বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঈদের আগেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশোনের (বিআরটিসি) বহরে যোগ হতে যাচ্ছে আরও ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস। এসব বাস যোগ হবে ঈদযাত্রায়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিআরটিসির জন্য দ্বিতল, একতলা এসি এবং নন-এসি বাস সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় কয়েক ধাপে ৫১৭টি বাস বাংলাদেশে এসেছে।

বাকি ৮৩টি বাস ঈদুল আজহার আগেই আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানায় বিআরটিসি। ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১২ আগস্ট, এ উপলক্ষে অধিকাংশ বাস দেশের লংরুটে চলাচল করবে।

ঈদের আগে বাসগুলো সারাদেশের যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানায় বিআরটিসি। প্রতিটি বাসের আসন সংখ্যা ১২০টি। বিশাল আকৃতির বাসগুলোতে আরও ৪০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারেন।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের অশোক লেল্যান্ডের কাছ থেকে প্রতিটি ৭২ লাখ টাকা দরে ৩০০টি ডাবল ডেকার, ৬৯ লাখ টাকা দরে একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, ৭০ লাখ টাকা দরে একশটি সিঙ্গেল ডেকার এসি ইন্টারসিটি এবং ৪২ লাখ টাকা দরে টাটার কাছ থেকে একশটি সিঙ্গেল ডেকার নন-এসি বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধেই একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি নন-এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি সিঙ্গেল ডেকার ইন্টারসিটি ও ২১৭টি ডাবল ডেকার বাস বাংলাদেশে এসেছে। বাকি ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, কয়েক ধাপে আমরা ইতোমধ্যেই ভারত থেকে ৫১৭টি বাস পেয়েছি। ৬০০টির মধ্যে ৮৩টি ডাবল ডেকার ননএসি বাস আগস্ট মাসেই হাতে পাবো।

৮৩টির মধ্যে ৩৪টি বাস এখন বেনাপোলে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। বর্ডারে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৮৩টি বাস হাতে পাবো। ফলে পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ৫৮৮টি পুরনো বাস রয়েছে, যেগুলো পরিবেশ দূষণ করছে। বাসের স্বল্পতার কারণে বিআরটিসির পক্ষে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন ভারতীয় বাসগুলো কেনা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলী বাসডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বিআরটিসির অচল বাসগুলো। কোনো কোনো বাসের কেবল বাইরের আবরণ আছে, যন্ত্রাংশ খুলে পড়েছে।

দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কিছু কিছু বাস দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কিছু কিছু বাসের চাকা দেবে গেছে মাটির সঙ্গে। কিছু বাস পুড়েছে রাজনৈতিক আগুনে হরতাল-অবরোধের সময়।

এসব বাসের স্থলে রিপ্লেস করা হবে নতুন ভারতীয় ঋণে কেনা বাসগুলো। বাসগুলোর কিছু বাস সারা দেশে দেওয়া হবে। আর কিছু বাস রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলবে।

বিজনেস আওয়ার/২০ জুলাই, ২০১৯/এ