বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বুয়েটে আবরার হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই অবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই ডাকসু ভিপি নুরুল হক ও সাধারন ছাত্র আন্দোলন পরিষদ এ নির্মম মারধরের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

এদিকে মারধরের বিচারের দাবিতে ৪ শিক্ষার্থী রাজু ভার্স্কযে অনশন করছেন এবং সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভার্স্কযে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরুর নেতৃত্বে সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারন শিক্ষার্থীরা।

মিছিলের পূর্বে ভিপি নুর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আবরার হত্যার সুষ্ঠ বিচার এখনো জনগন পায়নি। এর রেশ না কাটাতেই আবারো ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন ছাত্রকে নির্মম ভাবে মারধর করে থানায় দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখেও প্রক্টরিয়াল বডি সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করে না। ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত ভিপি হয়েও গত ২৪ তারিখে আমি এবং আমার সহকর্মীরা ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হয়েছি। প্রশাসন শুধু লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে অথচ এখনো পর্যন্ত কোন হামলার সুষ্ঠ বিচার পায়নি।

ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, বারবার সাধারন ছাত্রদের মারধরের হুকুম ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? যে তারা ইচ্ছেমতো ছাত্রদের মেরে থানায় সোপর্দ করবে?

এদিকে ছাত্র ফেডারেশন এর ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই হামলা হয়েছে উল্লেখ করে ভিপি নুর বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠতিত হচ্ছে সেখানে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। এসবের প্রমান থাকার পরেও বিচার না করার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পায়। আমরা নির্যাতিত ৪ জনের সাথে কথা বলেছি তারা বলেন ছাত্রলীগের মিছিল মিটিং এ না যাওয়ায় তাদের কে মারধর করা হয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন আপনাদের শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবে না। নির্যাতনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। সরকার কে লক্ষ্য করে বলেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড গুলো বন্ধ করান না হলে আপনার পতনের মূল কারন হবে এই ছাত্রলীগ।

ছাত্র সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিভাগের অধ্যাপক সামিয়া ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি।

বিজনেস আওয়ার/২৩ জানুয়ারি, ২০২০/এফ/এ