বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৬৬ দিন বন্ধ ছিল দেশের শেয়ারবাজার। এরপর ৩১ পুনরায় চালু হয়। শেয়ারবাজার চালুর প্রথম সপ্তাহে পতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহে কিছুটা উত্থানে শেষ হয়েছে লেনদেন। সূচক কিছুটা বাড়লেও টাকার পরিমাণে লেনদেন আগের সপ্তাহ থেকে বিদায়ী সপ্তাহে প্রায় অর্ধেক বা ৩০০ কোটি টাকা কম হয়েছে। আর সপ্তাহটিতে লেনদেন অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৫৪ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ৩৩৭ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৪ টাকা বা ৪৮.৮০ শতাংশ কম হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৯১ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৩ টাকার।

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৬০ টাকার। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ১৩৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৯ টাকা কম হয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট বা ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বা ০.৪২ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ এবং ১৩৩২ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টি বা ১১ শতাংশের, কমেছে ২৪টির বা ৭ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮৯টির বা ৮২ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৯৯ কোটি ২২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮৮ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১২৩ কোটি ৩০ লাখ ৪১ হাজার ৪০২ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ২৪ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ টাকা বা ১৯.৫২ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩০ পয়েন্ট বা ০.২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১৮ পয়েন্ট বা ০.২৬ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বা ০.১৭ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ৪ পয়েন্ট বা ০.৪৩ শতাংশ এবং সিএসআই ৩ পয়েন্ট বা ০.৪৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮২৬ পয়েন্টে, ৯ হাজার ৯২২ পয়েন্টে, ৮১১ পয়েন্টে এবং ৭২৯ পয়েন্টে।

এ সময়ে সিএসইতে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩১টির বা ১৭ শতাংশের দর বেড়েছে, ২২টির বা ১২ শতাংশের কমেছে এবং ১২৮টির বা ৭১ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১২ জুন, ২০২০/এস