ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ শেয়ারবাজারে গতি নিয়ে কি বলছেন বিশ্লেষকরা?

  • পোস্ট হয়েছে : ১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • 71

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: অর্থনীতির বিভিন্ন নেতিবাচক খবরের মধ্যেই হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী দেশের শেয়ারবাজার। গত ১২ জুন থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ দিনই শেয়ারদর ও মূল্য সূচক বেড়েছে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত ৯৪ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা পৌনে ১০ শতাংশ। অর্থনীতির খারাপ সময়েও শেয়ারবাজারের এমন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় খুশি বিনিয়োগকারীরা। তবে আগের চার মাসের দর পতনে যে ক্ষতি হয়েছিল, তার কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারছেন তারা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১২ জুনের পর প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৭২টিরই বাজারদর বেড়েছে। কমপক্ষে ২০ শতাংশ দর বেড়েছে ৮৬টির। দরবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ ধরলে এ সংখ্যা ২৫৫টি। বাকি ২৪ শেয়ারের মধ্যে মাত্র আটটির দর কমেছে।

দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ৫১ শতাংশ দর বেড়ে শীর্ষে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স। ৪১ থেকে ৪৯ শতাংশ দর বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, আফতাব অটোমোবাইলস, পেপার প্রসেসিং এবং ওয়ালটনের। বিপরীতে সর্বাধিক ১১ শতাংশ দর কমেছে শ্যামপুর সুগার মিলসের। ৫ থেকে ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, তুংহাই নিটিং এবং বিআইএফসি।

গুটিকয় শেয়ারের বাইরে অধিকাংশ শেয়ারের দরে এমন সময়ে সুবাতাস বইছে, যখন সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা নানা শঙ্কার কথা বলছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আইএমএফ থেকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ নিচ্ছে। সংস্থাটির শর্ত মানতে গিয়ে ব্যাংক সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। খরচ কমাতে রপ্তানিতেও প্রণোদনা কমিয়েছে সরকার। গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎসহ অত্যাবশ্যক ইউটিলিটির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা হারাচ্ছে, অনেকগুলো লোকসানে।

এর মধ্যে আবার রপ্তানি আয়ে ভুল হিসাবের খবরে বড় ধাক্কা খেয়েছেন অনেকে। এই সংশোধনের ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্ট আগের ধনাত্মক অবস্থা থেকে ঋণাত্মক অবস্থায়। আগামীতে কী অবস্থা দাঁড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে সবার মধ্যে। এর মধ্যেই শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় অনেকেই অবাক।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো কিছু নেই। উল্টো প্রথমবারের মতো মূলধনি মুনাফায় কর আরোপে অখুশি বিনিয়োগকারীরা। আবার তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহার ব্যবধান আরও কমানো হয়েছে। এটাও অস্বস্তির কারণ। খোদ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারপরও হঠাৎ করে শেয়ারদর বাড়ছে। এটা ‘মন্দের ভালো’ অবস্থা বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, এটাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের চরিত্র। অদ্ভুত ঠেকলেও এটাই সত্যি যে, অর্থনীতির ভালো অবস্থায় যখন শেয়ারবাজার ভালো থাকার কথা, তখন মন্দায় থাকে। আর যখন অর্থনীতি মন্দায়, তখন ভালো অবস্থা দেখা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ শেয়ারবাজার ভালো থাকলেও আগের পতনের তুলনায় এ দরবৃদ্ধি কিছুই না।

বিজনেস আওয়ার/ ১০ জুলাই / এ এইচ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

হঠাৎ শেয়ারবাজারে গতি নিয়ে কি বলছেন বিশ্লেষকরা?

পোস্ট হয়েছে : ১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: অর্থনীতির বিভিন্ন নেতিবাচক খবরের মধ্যেই হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী দেশের শেয়ারবাজার। গত ১২ জুন থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ দিনই শেয়ারদর ও মূল্য সূচক বেড়েছে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত ৯৪ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা পৌনে ১০ শতাংশ। অর্থনীতির খারাপ সময়েও শেয়ারবাজারের এমন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় খুশি বিনিয়োগকারীরা। তবে আগের চার মাসের দর পতনে যে ক্ষতি হয়েছিল, তার কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারছেন তারা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১২ জুনের পর প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৭২টিরই বাজারদর বেড়েছে। কমপক্ষে ২০ শতাংশ দর বেড়েছে ৮৬টির। দরবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ ধরলে এ সংখ্যা ২৫৫টি। বাকি ২৪ শেয়ারের মধ্যে মাত্র আটটির দর কমেছে।

দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ৫১ শতাংশ দর বেড়ে শীর্ষে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স। ৪১ থেকে ৪৯ শতাংশ দর বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, আফতাব অটোমোবাইলস, পেপার প্রসেসিং এবং ওয়ালটনের। বিপরীতে সর্বাধিক ১১ শতাংশ দর কমেছে শ্যামপুর সুগার মিলসের। ৫ থেকে ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, তুংহাই নিটিং এবং বিআইএফসি।

গুটিকয় শেয়ারের বাইরে অধিকাংশ শেয়ারের দরে এমন সময়ে সুবাতাস বইছে, যখন সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা নানা শঙ্কার কথা বলছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আইএমএফ থেকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ নিচ্ছে। সংস্থাটির শর্ত মানতে গিয়ে ব্যাংক সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। খরচ কমাতে রপ্তানিতেও প্রণোদনা কমিয়েছে সরকার। গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎসহ অত্যাবশ্যক ইউটিলিটির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা হারাচ্ছে, অনেকগুলো লোকসানে।

এর মধ্যে আবার রপ্তানি আয়ে ভুল হিসাবের খবরে বড় ধাক্কা খেয়েছেন অনেকে। এই সংশোধনের ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্ট আগের ধনাত্মক অবস্থা থেকে ঋণাত্মক অবস্থায়। আগামীতে কী অবস্থা দাঁড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে সবার মধ্যে। এর মধ্যেই শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় অনেকেই অবাক।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো কিছু নেই। উল্টো প্রথমবারের মতো মূলধনি মুনাফায় কর আরোপে অখুশি বিনিয়োগকারীরা। আবার তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহার ব্যবধান আরও কমানো হয়েছে। এটাও অস্বস্তির কারণ। খোদ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারপরও হঠাৎ করে শেয়ারদর বাড়ছে। এটা ‘মন্দের ভালো’ অবস্থা বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, এটাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের চরিত্র। অদ্ভুত ঠেকলেও এটাই সত্যি যে, অর্থনীতির ভালো অবস্থায় যখন শেয়ারবাজার ভালো থাকার কথা, তখন মন্দায় থাকে। আর যখন অর্থনীতি মন্দায়, তখন ভালো অবস্থা দেখা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ শেয়ারবাজার ভালো থাকলেও আগের পতনের তুলনায় এ দরবৃদ্ধি কিছুই না।

বিজনেস আওয়ার/ ১০ জুলাই / এ এইচ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: