ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা করার দরকার নেই: শান্ত

  • পোস্ট হয়েছে : ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
  • 31

স্পোর্টস ডেস্ক: গেল বছর ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে হতাশার পারফরম্যান্সের পর থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করে বাংলাদেশ। সেই পরিকল্পনায় নানা সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেট বোর্ড। নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয় নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার নেতৃত্বই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে অংশ নেবেন টাইগাররা।

প্রতি বারের মতো এবারও যে দলের ওপর সবার প্রত্যাশা থাকবে উঁচুতে, সেটি অধিনায়ক ভালো ভাবেই জানেন। তবে এসব নিয়ে ভেবে চাপে পড়তে চান না তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে দলের কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা রাখতেও নিষেধ করেছেন তিনি। যা হবে তা মাঠেই দেখা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার এক্স সিরামিকসের চিফ ব্র্যান্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্ত সেখানেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব বলেন তিনি। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের প্রত্যাশা নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘প্রতি বছরই আমি দেখি বিশ্বকাপের আগে এগুলো নিয়ে অনেক কথা হয়। আশা-প্রত্যাশা, এটা করব সেটা করব। অনেক কথাবার্তা হয়। আমার একটা অনুরোধ থাকবে, এই প্রত্যাশাটা খুব বেশি করার দরকার নেই, আশাটা মনের মধ্যেই থাকুক সবার। আপনিও জানেন বাংলাদেশ দল কী চায়, আমরা খেলোয়াড়রাও দলটাকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে জেতে চাই। সবাই চায় যে আমরা অনেক বড় কিছু করি। কিন্তু এটা নিয়ে যখন খুব বেশি মাতামাতি হয় তখন জিনিসটা আমার ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লাগে না। কারণ দরকার নেই, ফল যখন হবে, তখন এমনিই বোঝা যাবে।’

তবে নিজেদের দিক থেকে ভালো করতে কোনো অংশে ছাড় দেবে না জানিয়ে শান্ত আরো বলেন, ‘আমি একটা জিনিস বলব যে, যেই দলটা খেলবে এরা নিজের নিজের সেরা দেবে। প্রত্যেকটা ম্যাচে জেতার জন্য। এই নিশ্চয়তাটা আমি দিতে পারি। এবং প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্যই খেলবে। তবে আগে থেকেই অনেক আশা করছি, এবার অনেক বেশি প্রত্যাশা করছি… একটাই অনুরোধ করব, আমরা যেন এসব নিয়ে বেশি মাতামাতি না করি।’

আগামী মাসে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবেন টাইগাররা। শোনা যাচ্ছে এই সিরিজ দিয়েই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডের নকশা সাজাবেন নির্বাচকরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে—সব শেষ কয়েকটি সিরিজের স্কোয়াড থেকে খুব বেশি একটা পরিবর্তন আনা হবে না এই সিরিজে। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের শেষ ছয়টা-সাতটা সিরিজ দেখেন এই দলটা বেশির ভাগ সিরিজ (টি-টোয়েন্টি) জিতেছে। তো এই দলটা ভালো অবস্থানে আছে। এই সিরিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই খেলোয়াড়রা যদি ভালো কিছু নিয়ে সিরিজ শেষ করে যেতে পারে ঐ আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি আমরা যেতে পারি তাহলে এটা দলের জন্য ভালো হবে।’

এ সময় জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রত্যাশিত উইকেট নিয়ে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা যেই সিরিজটা খেলেছি সেই ধরনের উইকেটই আমরা পাবো বলে আশা করছি। তারপরও চেষ্টা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) আমরা যে উইকেটে খেলব তেমনি উইকেট প্রস্তুত করা যায় কি না। যদিও আমার মনে হয় না ঐ ধরনের উইকেট করা সহজ হবে।’

এর আগে ঈদের ছুটি শেষে গেল পরশু দিন থেকে মাঠে গড়িয়েছে চলমান ডিপিএলে। সেখানে প্রথম দিনই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিলো দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের দল প্রাইম ব্যাংক ও শান্তর দল আবাহনীর। এই ম্যাচ শেষে তামিম-শান্তকে আলোচনা করতে দেখা যায়।

সেখানে তামিমের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ‘আমি তো চাইব, তিনি যদি ফিট থাকেন, টি-টোয়েন্টি থেকে যদিও অবসর নিয়েছেন, যদি তিনি ফিট থাকেন, তাহলে তো যে কোনো সংস্করণে এলেই আমরা খুশি হব। আমার মনে হয়, শুধু আমি না, দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই খুশি হবে। এটা তো একটা ইচ্ছা, এটা চাওয়া। তবে সবার আগে উনার চাইতে হবে। তারপর বাকি প্রক্রিয়া হবে। তবে অধিনায়ক হিসেবে, আমার যেটা ইচ্ছা বা চাহিদা, সে বিষয়গুলো নিয়ে টুকটাক একটু আলাপ-আলোচনা করেছি।’

বিশ্বের বড় বড় দলগুলো বিশ্বকাপের আগে দলের প্রয়োজনে অবসরে থাকা তাদের সেরা খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে দলে যুক্ত করা হয়। তাই শান্তর কাছে আলাদা করে প্রশ্ন হয়, অবসর ভেঙে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না। তবে এ ব্যাপারে স্পষ্ট করেই শান্ত জানিয়ে দেন এমন চিন্তা তারা আপাতত করছেন না।

শান্ত বলেন, ‘না, এই মুহূর্তে এই ধরনের (তামিম-মুশফিকের টি-টোয়েন্টি অবসর ভাঙানো) চিন্তা-ভাবনা করছি না। বিশ্বকাপের খুব বেশি দিন সময় নেই। দলটা মোটামুটি খুব ভালো সেটলও আছে। আর বেশ কয়েক দিন ধরে তামিম ভাই ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলছেন তার ফিটনেসেরও একটা ইস্যু আছে। সেসব নিয়েও আমাদের কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে এসব কিছু ভাবছি না। তবে অবশ্যই দলের প্রয়োজনে যে কোনো মুহূর্তে যে কাউকে ডাকার জন্য প্রস্তুত।

বিজনেস আওয়ার/১৭ এপ্রিল/ এস কে

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা করার দরকার নেই: শান্ত

পোস্ট হয়েছে : ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক: গেল বছর ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে হতাশার পারফরম্যান্সের পর থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করে বাংলাদেশ। সেই পরিকল্পনায় নানা সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেট বোর্ড। নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয় নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার নেতৃত্বই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে অংশ নেবেন টাইগাররা।

প্রতি বারের মতো এবারও যে দলের ওপর সবার প্রত্যাশা থাকবে উঁচুতে, সেটি অধিনায়ক ভালো ভাবেই জানেন। তবে এসব নিয়ে ভেবে চাপে পড়তে চান না তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে দলের কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা রাখতেও নিষেধ করেছেন তিনি। যা হবে তা মাঠেই দেখা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার এক্স সিরামিকসের চিফ ব্র্যান্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্ত সেখানেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব বলেন তিনি। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের প্রত্যাশা নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘প্রতি বছরই আমি দেখি বিশ্বকাপের আগে এগুলো নিয়ে অনেক কথা হয়। আশা-প্রত্যাশা, এটা করব সেটা করব। অনেক কথাবার্তা হয়। আমার একটা অনুরোধ থাকবে, এই প্রত্যাশাটা খুব বেশি করার দরকার নেই, আশাটা মনের মধ্যেই থাকুক সবার। আপনিও জানেন বাংলাদেশ দল কী চায়, আমরা খেলোয়াড়রাও দলটাকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে জেতে চাই। সবাই চায় যে আমরা অনেক বড় কিছু করি। কিন্তু এটা নিয়ে যখন খুব বেশি মাতামাতি হয় তখন জিনিসটা আমার ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লাগে না। কারণ দরকার নেই, ফল যখন হবে, তখন এমনিই বোঝা যাবে।’

তবে নিজেদের দিক থেকে ভালো করতে কোনো অংশে ছাড় দেবে না জানিয়ে শান্ত আরো বলেন, ‘আমি একটা জিনিস বলব যে, যেই দলটা খেলবে এরা নিজের নিজের সেরা দেবে। প্রত্যেকটা ম্যাচে জেতার জন্য। এই নিশ্চয়তাটা আমি দিতে পারি। এবং প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্যই খেলবে। তবে আগে থেকেই অনেক আশা করছি, এবার অনেক বেশি প্রত্যাশা করছি… একটাই অনুরোধ করব, আমরা যেন এসব নিয়ে বেশি মাতামাতি না করি।’

আগামী মাসে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবেন টাইগাররা। শোনা যাচ্ছে এই সিরিজ দিয়েই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডের নকশা সাজাবেন নির্বাচকরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে—সব শেষ কয়েকটি সিরিজের স্কোয়াড থেকে খুব বেশি একটা পরিবর্তন আনা হবে না এই সিরিজে। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের শেষ ছয়টা-সাতটা সিরিজ দেখেন এই দলটা বেশির ভাগ সিরিজ (টি-টোয়েন্টি) জিতেছে। তো এই দলটা ভালো অবস্থানে আছে। এই সিরিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই খেলোয়াড়রা যদি ভালো কিছু নিয়ে সিরিজ শেষ করে যেতে পারে ঐ আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি আমরা যেতে পারি তাহলে এটা দলের জন্য ভালো হবে।’

এ সময় জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রত্যাশিত উইকেট নিয়ে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা যেই সিরিজটা খেলেছি সেই ধরনের উইকেটই আমরা পাবো বলে আশা করছি। তারপরও চেষ্টা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) আমরা যে উইকেটে খেলব তেমনি উইকেট প্রস্তুত করা যায় কি না। যদিও আমার মনে হয় না ঐ ধরনের উইকেট করা সহজ হবে।’

এর আগে ঈদের ছুটি শেষে গেল পরশু দিন থেকে মাঠে গড়িয়েছে চলমান ডিপিএলে। সেখানে প্রথম দিনই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিলো দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের দল প্রাইম ব্যাংক ও শান্তর দল আবাহনীর। এই ম্যাচ শেষে তামিম-শান্তকে আলোচনা করতে দেখা যায়।

সেখানে তামিমের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ‘আমি তো চাইব, তিনি যদি ফিট থাকেন, টি-টোয়েন্টি থেকে যদিও অবসর নিয়েছেন, যদি তিনি ফিট থাকেন, তাহলে তো যে কোনো সংস্করণে এলেই আমরা খুশি হব। আমার মনে হয়, শুধু আমি না, দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই খুশি হবে। এটা তো একটা ইচ্ছা, এটা চাওয়া। তবে সবার আগে উনার চাইতে হবে। তারপর বাকি প্রক্রিয়া হবে। তবে অধিনায়ক হিসেবে, আমার যেটা ইচ্ছা বা চাহিদা, সে বিষয়গুলো নিয়ে টুকটাক একটু আলাপ-আলোচনা করেছি।’

বিশ্বের বড় বড় দলগুলো বিশ্বকাপের আগে দলের প্রয়োজনে অবসরে থাকা তাদের সেরা খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে দলে যুক্ত করা হয়। তাই শান্তর কাছে আলাদা করে প্রশ্ন হয়, অবসর ভেঙে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না। তবে এ ব্যাপারে স্পষ্ট করেই শান্ত জানিয়ে দেন এমন চিন্তা তারা আপাতত করছেন না।

শান্ত বলেন, ‘না, এই মুহূর্তে এই ধরনের (তামিম-মুশফিকের টি-টোয়েন্টি অবসর ভাঙানো) চিন্তা-ভাবনা করছি না। বিশ্বকাপের খুব বেশি দিন সময় নেই। দলটা মোটামুটি খুব ভালো সেটলও আছে। আর বেশ কয়েক দিন ধরে তামিম ভাই ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলছেন তার ফিটনেসেরও একটা ইস্যু আছে। সেসব নিয়েও আমাদের কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে এসব কিছু ভাবছি না। তবে অবশ্যই দলের প্রয়োজনে যে কোনো মুহূর্তে যে কাউকে ডাকার জন্য প্রস্তুত।

বিজনেস আওয়ার/১৭ এপ্রিল/ এস কে

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: