বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র চেয়ারম্যান ঝাও ইয়ানকিং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সোমবার ডিসিসিআইইয়ে আয়োজিত বিজনেস ম্যাচ-মেকিং অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঝাও ইয়ানকিং-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল এই বিজনেস ম্যাচ-মেকিং-এ অংশগ্রহণ করেন।

ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী চীনের বানিজ্য প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগি দেশ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যাকিনা বাংলাদেশের সার্বিক বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৩.৮৫%। তিনি জানান, ঐ একই অর্থবছরে চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চীনের সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার অধিকাংশই ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তৈরি পোষাক এবং আর্থিক খাতে।

ওয়াকার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোষাকের পরই কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক বাজারে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এখাতের বহুমুখীকরণ ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের জন্য চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষিখাতে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও তৈরি পোষাক, ঔষধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ডিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চীনের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিনিধিদলের দলনেতা ঝাও ইয়ানকিং বলেন, লিয়াওনিং প্রদেশটি চীনের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত, যা ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মঙ্গোলিয়ার বেশ নিকটবর্তী এবং এ অঞ্চলের দেশসমূহে বাংলাদেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের লিয়াওনিং প্রদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, লিয়াওনিং প্রদেশটি লৌহ, নিকেল, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এবং লিয়াওনিং প্রদেশে বিশেষায়িত প্রায় ৩৯টি পণ্য উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও লিয়াওনিং প্রদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চেম্বারগুলোর মধ্যকার যোগাযোগ আরো বৃদ্ধির উপর জোরারোপ করেন।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ প্রতিনিধিদলকে ঢাকা চেম্বারে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ারন দেশসমূহে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ডিসিসিআই পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী, এস এম জিল্লুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস ম্যাচ-মেকিং-এ লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোক্তাদের সাথে বাংলাদেশের ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ নিজেদের পণ্য ও তথ্য আদান প্রদানের সুযোগ পান।

বিজনেস আওয়ার/৯ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ আরআই