বর্ষা নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের জন্ম দেওয়া বহু কবিতা ও গান রচিত হয়েছে, আমাদের দেশের মানুষ পরম আনন্দে বর্ষাকে বরণ করে। বর্ষার আগমনী বার্তা উপলক্ষে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বাংলার কৃষকেরা বর্ষাতে নতুন স্বপ্ন বোনে। বর্ষা আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হলেও, মানুষের কূ-কর্মের কারনে বর্ষা আমাদেরকে চরম ভোগান্তি ও জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে বর্ষাকাল রাস্তাঘাট সুইমিং পুলে পরিণত হয়। ঢাকা শহরে ৫৫ থেকে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট মনে হয় নদী অথবা মৎস্য চাষের জল।

রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যে কত দুর্বল, নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার কিছু নেই । বৃষ্টিতে জলজট হয় ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা। হাঁটুপানি জমে প্রধান সড়কগুলোতে। কয়েক ঘণ্টাই বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়ে প্রায় পুরো নগরী। ওয়াসার নর্দমা দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন তো হয় না, বরং জমে থাকা নোংরা ময়লা উপচে পড়ে রাস্তায়। সাধারণ মানুষ পড়েন অশেষ দুর্ভোগে।

প্রতিবছর বর্ষাকালের দৃশ্য আমরা দেখি বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা, কোথাও ম্যানহোল ভেঙে পড়েছে, ইঞ্জিন চালিত গাড়ি পানির মধ্যে অর্ধেক ডুবে যাচ্ছে, ঢাকার কোন কোন অঞ্চলের মানুষের একমাএ বাহনে পরিণত হয় নৌকা অথবা কলাগাছের ভেলা। স্কুলগামী, অফিসগামী ও সাধারণ পথচারীরা জল-জটে পতিত হয়।

বর্ষা শুরু হলে রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে খোড়াখুড়ি, ড্রেন তৈরি, রাস্তা সংস্কার, ম্যানহোল সংস্কার, পানির লাইন মেরামত, গ্যাসের লাইনের মেরামত ও সম্প্রসারণের তৎপরতা যেমন খুশি তেমন সাজো পরিলক্ষিত হয়।

বৃষ্টি শুরু হলে রাজধানীর জিগাতলা, ট্যানারি মোড়, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মানিক মিয়া এভিনিউ, কাকরাইল, বাড্ডা, কুড়িল, ভাটারা, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বংশাল, আজিমপুর, লালবাগ, কমলাপুর, বাসাবো, মুগদাপাড়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব এলাকার প্রতিটি সড়কে লেগে যায় তীব্র যানজট।

সারা বছর বিভিন্ন সংস্থা, মিডিয়া চুপচাপ থাকলেও বর্ষাকালে দেখা যায় খুব তৎপর। বিগত বছরগুলোতে দেখা গিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেন, সামনের বর্ষায় মানুষের ভোগান্তি থাকবে না আর নাকাল হবে না জনতা কিন্তু বর্ষা গেলে কেউ কথা রাখে না। সম্প্রতি দেখা গেছে, ঢাকার আশেপাশের নদ নদীর পাশে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা সরকার অত্যন্ত সফলতার সাথে উচ্ছেদ করেছে, কিংবা এখনো করছে। নিঃসন্দেহে এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য কিন্তু সাথে সাথে এটাও বলতে হবে, রাজধানির মধ্যে ৫৮ টি খাল আছে। খালগুলো সব দখলদার ও সন্ত্রাসীদের দখলে, খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন, শিল্প-কলকারখানা সহ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। সরজমিনে তদন্ত করলে দেখা যায়, এক একটি খাল সুরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস ও প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বর্ষা আর দেরি নেই কিন্তু কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ আমাদের চোখে পড়ছে না। তাহলে কি আবার গত বর্ষার মত জলজটে নাকাল হবে নগরবাসী?

রাজধানীবাসী সহ দেশের সকল মানুষ বর্ষার সুবিধা ভোগ করতে চাই, বর্ষাকে আলিঙ্গন করতে চাই, বর্ষাই উৎসবের সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে চাই। কর্তৃপক্ষ কি নড়েচড়ে বসবে? এদেশের মানুষ আশাবাদী বলেই প্রত্যাশা করে এবারের বছর মানুষ বর্ষার ভোগান্তি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে!!

মোঃ সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবী
[email protected]

বিজনেস আওয়ার/২০ জুন,২০১৯/আরআই