বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে কয়েকটি ক্যাসিনো সিলগালা করেছে র‍্যাবের একটি দল। এ সময় গুলশানের নিজ বাসা থেকে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করা হয়। ওই বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে ফকিরাপুলে অবস্থিত তার ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ১৪২ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেয়া হয়। উদ্ধার করা হয় ২০ লক্ষাধিক টাকা ও বিপুল পরিমাণ মাদক।

এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের উল্টো পাশে ইস্টার্ন টাওয়ারের চতুর্থ তলায় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার গোপন 'অফিস কক্ষের’ সন্ধান মিলেছে। আসলে অফিস কক্ষের আড়ালে সেটা ছিল তার ‘টর্চার সেল’। টার্গেট করা ব্যক্তিদের সেখানে নিয়ে নির্যাতন করতেন খালেদ। খালেদকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলাপুরে ওই টর্চার সেলের সন্ধান মেলে। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ইলেকট্রিক শক দেয়ার দুটি মেশিন। কমলাপুরের টর্চার সেল ছাড়াও রাজউক ভবনে আরেকটি টর্চার সেল ছিল খালেদের। কোনো ঠিকাদার কমিশন না দিলে সেখানে তাদের ধরে এনে মারধর করা হতো।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ইলেকট্রিক শক মেশিন ছাড়াও খালেদের আস্তানা থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা, পাঁচ ক্যান বিয়ার, ৭০০ গ্রাম সিসা, তিনটি মোবাইল ফোনসেট, দুটি ল্যাপটপ, পাঁচটি লাঠি, অস্ত্রের তেলের বোতল ও সাড়ে ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে খালেদের ওই টর্চার সেলে অভিযান চালানো হয়। ইলেকট্রিক শক মেশিন সেখানে দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, খালেদের টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকেও নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুরহাট নিয়ন্ত্রণ করেন যুবলীগের এ নেতা।

এ ছাড়াও খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের হাট বসান এ বির্তকিত নেতা। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজার সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন দখল করে রেখেছেন তিনি। এ ছাড়া শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণ করেছেন খালেদ।

বিজনেস আওয়ার/২০ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ আরআই