আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রোববার মধ্যরাতে গৃহবন্দী করা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে। সেইসঙ্গে কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গভীর রাতের এই পদক্ষেপে সবার মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।

এদিকে চলতি উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সচিবালয়, পুলিশের সদর দফতর, বিমানবন্দর, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর-সহ কাশ্মীরের সংবেদনশীল স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।

রাতে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী। পথে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর আগে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে প্রশাসনকে বাধার মুখে পড়ে হয়েছিল, সেসব এলাকার প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

রবিবার কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বহু স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রাবাস খালি করে ফেলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাশ্মির পুলিশের দাবি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিন রাজ্য সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয় যেকোনও ধরণের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে কারফিউ জারির কথা বলা হলেও তা জারি করা হয়নি বলে জানানো হয় ওই নির্দেশনায়।

তবে রবিবার মধ্যরাত থেকে শ্রীনগর জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকরের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহর বাসভবনে বৈঠকে বসেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহসহ রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার (সংবিধানের ৩৫ এ ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ) বাতিল করা হলে সরকারকে পরিণাম ভোগ করতে হবে। ওই বিবৃতি প্রকাশের পর রবিবার রাত থেকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের।

এদিকে রবিবার দিল্লিতে শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজিব গাউবাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস আওয়ার/০৫ আগস্ট, ২০১৯/এ