বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : কারো দ্বারস্থ না হয়ে বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে মহড়ায় বীরত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে কল্পিত শত্রুর দ্বারা দখল হয়ে যাওয়া স্বর্ণদ্বীপ উদ্ধারে সফল অভিযান চালায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। মহড়ায় দেখানো হয়, স্বর্ণদ্বীপ দখল করেছে শত্রুপক্ষ। তাই এ আক্রমণ।

আচমকা শত্রু এলাকায় ঢুকে পড়ে প্যারাট্রুপাররা। একযোগে শুরু হয় আর্টিলারি কামান ও স্বয়ংক্রিয় গ্রেনেড লঞ্চার হামলা। সক্রিয় হয়ে ওঠে অস্ত্রের অবস্থান নির্দেশক রাডার ও ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র। পাল্টা আক্রমণে যায় শত্রুপক্ষ। কিন্তু সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে এক পর্যায়ে পর্যুদস্ত হয় তারা।

স্বাধীন ভূখণ্ডের দখলকৃত অংশে আবারও পতপত করে ওড়ে স্বাধীন সার্বভৌম পতাকা। দর্শক সাড়িতে বসে সামরিক বাহিনীর নৈপুণ্য দেখেন প্রধানমন্ত্রী। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব শুরু হওয়া এ অভিযানের শুরুতেই পর্যবেক্ষণ ও শত্রুদের দখলকৃত এলাকা রেকি করে সহায়তা করে বিমানবাহিনীর এভিয়েশন গ্রুপ।

এ সময় বলেন, শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীকে একযোগে আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করতে আমরা গড়ে তুলার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা প্রশিক্ষণ, যেকোনো ফোর্সের জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। আমরা চাই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছি। আমাদের বাজেট প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি করেছি। আমার উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থ দিয়ে তেরি করি। কারো কাছে হাত পাততে হয়না। আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি কারো কাছে হাত পাতে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো।

তিনি বলেন, সমাজের কোনো অংশ যাতে অবহেলিত না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে উন্নত করা আমাদের লক্ষ্য। যাতে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারি, তার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রবৃদ্ধিতে আনেক দেশ যেখানে পিছিয়ে পড়ছে আমরা সেখানে অনেক এগিয়ে যাচ্ছি।

এবারের মহড়ার নাম দেয়া হয়েছিল অপারেশন বিজয় গৌরব। প্রতীকী এ অভিযানে অংশ নেয় ৫৮ কর্মকর্তাসহ সামরিক বাহিনীর ১৪০০ সদস্য।

জলস্থলের যোগসূত্র মেঘনার মোহনায় অবস্থানের কারণে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এ দ্বীপ একটি উপযুক্ত প্রশিক্ষণস্থল। এখানে ৩ বাহিনীর সমন্বয়ে এই যে রণকৌশল অর্জনের মহড়া, তা যেন সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপোষহীন এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, আধুনিক এক সেনাবাহিনীরই জানান দেয়।

বিজনেস আওয়ার/২৩ জানুয়ারি, ২০২০/এ