বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) : দু'পাশে সবুজ গাছ গাছালী আর উঁচু পাহাড়। সমতল ভূমি থেকে ১৮শ ফুট উঁচু জায়গাটা যেন অনেকটা স্বপ্নের মতো। মেঘের ভেলার ফাঁকে সূর্যের উঁকি আর সেই সাথে হিমশীতল হাওয়া- সব মিলিয়ে পাহাড়ের রংটা যেন আকাশের মতোই। জায়গাটা হলো রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি।

এই দুর্গম জনপদটি উন্নয়নের ছোঁয়ায় পুরো বদলে গেছে। সেখানকার মানুষের বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যাও মিটিয়ে দিচ্ছে সরকার। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে ও ১৮শ ফুট উঁচুতে সাজেক ভ্যালীতে ইতোমধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে খুঁটিতে তার টাঙানোর কাজ।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সমাদৃত সাজেক ভ্যালিতে অর্ধশতাধিক রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেন সাজেক। এ অঞ্চলে শিল্প কারখানাও গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫৬৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। প্রকল্পের আওতায় এ তিন জেলায় ১২টি নতুন ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান সাব-স্টেশনগুলোর সংস্কার ও লোড ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

তাছাড়া নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ৩১০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক পর্যন্ত ৪৯ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটনের ক্ষেত্রে বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেখানে বিদ্যুতের সুবিধা দেওয়ার লক্ষে ইতোমধ্যে সঞ্চালন লাইন বসানোর কাজ চলছে। সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পও একটি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আশা করা যায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সাজেকের মানুষ বিদ্যুত সংযোগ পাবেন। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যাবে।

বিজনেস আওয়ার/০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ