ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ

  • পোস্ট হয়েছে : ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪
  • 51

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদকে ঘিরে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া বাড়তি ব্যয়ের চাপ মেটাতে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ঘাটতি বাড়ছে।

এদিকে ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তারল্য সংকট মোকাবিলায় সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই সোমবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার করেছে ২৫ হাজার ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। একই দিনে কলমানি মার্কেট থেকে ধার করেছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সূত্র বলেছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি উপকরণের আওতায় আরও ৩০০ কোটি টাকা ধার করেছে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে। সব মিলে এদিন ব্যাংকগুলো ২৭ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ধার করেছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো কলমানি মার্কেট, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উপকরণের আওতায় অন্য ব্যাংক থেকে ধার করেছে ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে কলমানি মার্কেট থেকে নিয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বাকি ৮২৩ কোটি টাকা নিয়েছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ধারের আওতায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে রোজা ও ঈদে ব্যাংকে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। বাড়তি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা।

এ ছাড়া বিদেশি ঋণ পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গিয়ে নগদ অর্থ আটকে যাচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ বিতরণ বেশি বাড়লেও আমানত কম বেড়েছে। বিতরণকৃত ঋণ থেকে কম টাকা আদায় হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোতে জুলাইয়ে তারল্য ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকায়। গত ৭ মাসে তারল্য কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ব্যাংকগুলোতে তারল্য বাড়ছিল।

এদিকে গত বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার করেছে ২৮ হাজার ৮৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা একদিনে সর্বোচ্চ ধার হিসাবে চিহ্নিত। কলমানিসহ এদিন মোট ধারের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে গত বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। সোমবার ধার করেছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

বিজনেস আওয়ার/০৩ এপ্রিল/ এ এইচ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ

পোস্ট হয়েছে : ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদকে ঘিরে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া বাড়তি ব্যয়ের চাপ মেটাতে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ঘাটতি বাড়ছে।

এদিকে ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তারল্য সংকট মোকাবিলায় সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই সোমবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার করেছে ২৫ হাজার ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। একই দিনে কলমানি মার্কেট থেকে ধার করেছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সূত্র বলেছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি উপকরণের আওতায় আরও ৩০০ কোটি টাকা ধার করেছে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে। সব মিলে এদিন ব্যাংকগুলো ২৭ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ধার করেছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো কলমানি মার্কেট, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উপকরণের আওতায় অন্য ব্যাংক থেকে ধার করেছে ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে কলমানি মার্কেট থেকে নিয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বাকি ৮২৩ কোটি টাকা নিয়েছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ধারের আওতায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে রোজা ও ঈদে ব্যাংকে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। বাড়তি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা।

এ ছাড়া বিদেশি ঋণ পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গিয়ে নগদ অর্থ আটকে যাচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ বিতরণ বেশি বাড়লেও আমানত কম বেড়েছে। বিতরণকৃত ঋণ থেকে কম টাকা আদায় হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোতে জুলাইয়ে তারল্য ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকায়। গত ৭ মাসে তারল্য কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ব্যাংকগুলোতে তারল্য বাড়ছিল।

এদিকে গত বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার করেছে ২৮ হাজার ৮৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা একদিনে সর্বোচ্চ ধার হিসাবে চিহ্নিত। কলমানিসহ এদিন মোট ধারের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে গত বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। সোমবার ধার করেছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

বিজনেস আওয়ার/০৩ এপ্রিল/ এ এইচ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: