ঢাকা , সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা!

  • পোস্ট হয়েছে : ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
  • 49

বিনোদন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় রিমাল রবিবার (২৬ মে) রাতে আঘাত হানতে শুরু করে ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে। গতকাল (২৭ মে) বিপর্যস্ত সেখানকার দক্ষিণবঙ্গের জনজীবন। কলকাতায় সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়।

ঝড়ো বাতাসে গাছ পড়ে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহণও চলাচল স্থগিত করা হয়। এর মধ্যেই রিমালের সঙ্গে সারা দিন লড়াই করেছে টালিউড তারকারা। কোথাও শুটিং বন্ধ থেকেছে। আবার কোথাও ঝুঁকি নিয়েই দিনভর কাজ হয়েছে।

নির্মাতা অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী সম্প্রতি কলকাতা শহরে ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এ সিনেমায় জয়া ‌আহসান, পদ্মাপ্রিয়া জানকীরমণ, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, চন্দন রায় সান্যালেরা অভিনয় করনে। নির্মাতা কোনোভাবেই শুটিং বন্ধ রাখার পক্ষপাতী নন। তিনি জানান, রোববারেও রাত ৮টায় ইউনিট প্যাকআপ করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’কে অনিরুদ্ধ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সিনেমার একটা নিজস্ব ছন্দ আছে। আমি একা সিনেমা তৈরি করি না। এতজন মানুষ একসঙ্গে কাজ করছেন। আমরা একটা মেজাজে চলে এসেছি। এখান থেকে এখন বের হওয়া মুশকিল। তার কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে’।

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা! ‘অষ্টমী’ ধারাবাহিকের শুটিং সেটে ঋতব্রতা দে কনের সাজে। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে নির্মাতা পাভেল তার নতুন সিনেমা ‘পরাণ যাহা চায়’র শুটিং সোমবার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘সোমবার আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করার কথা ছিল। কিন্তু রোববার বিকালে পরিস্থিতি দেখে আমরা শুটিং পিছিয়ে দিয়েছি।’

এ সিনেমায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর মতো একাধিক সিনিয়র অভিনেতা কাজ করছেন। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে তাদের কথা ভেবেই শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে তাদের শরীর খারাপ হোক, সেটা আমি চাই না’।

জানা গেছে, প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ ও সুরিন্দর ফিল্মস সোমবার কলাকুশলীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই শুটিং বন্ধ রেখেছিল। আবার, সোমবার দেবকে নিয়ে ‘টেক্কা’র এক দিনের শুটিং শেষ করার কথা ছিল নির্মাতা সৃজিত মুখার্জীর। আবহাওয়া দেখে তিনি শুটিং করেননি।

সোমবার টলিগঞ্জের একাধিক ধারাবাহিকের শুটিং যেমন বন্ধ রাখা হয়েছিল, তেমনই আবার কিছু ধারাবাহিকের এপিসোড ব্যঙ্কিংয়ের কথা মাথায় রেখে শুটিং করা হয়েছে। তবে সব ফ্লোরেই অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কিছুটা দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে।

অনেকেই দ্রুত শুটিং শেষ করতে চেয়েছেন। আবার কোনো কোনো ফ্লোরে বৃষ্টির দিনেই দুপুরে খিচুড়িসহ আড্ডায় মেতেছেন কলাকুশলীরা। তবে আড্ডার মূল বিষয় ছিল রিমাল সংক্রান্ত আলোচনা। সবাই এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন।

জানা গেছে, জি-বাংলার ‘জগদ্ধাত্রী’,‘যোগমায়া’,‘অষ্টমী’ ও ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ ধারাবাহিকগুলোর শুটিং চলেছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার জন্য ইউনিটকে বেশ বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। ‘অষ্টমী’ ধারাবাহিকের নামভূমিকায় অভিনয় করেন ঋতব্রতা দে। মুকুন্দপুরের সত্য স্টুডিওর শুটিংয়ের ফাঁকে বলেন, ‘সকাল থেকে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শহর থেকে একটু দূরে বলে ঝড়ের দাপটটা এখানে আরও বেশি বুঝতে পারছিলাম।’

সোমবার গল্প অনুযায়ী অষ্টমী ও আয়ুশমানের বিয়ে। তাই ফ্লোরে কেউই হালকা মেজাজে থাকতে পারেননি। ঋতব্রতার কথায়, ‘ক্লাইম্যাক্স সিন। তাই সকাল থেকেই কাজের দিকেই মন দিয়েছিলাম।’

ঠাকুরপুকুরে বলাকা স্টুডিওতে চলছে এ চ্যানেলেরই ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকের শুটিং। চরিত্রাভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিকের কলটাইম ছিল বিকালের দিকে। স্টুডিওর পথে যেতে যেতে বলেন, ‘এখনো ফ্লোরে পৌঁছতেই পারিনি। তাই জানি না কী পরিস্থিতি। তবে রাস্তায় পানি জমেছে, গাছ পড়েছে। দেখা যাক, কী হয়।’ কর্পোরেট সংস্থার মতো বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ নেই বলে অঙ্কিতা যে মুষড়ে পড়েছেন, তা কিন্তু নয়। বলেন, ‘দর্শকের কথা ভাবতেই হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। তবে শুনছি, আজ আগে প্যাক আপ হতে পারে।’

সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘উড়ান’। তাই এপিসোড ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য শুটিং বন্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মুভিটোন স্টুডিওর ‘রোশনাই’র সেটে সময় মতো পৌঁছেছিলেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্থাৎ গল্পের আরণ্যক। তিনি জানান, যানবাহনের সমস্যার জন্য ইউনিটের অনেকেই দেরিতে ফ্লোরে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শনের ভাষ্য, ‘রাত থেকে বৃষ্টি চলছে। আমাদের ইনডোর শুটিং হচ্ছে বলে খুব একটা সমস্যা হয়নি।’ এরই সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আলাদা বার্তা দিলেন অভিনেতা। শন বললেন, ‘শটের ফাঁকে মোবাইলে শহরের পরিস্থিতি দেখছি। আমার মনে হয়, যে কোনোরকম দুর্ঘটনা এড়াতে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষের আজকের দিনটা বাড়িতেই থাকা উচিত।’

শহর থেকে দূরে দাসানি ২ স্টুডিওতে চলছে এ চ্যানেলের ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকের শুটিং। পর্দার গীতা ওরফে হিয়া মুখোপাধ্যায় জানালেন, সোমবার বেশ কষ্ট করেই তাকে ফ্লোরে পৌঁছতে হয়েছে। কারণ রাস্তায় অনেকটাই পানি জমেছিল। বললেন, ‘ক্যাব চালক বলছিলেন স্টুডিওর আগের মোড়ে নেমে যেতে। অনেক বুঝিয়ে তারপর তিনি আমাকে স্টুডিওর দরজায় নামালেন।’ তবে ফ্লোরে কেউই ছুটির মেজাজে ছিলেন না বলে জানালেন তিনি।

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা! জয়া আহসানের সঙ্গে পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার শুটিং সেটে। ছবি: সংগৃহীত

হিয়ার ভাষ্য, ‘ইউনিটের অনেকেই দূর থেকে আসেন। এত কষ্ট করে তারা পৌঁছেছেন! তাই আরও মন দিয়ে আমরা শুটিং করার চেষ্টা করেছি।’

সান বাংলার ‘কনস্টেবল মঞ্জু’,‘দ্বিতীয় বসন্ত’,‘বাদল শেষের পাখি’ধারাবাহিকগুলোর শুটিং হয়েছে সোমবার। ‘কনস্টেবল মঞ্জু’র অর্জুন অর্থাৎ অভিনেতা শুভ্রজিৎ সাহা সকাল সকাল ফ্লোরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দৃশ্যধারণ স্টুডিওতে শুরু হয়েছে অনেকটা দেরি করে। শুভ্রজিৎ বেহালায় থাকেন। বললেন, ‘সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েই দেখি, রাস্তায় গাছ পড়ে আছে। শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কুর্নিশ জানাই। খুব তৎপরতার সঙ্গে তারা কাজ করেছেন।’ শুটিং শুরু হয়েছে দেরিতে।

কারণ শুভ্রজিৎ জানালেন, বৃষ্টির আওয়াজে সাউন্ড রেকর্ড করতে সমস্যা হচ্ছিল। বললেন, ‘যাবতীয় প্রতিকূলতা সামলেই আমরা সকলে শুটিং করেছি। অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কথা মাথায় রেখেই সোমবার কালার্স বাংলা তাদের কোনো ধারাবাহিকের শুটিং করেনি। মোট কথা এ ঘূর্ণিঝড় টালিপাড়াতে বেশ ধাক্কা দিয়ে গেছে।

বিজনেস আওয়ার/২৮ মে/ রানা

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা!

পোস্ট হয়েছে : ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

বিনোদন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় রিমাল রবিবার (২৬ মে) রাতে আঘাত হানতে শুরু করে ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে। গতকাল (২৭ মে) বিপর্যস্ত সেখানকার দক্ষিণবঙ্গের জনজীবন। কলকাতায় সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়।

ঝড়ো বাতাসে গাছ পড়ে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহণও চলাচল স্থগিত করা হয়। এর মধ্যেই রিমালের সঙ্গে সারা দিন লড়াই করেছে টালিউড তারকারা। কোথাও শুটিং বন্ধ থেকেছে। আবার কোথাও ঝুঁকি নিয়েই দিনভর কাজ হয়েছে।

নির্মাতা অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী সম্প্রতি কলকাতা শহরে ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এ সিনেমায় জয়া ‌আহসান, পদ্মাপ্রিয়া জানকীরমণ, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, চন্দন রায় সান্যালেরা অভিনয় করনে। নির্মাতা কোনোভাবেই শুটিং বন্ধ রাখার পক্ষপাতী নন। তিনি জানান, রোববারেও রাত ৮টায় ইউনিট প্যাকআপ করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’কে অনিরুদ্ধ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সিনেমার একটা নিজস্ব ছন্দ আছে। আমি একা সিনেমা তৈরি করি না। এতজন মানুষ একসঙ্গে কাজ করছেন। আমরা একটা মেজাজে চলে এসেছি। এখান থেকে এখন বের হওয়া মুশকিল। তার কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে’।

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা! ‘অষ্টমী’ ধারাবাহিকের শুটিং সেটে ঋতব্রতা দে কনের সাজে। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে নির্মাতা পাভেল তার নতুন সিনেমা ‘পরাণ যাহা চায়’র শুটিং সোমবার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘সোমবার আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করার কথা ছিল। কিন্তু রোববার বিকালে পরিস্থিতি দেখে আমরা শুটিং পিছিয়ে দিয়েছি।’

এ সিনেমায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর মতো একাধিক সিনিয়র অভিনেতা কাজ করছেন। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে তাদের কথা ভেবেই শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে তাদের শরীর খারাপ হোক, সেটা আমি চাই না’।

জানা গেছে, প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ ও সুরিন্দর ফিল্মস সোমবার কলাকুশলীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই শুটিং বন্ধ রেখেছিল। আবার, সোমবার দেবকে নিয়ে ‘টেক্কা’র এক দিনের শুটিং শেষ করার কথা ছিল নির্মাতা সৃজিত মুখার্জীর। আবহাওয়া দেখে তিনি শুটিং করেননি।

সোমবার টলিগঞ্জের একাধিক ধারাবাহিকের শুটিং যেমন বন্ধ রাখা হয়েছিল, তেমনই আবার কিছু ধারাবাহিকের এপিসোড ব্যঙ্কিংয়ের কথা মাথায় রেখে শুটিং করা হয়েছে। তবে সব ফ্লোরেই অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কিছুটা দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে।

অনেকেই দ্রুত শুটিং শেষ করতে চেয়েছেন। আবার কোনো কোনো ফ্লোরে বৃষ্টির দিনেই দুপুরে খিচুড়িসহ আড্ডায় মেতেছেন কলাকুশলীরা। তবে আড্ডার মূল বিষয় ছিল রিমাল সংক্রান্ত আলোচনা। সবাই এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন।

জানা গেছে, জি-বাংলার ‘জগদ্ধাত্রী’,‘যোগমায়া’,‘অষ্টমী’ ও ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ ধারাবাহিকগুলোর শুটিং চলেছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার জন্য ইউনিটকে বেশ বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। ‘অষ্টমী’ ধারাবাহিকের নামভূমিকায় অভিনয় করেন ঋতব্রতা দে। মুকুন্দপুরের সত্য স্টুডিওর শুটিংয়ের ফাঁকে বলেন, ‘সকাল থেকে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শহর থেকে একটু দূরে বলে ঝড়ের দাপটটা এখানে আরও বেশি বুঝতে পারছিলাম।’

সোমবার গল্প অনুযায়ী অষ্টমী ও আয়ুশমানের বিয়ে। তাই ফ্লোরে কেউই হালকা মেজাজে থাকতে পারেননি। ঋতব্রতার কথায়, ‘ক্লাইম্যাক্স সিন। তাই সকাল থেকেই কাজের দিকেই মন দিয়েছিলাম।’

ঠাকুরপুকুরে বলাকা স্টুডিওতে চলছে এ চ্যানেলেরই ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকের শুটিং। চরিত্রাভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিকের কলটাইম ছিল বিকালের দিকে। স্টুডিওর পথে যেতে যেতে বলেন, ‘এখনো ফ্লোরে পৌঁছতেই পারিনি। তাই জানি না কী পরিস্থিতি। তবে রাস্তায় পানি জমেছে, গাছ পড়েছে। দেখা যাক, কী হয়।’ কর্পোরেট সংস্থার মতো বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ নেই বলে অঙ্কিতা যে মুষড়ে পড়েছেন, তা কিন্তু নয়। বলেন, ‘দর্শকের কথা ভাবতেই হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। তবে শুনছি, আজ আগে প্যাক আপ হতে পারে।’

সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘উড়ান’। তাই এপিসোড ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য শুটিং বন্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মুভিটোন স্টুডিওর ‘রোশনাই’র সেটে সময় মতো পৌঁছেছিলেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্থাৎ গল্পের আরণ্যক। তিনি জানান, যানবাহনের সমস্যার জন্য ইউনিটের অনেকেই দেরিতে ফ্লোরে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে শনের ভাষ্য, ‘রাত থেকে বৃষ্টি চলছে। আমাদের ইনডোর শুটিং হচ্ছে বলে খুব একটা সমস্যা হয়নি।’ এরই সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আলাদা বার্তা দিলেন অভিনেতা। শন বললেন, ‘শটের ফাঁকে মোবাইলে শহরের পরিস্থিতি দেখছি। আমার মনে হয়, যে কোনোরকম দুর্ঘটনা এড়াতে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষের আজকের দিনটা বাড়িতেই থাকা উচিত।’

শহর থেকে দূরে দাসানি ২ স্টুডিওতে চলছে এ চ্যানেলের ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকের শুটিং। পর্দার গীতা ওরফে হিয়া মুখোপাধ্যায় জানালেন, সোমবার বেশ কষ্ট করেই তাকে ফ্লোরে পৌঁছতে হয়েছে। কারণ রাস্তায় অনেকটাই পানি জমেছিল। বললেন, ‘ক্যাব চালক বলছিলেন স্টুডিওর আগের মোড়ে নেমে যেতে। অনেক বুঝিয়ে তারপর তিনি আমাকে স্টুডিওর দরজায় নামালেন।’ তবে ফ্লোরে কেউই ছুটির মেজাজে ছিলেন না বলে জানালেন তিনি।

টালিউডে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা! জয়া আহসানের সঙ্গে পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার শুটিং সেটে। ছবি: সংগৃহীত

হিয়ার ভাষ্য, ‘ইউনিটের অনেকেই দূর থেকে আসেন। এত কষ্ট করে তারা পৌঁছেছেন! তাই আরও মন দিয়ে আমরা শুটিং করার চেষ্টা করেছি।’

সান বাংলার ‘কনস্টেবল মঞ্জু’,‘দ্বিতীয় বসন্ত’,‘বাদল শেষের পাখি’ধারাবাহিকগুলোর শুটিং হয়েছে সোমবার। ‘কনস্টেবল মঞ্জু’র অর্জুন অর্থাৎ অভিনেতা শুভ্রজিৎ সাহা সকাল সকাল ফ্লোরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দৃশ্যধারণ স্টুডিওতে শুরু হয়েছে অনেকটা দেরি করে। শুভ্রজিৎ বেহালায় থাকেন। বললেন, ‘সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েই দেখি, রাস্তায় গাছ পড়ে আছে। শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কুর্নিশ জানাই। খুব তৎপরতার সঙ্গে তারা কাজ করেছেন।’ শুটিং শুরু হয়েছে দেরিতে।

কারণ শুভ্রজিৎ জানালেন, বৃষ্টির আওয়াজে সাউন্ড রেকর্ড করতে সমস্যা হচ্ছিল। বললেন, ‘যাবতীয় প্রতিকূলতা সামলেই আমরা সকলে শুটিং করেছি। অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কথা মাথায় রেখেই সোমবার কালার্স বাংলা তাদের কোনো ধারাবাহিকের শুটিং করেনি। মোট কথা এ ঘূর্ণিঝড় টালিপাড়াতে বেশ ধাক্কা দিয়ে গেছে।

বিজনেস আওয়ার/২৮ মে/ রানা

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: