৩০৬৯৯৩৪টি

২১৩.১৮ কোটি

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

১৫% বোনাস

১২২২৩৮০৩৯টি

১৯৩.১৪ কোটি

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক

১০% বোনাস

১০৫৪১৩০৬৫টি

১৮৯.৭৪ কোটি

ট্রাস্ট ব্যাংক

১০% বোনাস

৫৫৬৯৬৬২২টি

১৫৩.১৭ কোটি

সাউথইস্ট ব্যাংক

১০% বোনাস

১০৫৪৪৯২৭০টি

১৪৮.৬৮ কোটি

রূপালি ব্যাংক

১০% বোনাস

৩৭৬৫১৬৯৪টি

১৪৩.০৮ কোটি

আইএফআইসি ব্যাংক

১০% বোনাস

১৩৩৮৭৩৮৭৪টি

১৪১.৯১ কোটি

প্রিমিয়ার ব্যাংক

১৫.৫০% বোনাস

১২৪০১২৫৭০টি

১৩৭.৬৫ কোটি

দি সিটি ব্যাংক

৫% বোনাস

৪৮৩৯৯৩৬৫টি

১২৬.৮১ কোটি

শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক

১০% বোনাস

৮৪৮৫৬৪৭৯টি

১৯৯.৪১ কোটি

স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক

১০% বোনাস

৮১২১২৮৫১টি

১২৩.৪৪ কোটি

ওয়ান ব্যাংক

১০% বোনাস

৭৬৬৫৩৩৬৮টি

১০৬.৫৫ কোটি

ব্যাংক এশিয়া

৫% বোনাস

৫৫৫১৯৩৭৪টি

৯৮.২৭ কোটি

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

১০% বোনাস

৮৭০৯৮৭৭০টি

৯০.৫৮ কোটি

পূবালী ব্যাংক

৩% বোনাস

২৯৯৫০৩১৭টি

৭৮.৪৭ কোটি

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক

১০% বোনাস

৭৮৪০৯৯৩৪টি

৭৭.৬৩ কোটি

এনসিসি ব্যাংক

৫% বোনাস

৪৪১৬০৯০০টি

৬৬.২৪ কোটি

ঢাকা ব্যাংক

৫% বোনাস

৪০৬২৯১৩৪টি

৫৬.৮৮ কোটি

আল-আরাফাহ ব্যাংক

২% বোনাস

২০৮৮০৪৩৫টি

৪৩.৮৫ কোটি

উত্তরা ব্যাংক

২% বোনাস

৮০০১৬০৭টি

২২.৩২ কোটি

মোট

২২০৩৩৪৩৩৯৫টি

৬২৫৫.৬০ কোটি

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ার দেওয়ার বিষয়টি একটু অন্য রকম। অনেক ব্যাংককে ব্যাসেল-২ এর শর্ত পরিপালনে বোনাস শেয়ার দিতে হচ্ছে। তবে অনেক ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও নেই। একটা পর্যায়ে গিয়ে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। তারপরেও বোনাস শেয়ারের কারনে শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছরই বোনাস শেয়ারের বড় চাপ বাজারে আসে। যাতে প্রতিবছরই সমন্বয়ে শেয়ারের দাম কমছে।

আরো পড়ুন :

তালিকাভুক্ত ১৭ ব্যাংকের মুনাফার শতভাগ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

অধিকাংশ ব্যাংকের ইপিএসে পতন

ব্যাংকের গড় লভ্যাংশ বেড়েছে ১.৩৭ শতাংশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ব্যাংকগুলো ২০১৮ সালে অতিমূল্যায়িত মুনাফা দেখিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে সঠিকভাবে সঞ্চিতি গঠন করা হলে, ব্যাংকগুলো লোকসানে পতিত হবে। আর এই দুরাবস্থা আড়াল করতেই কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে। এমতাবস্থায় নগদ লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব না। এজন্যই ব্যাংকগুলো বোনাস শেয়ারে ঝুঁকেছে। তবে ব্যাংকগুলোর এই প্রবণতা মোটেও ভালো না।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরঞ্জিত মুনাফার কারনে সরকারকে কর দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর জন্য বর্তমানের অতিরঞ্জিত বা কৃত্রিম মুনাফা কাল হয়ে দাড়াবে। কিন্তু সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে, ব্যাংকগুলোকে এই কর দিতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ব্যাংকগুলো অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখালেও বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখে না।

বিজনেস আওয়ার/০৫ মে, ২০১৯/আরএ